Showing posts with label যন্ত্রণা. Show all posts
Showing posts with label যন্ত্রণা. Show all posts

Wednesday, 13 July 2022

সত্য




ঘুড়ি
একটা নীল ঘুড়ি
কেমন যেন পথ ভুলে উড়ছে,
পিছুটান কেটেছে অনেক আগেই;
নিঃসীমে চেয়ে আছে কিছু জিজ্ঞাসা 
একক শূণ্যতা আর কিছু প্রশ্রয়,
ভয় হয়
চাঁদ ভাঙার রাতেই না বালির শহরে তোমার পায়ের ছাপ মুছে যায়। 

Sunday, 15 July 2018

স্বপ্নের উড়ান




এখন আমার এসি ছাড়া ঘুম হয় না। অফিসে সারাদিন এসিতে থাকার পর অপেক্ষায় থাকি কখন বাড়ি ফিরে এসিটা একটু চালাব। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথটাও এসি বাসেই কেটে যায়, বিরক্তির জায়গা শুধু ওই বাসস্টপ থেকে বাড়ির দোরগোড়া অবধি পথটা। কলকাতার প্যাচ প্যাচে গরম নিয়ে হাজার অভিযোগ জমা হয় ওই পাঁচ-দশ মিনিটের হাঁটা পথটায়। এক নিশ্বাসে উগরে দি বাড়ি ঢুকেই। স্বভাবের দোষে এখন আর নন এসি বাসে যাতায়াত করতেও পারি না। সেদিন বাড়ি ফিরে নিত্যদিনের অভ্যেস মতোই ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পরে, স্নান সেরে যখন এসিতে ঢুকলাম, মনে হল যেন দুনিয়ার সকল সুখ ওখানেই আছে। জলদি খেয়ে দেয়ে নিয়ে বিছানায় শুধু গড়িয়েছি মিনিট দশ পনেরো হলো, অমনি টুক করে কারেন্ট অফ। মনে হল যেন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। উগরে দেওয়া ক্ষোভ যেন নতুন করে জন্ম নিল আবার, মুখ দিয়ে স্বতোতসারিত ভাবে বেরিয়ে এলো, “ধুর শালা, এখনই যেতে হল…!! এবার আমি ঘুমাবো কি করে?” মানুষ এভাবেই অভ্যাসের দাস হয়ে যায়। সেদিন আর ঘুম হয়নি, রাত তিনটে অবধি জেগে থেকে কারেন্ট আসার অপেক্ষা করেছি। কিন্তু কারেন্ট না আসায় আর ঘুম হয়নি। কিন্তু ওই ছেলেটা এভাবেই ঘুমিয়েছে দিনের পর দিন, কেউ জানতেও চায় নি তার কষ্টের কথা। খাওয়া দাওয়া নিয়ে আমার নাক উঁচু তেমন ছিল না কিন্তু দুধ খাওয়া নিয়ে উদয়াস্ত এক চোট পর্ব চলত। আমিও খাব না, আর বাড়ির লোকেও ছাড়বে না। অর্ধেক দিন লুকিয়ে লুকিয়ে জানলা দিয়ে কত যে দুধ ফেলেছি তার হিসাব দিলে কয়েক হাজার টাকা হয়ে যাবে।বাবা মা বার বার জানতে চেয়েছে আমি দুধ খেয়েছি কিনা কিন্তু কেউ কখনো জানতে ছায়নি 'ওই' ছেলেটা কি খেয়েছে।

Sunday, 7 January 2018

শীতল প্রেম



তোমার জন্যে এখনও যেটুকু আছে-
সেটুকু পেয়েছি, ঢেকেছি নিজের কাছে।
কেননা প্রেমের আইনে নিষেধ জারি
বুকের মধ্যে তোমাকে রাখতে পারি?

Tuesday, 9 May 2017

ম্যারিটাল রেপ



প্রথমবার শরীর স্পর্শ করার সময় একরাশ জড়তা তোমায় অবশ করেছিল প্রায় ইতস্তত করেছিলে হাত বাড়াতে ওই নেশার খিদে মেটাতে সেবার তুমি পারোনি আমায় ভোলাতে, আক্ষেপ ছিল বেশ অনেকখানি আদিম সত্যের হাতছানিতে পরের বার অবশ্য খামতি রাখোনি জড়তা কাটিয়ে ক্ষুধার্ত হায়নায় মতো, ঝাঁপিয়ে পড়েছো ওই ইঞ্চি মেপে চর্বি জমানো নাভির আশেপাশে, খানিকটা হাঘরের মতোই বলা চলে। খুব কানে লাগলো, তাই না? হ্যাঁ, হা-ঘরেই নেশার মতো বার বার কাছে আসতে চাইতে তুমি অমৃতস্বাদের খোঁজে কাছে আসা যাওয়ার মিথ্যে অভ্যাসে ভুলে আমি প্রেমে পড়েছি তোমার বোকার মতো

প্রথম প্রথম আঙ্গুলের ফাঁকে জমে থাকা ঘাম চেটে খাওয়া পোশাকি ভালোবাসায় আমি ভুলেছি, একবার না বারবার, নির্বোধের মতো অপরিণত ভালোলাগা গুলো বুঝতে দেয়নি একদিন ওই হাতের ঘাম মুছতে রুমালও ভিজে যাবে, কিন্তু অন্য কোনও হাত আর এগিয়ে আসবে না ক্রমেই হারিয়ে গেছি আমি ভালোবাসা থেকে এখন আর হাত ধরে বসে রোজকারের ওই প্যানপ্যানানি কথা শুনতে ইচ্ছা হয়না বারে বারে নোংরা ছুকছুকানি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে লোভীর মতো ওঁত পেতে বসে থাকো ওই অনুভুতির জন্যে এখন আর অনুভুতি আসেনা, অভ্যাস হয়ে গেছে কেমন তোমারও আজ কাল আর খিদে মেটে না তৃষ্ণা মেটাতে এখন পুরোটা লাগে মনের সব তৃষ্ণা এখন শরীরে চলে এসেছে

নেশার ঘোরটা বেশিদিন টেকেনি; ভালোলাগা চাওয়া পাওয়া এগুলো আসতে আসতে অভ্যাসে পরিনত হলো। আমি হারিয়ে গেলাম ফোনের টপ কনট্যাক্টস থেকে ইনবক্সের ভেতরে, কষ্ট করে হাতড়াতে হয় শরীর ছুঁতে এই আকুলিটা বিরক্তিকে ডেকে আনতো, কিছুটা অধিকারের জন্ম দিয়েছিলো কুঁচকির আসে পাসে কাজ শেষ, আবার যে কে সেই পাশে বসে থাকা মানুষটার থেকে স্কাইপির মুখগুলো বেশি কাছের মনে হতো কিন্তু বাঁধা একজায়গায়, আমি তোমায় বেসেছি ভালো এই ভালবাসা থেকেই নির্লজ্জের মতো একরাশ উচ্ছ্বাস নিয়ে কথা গুলো দিনের পর দিন ভাঙ্গা টেপের মতো কানের কাছে বলে যেতাম আমি তুমি শুনতে, কিন্তু উত্তর দিতে না অভিব্যক্তিই জানিয়ে দিতো বাকিটা যে ভালোলাগা কে প্রশ্রয় দিয়ে শুরু করেছিলে কাছে আসা, যে আঘাতে করেছিলে ঘায়েল, সেই আঘাত দিয়েই আবার আমায় একলা করলে আঘাত দিয়েই মনের জোড়া,  আঘাতেই ভাঙ্গন; কোনটাতেই আওয়াজ হয়নি, শুধু একটু রক্ত ঝরেছিলো

তখন তুমি বদলে ফেলেছো ফোনের নাম্বারটা এক ছাদের তলায় বহুদিন দেখা হয় নি আর;  ফেসবুকেও ব্রাত্য আমি, পাছে তুমি নাগালে আসো অফিস যাওয়ার রাস্তাটাও গুগুল ম্যাপে খুঁজে পাওয়া যায় না, পাছে আমি পথ আটকাই তোমার কিন্তু আমি ছুটবো কার জন্যে? সেই যে এক অভ্যাস ছেড়ে, অন্য অভ্যাসের খোঁজে? তোমার আমার জীবনের ওই চ্যাপ্টারের পাতা গুলো তো তুমি নিজে হাতে আঠা লাগিয়ে বন্দী করে রেখে গেছো; পাছে কেউ না খুলে দেখে কিন্তু যে অন্ধকার ছেড়ে গেছো, তার দায় কে নেবে?

ধন্যবাদ তবে পাওনা আছে তোমার ওভাবে একলা ফেলে না গেলে আমি জানতামই না যে অন্ধকারে কেউ আমার জন্যে চাঁদ হয়ে বসে আছে আমি তার অভ্যাস নই, আমি তার উপস্থিতি, আমি তার পূর্নতা টিসু পেপারগুলো এখন ডাম্প হয়ে পড়ে আছে, কেজিদরে বেচে দেওয়ার জোগাড় ভালোলাগা গুলো এখন আমার কাছে নতুন করে হাজিরা দিয়ে যায় তোমার কথা আজকাল মনেই পড়ে না নেশার মতো লক লক করে নাভির আসে পাশে যে চর্বি গুলো চেটে বেড়াতে সেগুলোকেও বিদায় দিয়েছি আমি নিয়ম করে জিমে যাই, ঠিক যতটা নিয়ম করে রোজ সকালে স্নানের পর সিঁথিটা  রাঙ্গিয়ে তুলতাম

আমি জানি না তুমি কেমন আছো? নির্ঘাত এদিক অদিক ছুকছুক করে বেড়াচ্ছো নতুন খাবারের নেশায় লেনা দেনার পর যখন আবার নিজের ঘরে ফেরো, ওই বিছিয়ে থাকা জামা কাপড় গুলোকে একটু সরিয়ে নিয়ে ক্লান্ত শরীরটাকে এলিয়ে দাও বিছানায়; আমি জানি তখন তুমি আমায় খোঁজো হুইপ জারি করার মানুষটাই যে আর নেই তবে আমার খোঁজ তুমি রাখো, নাহলে সেদিন রাতে ভুল করে কেউ ফেসবুকে ছবি লাইক করে নাকি…!! আরো অনেক ছবিই দেখেছো, তবে একটায় ভুল করে লাইক পড়ে গেছে; সেটা আমি বুঝি আমি অন্য কারো সাথে ভালো আছি এটা দেখে বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠবে, যদিও খুশি হওয়ার কথা ছিলো সেই আঠা লাগিয়ে আসা পৃষ্ঠাগুলো এখন কেবল ইতিহাস, টানাটানি করলে ছিঁড়ে আসবে হাতে, পাতা উলটোবে না

কে যেনো বলেছিলো, “ মানুষ পেয়ে হারানো বা না পাওয়ার আঘাত সইতে পারে, কিন্তু তার অন্যের হয়ে যাওয়াটা কখনই মেনে নিতে পারে না, কোনও ভাবেই না

না মানুষ বদলায়, না অভ্যেস;  বদলায় শুধু ভালোলাগা আর অভিব্যক্তির ভাষাটুকু পরিনতি তো নিমিত্ত মাত্র



                        ************************************************

Thursday, 23 February 2017

ঐশী...

ঐশী,তুমি কি জেগে আছো?
দেখো আজ জমানো কৃষ্ণচূড়াগুলো আসর জমিয়েছে
তোমার ওই নিথর পিঙ্গল আঙুলের ডগায়;
সামলাতে পারবে আমাদের এই ছিন্নমূল ভালোবাসাকে?
ঐশী, আমি আজ বছরশেষের ক্লান্ত অপেক্ষায়...

ঐশী, তুমি কি শুনছো কথাগুলো?
দেখো আজ আকাশভরা চাঁদের হাসিখানা ধরা দিয়েছে
তোমার ওই ফ্যাকাসে চোখের টানে;
হারিয়ে যাবে না তো এই রূপের শিহরনে?
ঐশী, আমি আজ হারাবার ভয়ের কাছে অসহায়...

ঐশী, এখনো কি ভালোবাসো আমায়?
দেখো আজ পুরনো ভালোলাগাগুলো আমায় আটকেছে
তোমার ওই মাঝবয়সি ছুতোগুলোর কাছে;
পাবো তো তোমায় খুঁজে ভালোবাসার গোলকধাঁধায় ঘুরে?
ঐশী, আমি আজ ঝড়ের কাছে শান্তির প্রতিক্ষায়...

ঐশী, আর বুঝি মনে পড়ে না আমায়?
দেখো আজ টেলিফোনটাও বোবার মতো  হার মেনেছে
তোমার ওই জমানো অভিমানের কাছে;
ফেলে আসা কথাগুলো আদৌ কি শোনাতে পারবো তোমায়?
ঐশী, আমি ক্লান্ত বড়ই, এই প্রত্যাশার উপেক্ষায়...

ঐশী, ভালোবাসাটা কি সত্যি বেঁচে আছে?
দেখো আজ অভ্যাসগুলো বারবার আমার পাঁজর চেপে ধরেছে
তোমার কাছে বাকি থাকা হিসাবের খাতায়;
আমাদের সেই উবে যাওয়া রঙ নিয়ে আজ পলাশ ফুটেছে বেশ
ঐশী, তুমি ভালো থেকো,

আমি আজ ক্লান্ত বড়, আক্ষেপের জীর্নতায়... 

Wednesday, 18 January 2017

চিলেকোঠা

তুমি যখন অবহেলায়
শরীর খুঁজে শরীর মেলাও;
তখন তুমি আমায় খোঁজো ওই চিলেকোঠার ঘরে;
শ্যাওলা ভরা ছাদ পেরোনো,
টলটলে ওই সিঁড়ি পেরোনো চিলেকোঠার ঘরে;
গুমোট হওয়া বন্ধ ঘরে,
সাজিয়ে রাখা স্বপ্নের ভারে
নিঃশ্বাস নিতে চাওয়া ওই চিলেকোঠার ঘরে;
অন্ধকারে, বন্ধ ঘরে, একলা করে
তুমি আমায় খোঁজো নিজের মতো করে।

তখন আমি উদাস হয়ে
খানিকটা ঠিক বাধ্য হয়ে,মাথা নুয়ে;
ছুটি তোমার পিছে পিছে, সেই চিলেকোঠার ঘরে;
নিয়তি আমি জেনেই গেছি,
পরিস্থিতি ও জানা,
তবুও কিছু পাওয়ার নেশা আজও দেয় হানা;
সকল কিছু ভুলে আমি সবার চোখ পালিয়ে
আমি হাঁপাতে থাকি ওই দেয়াল খানা ধরে;
চিলেকোঠার ওই বন্ধ ঘরে, একলা করে অন্ধকারে
খুঁজছো তুমি আমায় আজ ও নিজের মতো করে।

যখন তুমি শরীর মেলাও,
ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাও
কেমন করে বোকার আমি সত্যি মেনে চলি;
আলগা করে খোঁপার বাঁধন, লুটিয়ে শাড়ির আঁচল
মেলে ধরি আবার নিজেকে সেই পুরনো নিয়ম মতো;
ভুলে যাই সেই মিথ্যে গুলো,
স্বপ্ন যা সব এলোমেলো;
নতুন আশায় আবার তোমার কাছে আসি;
নিঃশ্বাস আজ হিসাব কষে বন্ধ ঘরের গরাদ ধরে
খোঁজটা তুমি চালিয়েই যাও নিজের মতো করে।

কষ্ট যখন মাথায় চড়ে,
প্রতি আঘাতের বশে,
চিৎকার আজ গামছা চাপা,চোখের জলই ভাসে;
লোনা জল আজ ধুয়ে দিতে চায় ওই আকাশ ভরা স্বপ্ন;
আমি তখন স্বর্গ খুঁজি ওই আঘাত গুলোর কাছে,
তুমি যখন নেশার মতো শরীর নিয়ে খেলো
আমার কাছে তোমার খুশিই সবার থেকে ভালো,
ভুলে যাই আজ কষ্ট গুলো
উত্তেজনার বশে;
আকাশটা আজ জমা হয়েছে ওই চিলেকোঠার মাঝে;
আঁকড়ে রেখে চোখের জলে ভেজাই যোনির দোর
কষ্ট যাতে দমায় না আজ তোমার মোহের ঘোর।

ঘন্টা খানেক ঘাম ঝরানো,
কাজের ইতির পরেই
তুমি তখন সাহেব বাবু, সভ্য হয়ে ফিরে;
যাওয়ার আগে হাতটা যখন ধরতে আমি চাই
চিনিয়ে নিয়ে বিরক্তি আজ আমায় দিয়ে যাও,
“দিয়ে যাওয়া কথা গুলো তবে আবার মিথ্যে হবে?”
“বেশ্যা তোর কথা কিরে, টাকাই ভোলায় তোরে।“
মুখের উপর জমানো আজ হিসাবের টাকা
হৃদয়খানা তবুও চায় সেই ভুলতে চাওয়া আশা।
চোখের জলে মুখের মেকাপ গড়ায় গাল ভরে,
আবার আমায় যেতে হবে স্বপ্নকেনার তরে।
কুঁচিয়ে শাড়ি, নামিয়ে ব্লাউস
সিঁড়ির পেছল ফেলে
নেমে আসি আজ ফেলে আসা সত্যি কথার কাছে;
পাল্লা খোলা জানলা বেয়ে স্বপ্ন গুলো কাঁদে
চিলেকোঠা আবার হারিয়ে যায় সেই মিথ্যে আশার ফাঁদে।।   

শেষের শেষ

আমি হেরে যাই… বারবার হেরে যাই আমার ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে। শীতের শুকনো পাতার মতো ঝরে পড়ে  মিশে যাই মাটির সাথে,  ভালো লাগে নত হতে ভালোবাসা...