Sunday, 4 January 2026

শেষের শেষ




আমি হেরে যাই…

বারবার হেরে যাই

আমার ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে।

শীতের শুকনো পাতার মতো ঝরে পড়ে 

মিশে যাই মাটির সাথে, 

ভালো লাগে নত হতে

ভালোবাসার কাছে মাথা নোওয়ানোর তো দোষ নেই

নতুন করে গড়ে নেওয়াতেও দোষ নেই কিছু

এই হারে নেই কোনো যুদ্ধ, শুধু আছে ভালোবাসার প্রকাশ। 

নদীর জলের মতো প্রবাহ যার; 

হেরে যাওয়ায় জয় ভালোবাসার। 


আমি হেঁটে যাই…

হেঁটে যাই সেই পথ ধরে,

যেখানে চলে না মানুষ, তবুও থেকে যায় কিছু পায়ের ছাপ। 

কংক্রিটের বাইরেও যেখানে পায়ের চাপেই 

জন্ম নেয় এক নতুন অস্তিত্ব,

সেই পথে হেঁটে যেতেই ভালো লাগে আমার, 

ও পথ নেয় না সবাই

তাই ঘাসের মাঝে মাঝেও কিছু ছাপ থেকে যায়;

বেঠিকানায় চলাই মজা যার,

বাঁধবে তাকে সাধ্যি কার। 


আমি শুনে যাই,

শুনে যাই অনর্গল

সেই টেপ রেকর্ডারের গান, যে গান আর কেউ শোনে না এখন। 

নতুনের ভিড়ে চাপা পড়া রেকর্ডের মাঝেও 

সেই ফেলে আসা দিনের টান, 

কেউ শোনে না জানি, তবু আমায় জোগায় রসদ

অনেকটা ভালোবাসার মতো,

হাতবদলি আঙুলের ছাপের মাঝে কখন ফুরায় কথা, 

নিয়ম মেনে তো সব গানই হয় শেষ

কিছু কিছু তখনো বয়ে চলে সেই রেশ। 


সব শুরুরই তো শেষ হয় কখনো সখনো

তবুও সব শেষের কী শেষ হয় আর… 

Wednesday, 12 February 2025

নশ্বর



আমি জানি নশ্বর আমি;
একটা একটা দিন ফুরায় আর আমি গুনি;
এই বুঝি বাজল সাইরেন;
শরীরের কারখানায় যখন ধীরে ধীরে কর্মবিরতি আসতে থাকে
হঠাৎ করেই একদিন তালা ঝুলে যায়;
শ্রমিকদের গলার আওয়াজ নেই, নেই যন্ত্রের ডাক;
শুধুই নীরব সাইরেন, কেউ টের পায় না; 
শুষে নেয় দেওয়াল গুলো।
এই নীরবতার সময়টাকে বড় ভয় করে আমার,
হঠাৎ করে অপ্রাসঙ্গিক হতে কেই বা চায়। 

শুনেছিলাম ভালোবেসে নাকি মানুষ অমর হয়, 
রোমিও, জুলিয়েট, লায়লা মজনু, হির রাণঝা, আরো অনেকে;
কিন্তু এত ভালোবাসা কি সম্ভব বলো? 
একটা জীবনে কতটা ভালোবাসলে তবে অমর হওয়া যায়? 
কেউ কেউ বলেছিল ভালোবাসার মাপ নেই,
কেউ কেউ বলে ভালোবাসাতেই ভালোবাসা,
সেভাবেও তো ভেবেছি, তল পাইনি আর; 
ভালোবেসে কী অমর হওয়া আদৌ যায়? 

আমিও প্রেম করেছি, ভালোবেসেছি বারবার,
শেষ নাম দেবো ভেবেই বার বার ভালোবেসেছি;
ভালোবাসা আমায় ফিরিয়েছে, ডুবিয়েছে, ভাসিয়েছে বার বার;
তবুও পারিনি অমর করেনি; 
এক চোখ থেকে অন্য চোখের অন্ধগলিতে হারিয়ে 
আমি পথ ভুলেছি, 
নিরন্তর এক টানাপোড়েনের মাঝে আমি হেরেছি শুধু।
কতটা ভালোবাসলে তবে অবিনশ্বর হওয়া যায়? 

এর থেকে যদি কবি হতাম
তোমায় নিয়ে কবিতা লিখতাম কিছু;
ভালো হোক বা মন্দ, ওই ফাঁকা কারখানায় সব শোরগোল থেমে গেলে
ধুলো পড়া কাগজ গুলোয় তবু থেকে যেত ইতিহাস সাথে নিয়ে; 
যদি কবি হতে পারতাম, তোমায় নিয়ে কবিতা লিখে যেতাম৷ 

তোমায় আমার করে পেলে হয়ত নশ্বর হয়েও পূর্ণতা পেতাম।

Friday, 13 December 2024

সব কেন-র উত্তর...



তোমাকে চেনার ইচ্ছা আমার বহুদিনের,
সুযোগ সময় কিছুই হয় না আর; 
কাছে চাওয়া আর পাওয়ার মাঝেও
অনেক অনেক ফারাক,
এক এক আলোকবর্ষ যেন; 
তোমায় কুয়াশার মতোই জটিল ভাবতাম;
ধোঁয়া ধোঁয়া, কাছে গেলেই নেই আর;
তবুও ওই কুহকের পিছনেই ছুটে গেছি মারিচের টানে,
হেরেছি আর হেরেছি বার বার;
প্রশ্ন করেছি নিজেকে কেন আবার?
কিন্তু সব কেন-র তো উত্তর নেই আর..

Friday, 22 March 2024

কবিতা

কবিতা,
তোমার জন্য ঘর ভাঙে জানো,
আমার কাছে এক রকম, অন্যের আছে অন্য;
কি করে বোঝাই বলো
তোমার শব্দে পলাশ কেমন গোলাপ হয়ে ফোটে
দুঃখও কেমন সুখ হয়ে ফাটে;
কিছুটা বোঝা যায়, পড়া যায়
কিন্তু অনেকটা আড়ালে থাকে,
আমি না হয় বুঝি, কিন্তু আমার মতো কেউ কি আর বোঝে?

Tuesday, 19 March 2024

অপেক্ষা



এভাবেই দিন যায়,

জানলার কাঁচ থেকে শুধু মেঘটুকুই ধরা বাকি;

কিছুটা বৃষ্টি, কিছুটা মেঘলা আর অনেকটা একলা। 

একলা কেন? নতুন তো না,

আজকাল মনে হয় সৃষ্টির আদিম সময় থেকেই 

একা থাকার দস্তুর আমার।

এখন আফসোস নেই, ভালো লাগে বরং। 


আমার জানলা দিয়ে অনেক খানি মাঠ দেখা যায়,

তার আগে পিছে ধূসর রাস্তা,

গাড়ি যায় পরপর; আমার দেখা হয় না আর; 

দেখা, শোনা, ভাবা- ব্যাপারগুলোই আর সমান্তরাল নেই। 


মেঘ করে কালো হয়ে এসেছে বেশ,

বৃষ্টির একটা আলাদা গন্ধ আছে জানো;

হাওয়াটা আজ সেটা নিয়েই ঘুরছে, হবে বুঝি এখনি। 

ঝুপঝুপে ভেজা জানলাটা বেয়ে যখন জল নামবে নীচে

আমি দেখব হয়ত; জানিনা ঠিক-

দেখলেও হয়ত সেরকম আর আগের মতো দেখব না;

না দেখার আফসোস নেই, ভালোই লাগে বটে।


সময় কেটে যায় মেঘের মতোই,

রোদ আসে, ঝড় আসে, বৃষ্টি ও, আবার ফিরে রোদ; 

তুমিও পালটে গেছ অনেক, অনেক খানিই হবে

একটা একটা বছরের হিসাব তো আর থাকে না;

যদি দেখা হয় কখনো

এক কাপ চা নিয়ে বসব হয়ত, মিলিয়ে নেব হিসাব নিকাশ;

তুমি দিয়েছিলে বেশি নাকি আমার কাছেই ধার…


বাকিটা না হয় অপেক্ষার… 


Monday, 30 October 2023

শেষ হিসাব



জানলা জুড়ে কেমন যেন বিষন্নতা,
আমি আর একটা বিশাল তুমি রয়েছ সেখানে;
পাশাপাশি বসেছি, হাত ধরেছি
ভেজা চুলের থেকে জল গড়াচ্ছে তখনো
জট পড়েছে বেশ; আমার আঙুল চলছে না আর। 
যেন মোহনায় এসে পাথরে পাথরে বিঁধছে
গতিময়তা।
থামতেও তো জানতে হয় বলো। 

Sunday, 22 January 2023

বর্ষাতি মন



একটা বর্ষাতি চাই জানো,
না না একটা না; গোটা দুই
বর্ষা আসার সময় তোমায় নিয়ে পাহাড়ে যাবো;
পাহাড়ে নাকি বর্ষা অন্য ধাঁচের-
মেঘের সাথে মেঘ এসে নাকি
ভালোবাসা জমায় টাইগার হিলে,
স্যাঁতস্যাঁতে বাষ্পগুলো শরীরটাকে সিক্ত করে;
বেশ শিহরণ নাকি বলে সকলে,
আসছে শীতে পাহাড় যাবে আমার সাথে?

প্রেমিক



এই ছেলেটার দিকে দেখো,
ও পারবে না প্রেমিক হতে, ভালোবাসতে কাউকে;
একটা বুনো জেদ কেমন যেন চোখ বুজেছে ওর,
এত জেদ নিয়ে ভালোবাসা যায়?
ভালোবাসাতে গেলে অনেক মানিয়ে নিতে হয়;
ঋতু বুঝতে হয়।
কোনো ঋতু ভাসায়, কোনোটা আবার শুকিয়ে মারে;
কোনোটা আবার আদ্রতায় ভেজায়;
ওত সত বোঝে না ও, শুধু চোখ পড়ে আর মন বোঝে;
এই ভাবে কি প্রেমিক হওয়া যায়?

Sunday, 18 September 2022

ঊষশী




ঊষার আকাশ, নিশীথ সূর্য 
বা মধ্যগগণের রুপোলি চাঁদের মতো দেখা দাও তুমি; 
অপার এক ঐশ্বর্যবেশ আসো তুমি বার বার; 
কুহকের মতো আমি ডুবে যাই তাতে,
একটা মাস্তুল ভাঙা জাহাজ খাবি খাচ্ছে
আমি সাঁতরে ফিরতে চাই পাড়ে বার বার
কিন্তু উপায় নেই; 
নির্লিপ্ত এক মায়াবী নেশা আমায় বার বার বিবশ করে,
আমি ভাসছি এক অনিশ্চয়তার মাঝে। 

এক লহমায় যখন পাড়ে এসে পড়ি
বুঝতে পারি এখনো অনেকটা একা আমি;
উত্তপ্ত মরুভূমি যেমন লালন করে চলে একটা মরীচিকা 
সেভাবেই তপ্ত হৃদয় থেকে পাকানো ধোঁয়ার জালে 
তুমি জড়িয়ে আসো বার বার; 
ছুঁতে চাই তোমায়, তুমি নেশার মতো 
কিন্তু তুমি তো আমার নও;
তুমি কেমন এক মায়াবী ইন্দ্রজাল
শুধু কাছে টেনে নাও ওই মায়াবী দন্ডের নেশায়। 

একটা হঠাৎ আঁতকে ওঠা হটকারিতায় 
আমার চোখ খুলে যায়, নেশার পর্দা সরিয়ে যে ঐশ্বর্য রূপ আমার স্বপ্নে রঙ ভরেছে
সেই রূপ নিয়ে কাছে আছো তুমি; 
অঝোর বৃষ্টি, অন্ধকারময় ঝোড়ো হাওয়া আর এক জমতে থাকা শীতের ভোর
এতটা সুন্দর যে হতে পারে ভাবিনি আগে;
তুমি আছো সেই মায়া নিয়ে, যার যাদু আমার স্বপ্নে ঘিরেছে আগে পিছে। 

ভাঙছে এই নিশ্চুপ ধরনীর নির্মোক
তোমার চকিত স্পর্শ যেন অতন্দ্র স্বপ্নলোক…





Wednesday, 24 August 2022

প্রেমের এপিটাফ




প্রিয়,
তোমার আমার দেখা হওয়ার তো দরকার ছিল না কিছু,
এতগুলো বছর, এতগুলো ক্ষন তো আমি একাই কাটিয়েছিলাম
তোমার উপস্থিতি ছাড়া;
ভাবনা আসত, কিন্তু উবে যেত কর্পূরের মতো,
আমার মনটা শান্ত করে দিতে নির্লিপ্ত এক সুবাসে; 
শান্তি পেতাম, আর মানিয়ে নিতাম এই বেশ ভালো আছির দেশে। 

Wednesday, 13 July 2022

সত্য




ঘুড়ি
একটা নীল ঘুড়ি
কেমন যেন পথ ভুলে উড়ছে,
পিছুটান কেটেছে অনেক আগেই;
নিঃসীমে চেয়ে আছে কিছু জিজ্ঞাসা 
একক শূণ্যতা আর কিছু প্রশ্রয়,
ভয় হয়
চাঁদ ভাঙার রাতেই না বালির শহরে তোমার পায়ের ছাপ মুছে যায়। 

Sunday, 10 July 2022

( ১ )



একটা চিরকুট লিখবো জানো,  তোমাকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে  ভাসিয়ে দেব হাওয়ায় হাওয়ায়; তোমার কাছে যাবে কী যাবে না জানি না তবে পাঠাতে আমায় হবেই,  একটা করে দিন যাবে আর উড়ে বেড়াবে চিরকুটটা এ পান থেকে ও পানে;  মুখ থুবড়ে পড়বে না বোধহয় আমার ভালোবাসার ওজন এত নয়। 

Tuesday, 21 June 2022

হিসেব নিকেশ




অনেক কটা হিসেব নেওয়া বাকি রয়ে গেল;
একটা ক্লিপ, একটা ফুল ফুল গার্ডার,
একটা ছবি, গোটা চারেক রুমাল, 
আর কোন মুড়ে যাওয়া তিন চারটে চিঠি; 
দেখা করে হিসেব মেটাবো ভেবেছিলাম 
কিন্তু ইস্কাবনের পান থেকে চুন খসেছে ততক্ষণ;
লাস্ট ট্রেন সাইরেন মেরে স্টেশন ছেড়েছে
লাস্ট বাস ও ক্যানসেল হয়ে গেছে,
প্যাঁচ কাটা ঘুড়ির মতো ঘুরতে ঘুরতে যখন মুখ গুঁজে পড়েছি
তখন রাত হয়েছে অনেক, ঝপ করেই প্রায়;
যে কটা হিসেব নেওয়ার ছিল আর মেলেনি আমার। 

Saturday, 13 June 2020

গুলাবো-সিতাবো



#নো_স্পয়লার

ডিরেক্টরঃ- সুজিত সরকার
মুখ্য চরিত্রঃ- অমিতাভ বচ্চন, আয়ুষ্মান খুরানা
সময়ঃ- ২ ঘন্টা 


ট্রেন থেকে নেমেই প্রথমে তুন্ডে কাবাবিতে গিয়ে মোটা মোটা দুটো পরোটা আর সাথে এক প্লেট গালাওটি কাবাব না খেলে আমার মন ভরে না। লক্ষ্ণৌ এসে গালাওটি কাবাব খাবো না এটা আবার সম্ভব নাকি! এক নিমেষে এসব খাওয়ার পরে একটা কাঁচের কাপে করে কড়া দুধ চা আর সাথে ময়দার বিস্কুট, এখান থেকেই শুরু। শেষ হবে ছাপান্ন ভোগের রকমারি মিষ্টি দিয়ে। লক্ষনৌ আর খাওয়া দাওয়া কোনভাবেই যেন আলাদা করা যায় না। সাথে মানুষের আতিথেওতা। গুটখা চেবানো লাল লাল দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে গালিব, ফৈয়জদের অবাধ যাতায়াত। এমনিতেই উর্দু মিষ্টি ভাষা সাথে আবার সেই খান্দানি আতিথেয়তা এলে এক কাঠি বেড়ে যায় কিনা। হালে টোটোর দৌরাত্ম্য কিছুটা বাড়লেও চৌওকে দাঁড়িয়ে থাকা টাঙ্গা গুলো জানিয়ে যায় নবাবিটা একটু ফিকে হয়ে গেলেও হারিয়ে যায়নি একেবারেই। 

Tuesday, 28 April 2020

ভাঙণের সুর



বিনি,তুমি শুনেছ ওই ভাঙণের আওয়াজ?
নদীর ঢেউ গুলো যখন এসে আছড়ে পড়ে দুপাড়ে,
খুব একটা আওয়াজ হয় না,কিন্তু ভাঙতে থাকে;
ওরা দিনে ভাঙে, রাতে ভাঙে,
কেউ হিসাব রাখে না; আমিও রাখিনি;
শুধু একবার বলেছিলাম, 'ওপাড়ার জগাইখুড়ো
এবারে আর রক্ষে পেলে না, পাড় যে বড় ভাঙছে!'
তখন বুঝিনি, কিন্তু এখন শুনতে পাই;
ও ভাঙণের আওয়াজ আমার কানে বড় বাজে।
বিনি, তুমি কি সত্যিই কিছু শোননি?

Thursday, 2 April 2020

হারানো বিকেল আর ঈশিতা





            ছোটবেলায় মা কে বলতাম বড় হয়ে ক্রিকেটার হব। গড়পড়তা বাকি ছেলেদের মতো শচীনের স্ট্রেট ড্রাইভ বা সৌরভের স্টেপ আউট করে ছয় দেখে মুগ্ধ হয়ে না, বাইরে বাইরে খেলতে যায় এই কথা ভেবেই। সেই কোন ছোট থেকে বাইরে যাওয়ার সখ, কিন্তু দিনের শেষে অফিস থেকে ফেরার সময় উপলব্ধি হত যে এই স্বপ্ন বুঝি আর সত্যি হল না। মধ্যবিত্ত বাড়িতে বড় হওয়ার সময়েই বুঝে গেছিলাম ক্রিকেট আমার জন্যে শুধু টিভিতেই শোভা পায়, তাই সেই দিকে পা বাড়াই নি আর, কিন্তু বিদেশের লোভটা আর ছাড়তে পারিনি। হ্যাঁ, আমি এটাকে লোভ বলেই মানি, কারণ বিদেশে সব ভালো এই ধারণা আমাদের বদ্ধমূল আর সেটা থেকেই বেটার জিনিসের প্রতি ভালোবাসা বা লোভ জন্মানো। চাকরিতে ঢুকে বছর এক দুই থাকার পরেই বুঝে গেছি বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ার বিশেষ সুযোগ নেই। সেই দেখে আমি নিজে থেকেই শুরু করলাম। আমি সবসময় আগে অফিস এসে, আগে বেরিয়ে যাই অফিস থেকে, যাতে মৃতপ্রায় অবস্থায় বাড়ি আসার পরেও নিজের জন্যে কিছুটা সময় থাকে। কিন্তু নতুন এই কাজের জন্যে সেই সময়টুকু নিজের জন্যেই রেখে দেওয়া যায় না, সেখান থেকে আর অন্যকে কি দেব। ঈশিতা ব্যাপারটা আন্দাজ করেছিল। নিয়মবিরূদ্ধ ভাবেই সেদিন আমায় দুপুরে ফোন করেছে, তখন আমার লাঞ্চটাইম।


Wednesday, 1 April 2020

অমর একাদশ






২৯শে জুলাই, ২০১৮। মাসের বাকি গড়পড়তা বাকি রবিবার গুলোর মতোই আর একটা রবিবার। সকাল থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস করতে করতে বাজার যাওয়া, তারপর টুক করে রোদের দেখা পাওয়ার সাথে সাথেই বিগত এক সপ্তাহ ধরে শুকতে চাওয়ার বাসনা নিয়ে ঝুলতে থাকা জামা কাপড় গুলোকে ছাদে মেলতে যাওয়া। মিনিট কয়েক পরেই আবার সেগুলো তুলতে যাওয়া; তারপর ভাত মাংস খেয়ে দুপুরের ঘুম, আর একটু হেলাফেলা করে জমানো বিকালটুকু খরচা করে পরের দিন সকালে উঠে অফিসের বাস ধরার জন্যে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে দিতেই জাগার কোটা শেষ। হঠাত মনে হতে পারে হঠাত আজকের দিনটাকে নিয়েই পড়েছি কেন; কারন দিনটা ২৯শে জুলাই।


গড়িয়াহাট আর ঈশিতা





                গড়িয়াহাটের মোড় মাথাটার এখন খুব শোচনীয় অবস্থা। বাইরের তাপমাত্রা এখন নয় নয় করে ৩০ তো আছেই, তার সাথে আছে ছিচ কাঁদুনে মার্কা বৃষ্টি। মানে সময় নেই অসময় নেই ঝাঁপি খুলে বসলেই হলো। বেশিক্ষন না, ওই মিনিট দশেক হুড় হুড় করে বৃষ্টি হবে, গরমটা আরো বাড়িয়ে দেবে আর সাথে কাদা প্যাচ প্যাচ। মানে এক কথায় প্রকাশ করতে দিলে বিরক্তিকর বললে ফুল মার্ক্স। একে গরম তার সাথে দুপুরের মধ্যে ওই গড়িয়াহাট মোড়ের মাথায় এসে জুটলে আর রক্ষে নেই। যদি কোনও কারনে মনে হয় আপনি মধ্যে প্রাচ্যে বেড়াতে এসেছেন তাহলে একদমই ভুল বলা যাবে না আপনাকে। বাইরের থেকে এই অঞ্চলটা, মানে ওই ধরুন বিজন সেতুর মুখ থেকে এদিকে বাসন্তি দেবী কলেজ, কি আরো একটু টেনেই দিলাম, ট্রাই-অ্যাঙ্গুলার পার্ক অবধি তাপমাত্রা বাইরের থেকে অন্ততপক্ষে ৩-৪ ডিগ্রী বেশি। যেমন ভিড় তেমন গরম। মানে বাস থেকে যদি  ট্রাই-অ্যাঙ্গুলার পার্কে নেমে পড়েন তাহলে বেশি কসরত করতে হবে না। মানুষজন আপনাকে ঠেলে ঠেলেই পৌঁছে দেবে গড়িয়াহাটার মোড়ে। রঙবেরঙের প্লাস্টিকের আড়ালে রকমারী, মনোহারি জিনিসের পসরা সাজিয়ে নানা সুরে ডাকছে গড়িয়াহাট। ফুটপাথ থেকে দোকান সবেতেই কেমন যেন অভিনবত্বের ছাপ। দু দন্ড যে একটু উপভোগ করবে লোকজন তারও উপায় নেই। কনুইয়ের গুঁতোয় তখন আপনি সরে গেছেন পাশের দোকানের কাছে।মানে এক কথায় যা তা।


Friday, 27 March 2020

কোয়ারেন্টাইন




- কি রে কেমন আছিস? বাইরে টাইরে যাচ্ছিস নাকি? 
- বাবাহ, কি ব্যাপার। হঠাৎ আমার খোঁজ!!
- না মানে ওই আর কি। ঘরে বসে... 
- তা বলুন কেমন আছেন? বাইরে বেরোচ্ছেন? 
- বাইরে! বলিস কি রে? মামা ঘুরছে, হাত গরম করবে বলে রেডি। 
- হা হা হা। সে বটে। একদম বাইরে বেরোবেন না। 
- হ্যাঁ৷ কিন্তু এভাবে ঘরে থেকে তো হাত পায়ে ড্যাম্প ধরে যাবে!
- যাক, সরষের তেল তো পাওয়া যায়,  বাকি বুঝে নেব। 
- বুঝে নিবি মানে? 
- স্যার, ইউক্লিড বোঝেন, পিথাগোরাস বোঝেন আর এটুকু বোঝেন না! 
- এই ওগুলো তো বোঝা যায়, কথার জাল যে বড় জটিল। ইতিহাস সাক্ষী আছে। বল না...
- ঘরে সরষের তেল আছে? 
- হ্যাঁ সে তো আছে। 
- আসি তাহলে? 
- এই না একদম বেরোস না। পুলিশ...
- লম্ব সই, অতিভূজ সই আর এটুকু সইতে পারবো না... 



Monday, 9 December 2019

রঙবদল





পরের দিন শনিবার, তার আগে একটু মদ না খেলে হয় নাকি!

অফিস ফেরত পাড়ার গলি থেকে ঠিক পাঁচটা গলির পরে প্রথম যে চার মাথার মোড়টা আসে, সেখান থেকেই ডানদিকে মিনিট খানেক গেলে একটা বিলিতি মদের দোকান আছে। বেশি বড় না, চেনা জানার মধ্যেই; এক ঝটকায় টুক করে গ্রিল গলিয়ে ৫০০ টাকার নোটটা ফেলেই কোনমতে ব্যাগে মাল চালান করা অবধি একটু টেনশনের, তারপরে একদম স্মুথ। মেনুতে চিরাচরিত সেই ওল্ড মংক, বাদাম আর কোল্ড ড্রিঙ্কস। প্রানে এতো ভয়, তবু মদ খাওয়া চাই। অন্তত শেষ ২ বছর ধরেই ফি হপ্তা এরকমই চলছে অজয়ের। বাড়িতে বউ বহুবার বলেছে, কিন্তু সে শোনার পাত্র না। মাতলামি করে না বিশেষ কিন্তু কি আর দরকার বাইরে যাওয়ার, তাই বাড়িতেই আসর সাজিয়ে…

শেষের শেষ

আমি হেরে যাই… বারবার হেরে যাই আমার ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে। শীতের শুকনো পাতার মতো ঝরে পড়ে  মিশে যাই মাটির সাথে,  ভালো লাগে নত হতে ভালোবাসা...