Showing posts with label কষ্ট. Show all posts
Showing posts with label কষ্ট. Show all posts

Wednesday, 13 July 2022

সত্য




ঘুড়ি
একটা নীল ঘুড়ি
কেমন যেন পথ ভুলে উড়ছে,
পিছুটান কেটেছে অনেক আগেই;
নিঃসীমে চেয়ে আছে কিছু জিজ্ঞাসা 
একক শূণ্যতা আর কিছু প্রশ্রয়,
ভয় হয়
চাঁদ ভাঙার রাতেই না বালির শহরে তোমার পায়ের ছাপ মুছে যায়। 

Wednesday, 24 January 2018

এখন কেমন আছো?



যে রাতে ছেড়ে এসেছিলাম পরস্পরের হাত
এক নিঃশ্বাসে দুজনেই ভেবেছিলাম বাঁচা গেছে,
গল্প লেখা থেমেছে সেদিন থেকে
অনুভূতিগুলো ইতিহাস হয়ে আছে।

Wednesday, 17 January 2018

অভীপ্সা




আমি প্রেমে পড়তে চাই
আমি, তোমার প্রেমে পড়তে চাই প্রতিদিন
লাল নীল সংসারের মায়াপদ্যগুলো
নুনের মত ঘিরে রেখেছে আমার ঘুমভাঙা চোখ
মন্দ স্বপ্নের ঘোরে সেই কবে থেকে ভয় পেয়েছি
তুমিই কি হবে সে যে স্বপ্নে ভুলিয়েছি?

Saturday, 9 December 2017

বৃষ্টির পদ্য




আকাশ পানে মুখটা করে বৃষ্টি বলে যেই না ডাকা
হুড়মুড়িয়ে পড়লে ঝরে, এদিক অদিক সবটা ভুলে;
ভাবলাম আমি রাখবো কোথায়, ভরবো নাকি ডেকচিখানা?
নাকি আবার ভাসিয়ে দেবো কাগুজে এই নৌকো ভরে।

আটকে দিলাম নিজের কাছেই, পকেটভরে বর্ষা আমার
নিজের যত দাবিগুলো বললাম আমি ফিসফিসিয়ে,
কবিতা আর সোঁদাগন্ধ এখন থেকে নেই যে তোমার
ওসবগুলো আমার হবে, দিলে দাও নয় নেবো ছিনিয়ে।

আরো চাইলাম অনেক কিছু, যেমনটা ঠিক সকলেই চায়
থাকবে তুমি আমার কাছে সারা জীবন ঠিক এভাবে;
বৃষ্টি তখন হেসেই পাগল, কথা শোনার নেই কোনো দায়
রাগেই আমি বলে বসলেম অসভ্যতা শেখো কিভাবে?

হাসি থামিয়ে বৃষ্টি তখন বলছে আমার কানের পাশে
কবিতা খানা তোমায় দিলাম, বাকিগুলো নয় আমারই থাক;  
তবে কি তুমি চলে যাবে? থাকবে না আর আমার কাছে?
বৃষ্টি বলে আসবো আবার যখন পাবো তোমারই ডাক।

একলা আমি আজও ডাকি ছাদ পেরিয়ে মাঝে মাঝে
আসেও অনেক সজ্জা নিয়ে, নানান মেঘে সাজিয়ে বাহার;
আসা যাওয়ার মাঝেও আজো দুঃখ সুখের কি ধুন বাজে,
কাছে এসেও পর আজও সে, কখনোই যে হয়নি আমার।। 




Wednesday, 15 November 2017

নীল ছবি

আসলে আমরা কেউই জানতাম না ঠিক
সরিয়ে দেওয়া আসলে কাকে বলে?
একটা যুদ্ধ চলছিলো অনেকক্ষন
আচমকাই কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে গেলে
একটা তুমুল ভালবাসা তৈরি হতে গিয়ে
দুটো মানুষ কমদামে চিরশত্রুতার গল্প লিখে ফেলে;
একটা বন্দক রাখা হাওয়া বুকে টেনে নিয়ে
লেগে থাকা মানুষ দুটো ক্রমশ বোঝাতে চাইলে
কিছু যায় আসেনা তাদের কেউ কিছু ভাবলে;
একটা গিটার শ্বাস হারাচ্ছে জেনে অধিকারহীনতায় ভোগা মেয়েটা লোক দেখিয়ে বলে 'তাতে আমার কি?'
ছেলেটা নতুন করে সিগারেটটা ধরায় স্রেফ ওকে শাস্তি দেবে বলে।

আমরা কেউ খেয়াল করিনা আর;
আফসোসহীনতার মতো লোক দেখানো বাতিক হয়েছে সবার;
অস্বীকার করাটা আদতে একটা সাহসী কাজ বটে
ইগোর মতন দারুণ মদ আর একটাও নেই ইহজগতে;
কমপ্রোমাইজ করলেই আসলে ইগোর মাথা নত
এ শহরে 'প্রেম' বিষয়টা হয়েছে এলিয়েনে পরিনত।

প্লেলিস্ট বন্দক রেখে ঘুম কেনার মানে-
এ শহরের সবাই বোঝে, জানায় না কানে কানে
নিজেকে আদর করতে করতে তার শরীরেই
ডুবে মরতে চেয়েছে প্রতিটা আত্মরতি,
এ শহরের সবাই জানে, লুকাতে চায় আনমনে;
নীল ছবি তে শুধুই নোংরামি ছিল না;

কোলকাতা সব জানে...
তাই যন্ত্রণার কবিতার পপুলারিটি এ পোড়া শহরে কক্ষণো কমে না।

Thursday, 9 November 2017

তখন বসন্ত...

শরীরে বসন্ত মাস।  বিশ্বাস নিভে গেছে, যায়…  
তবু নিশ্চুপে ভালোবেসে কেউ সরে যেতে চায়;
জ্বর এখনো আসে মাঝরাতের কোলাহল শেষে
মানুষ পাগল হয় ভীষন, বিদ্রোহে আর ভালবেসে।

শরীরে বসন্ত দিন। কিছু পাতা ঝরেছিলো বেশ...
তোমাকে ছুঁয়েছিলাম শেষবার, বেইমানির অনুভূতির রেশ;
এখনো ঘুম আসেনা রাতে, এলোমেলো কিছু হাওয়া
তুমি ‘আসি’ বলোনি কিন্তু, মানে শুধুই চলে যাওয়া।

শরীরে বসন্ত কাল। আবীর হাতে কলঙ্কিনী রাধা...
কানাই কে চাই তার, অপবাদে যতই না হোক বাঁধা;
এখনো বিশ্বাস নিয়ে বসন্ত বারে বারে আসে
বাতাসে ঘৃনার সাথে আলগোছে ভালোবাসা ভাসে।

শরীরে বসন্ত দিন। কিছু পাতা ঝরেছিলো বেশ...
তখন বুঝেছিলাম ছোঁওয়ার নেশায় উত্তাপ নিঃশেষ;
ঠোঁট ছোঁওয়ানো মানা আজ, স্পর্শকাতর বলেই
ফেরোনি তুমি আর, শেষমেশ চলে গেলেই।
   
শরীরে বসন্ত মাস। বিশ্বাস নিভে গেছে যায়...
তবুও অনুভুতিগুলো পিছু ডাকে প্রেমের নিষ্ক্রিয়তায়;
এখনো জ্বরের ঘোরে স্বপ্নরা লেগে থাকে, জানো?
অবহেলায় ভেঙেছে ঘর, যায়নি আটকানো। 

Wednesday, 1 November 2017

দামিনী

।। এক ।।


- এই মেয়েটা আমার সাথে যাবি? গলির কোনের ওই ছোট্ট ঘরে, ঝিকিমিকি আলো জ্বালাবি; দারুন মজা হবে। যাবি যাবি?

- আজ পারবনি গো, শরীরটা আজ দিচ্ছে না। সকাল থেকে অনেক বার হয়েছে।

- শালা, বেশ্যা নাকি আবার হিসাব কষে দিচ্ছে, ন্যাকা শালা।

- সত্যি বলছি পারব নি গো, আজ শরীরটা আজ বয় নে।

- মেলা ফ্যাচ ফ্যাচ করিসনে। অনেক টাকা গলিয়েছি তোর জন্যে। এতো বড়, ঢলঢলে গতর নিয়ে বসে আছে, আবার বলে দোকান খুলবো না। বেশ্যা মাগির আবার কথা শোনো।

- আজকের দিনটা ছাড়ো না গো, কাল সুদে আসলে উসুল করে দেবো।

- চল শালা, চল।

 পেশার কাছে হেরে যেতে হয়েছে সেদিন। হাত ধরে হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে চলে গিয়েছিলো ওই গলির মোড়ের বাড়িটার তেতলার চিলেকোঠায়। টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় একটা আর্তনাদ আসছিলো খানিক দূর অবধি, কিন্তু রাস্তা মোড় নিতেই সব আওয়াজ বন্ধ। তেতলার ঘরে তখন চলছে প্রতিদিনের কাজের একটা রিহার্শাল। আর কান্না নেই, কোনো অভিমান, অভি্যোগ নেই; সব টুকু তখন জমা পড়েছে চোখের জলের সাথে। একটা বেশ্যার চোখের জলের হিসাব কেই বা নেয়…!! কাজ মিটলেই তো সবাই হাত ধুয়ে সাধু, মুখ লুকিয়ে মিলিয়ে যায় গলির অন্ধকারে। কিন্তু ওই কিছুক্ষনের জন্যে রাজা উজির উকিল সবাই সমান, কেউ পেশায় তো কেউ নেশায়।

আর ওই মেয়েটা? কেউ জানতে চায় না তার খবর। দিনে দিনে কষ্ট গুলো জমা হয় আর বিক্রি হয় টাকার কাছে। পেটের টান এমনই জিনিষ। শত আপত্তি স্বত্বেও “দোকান” যে তাকে খুলতেই হবে। এমনিটাই যে সমাজের বলে দেওয়া।

                   “ বেশ্যার আবার দুঃখ কিসের? ওরা তো টাকায় ভোলে…”



।। দুই ।।

ভিড়ে থিকথিক করছে বাস। সোমবার দিনের অফিস টাইম মানে বাকিটা বুঝে নিতে কষ্ট হয় না।  বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে, বাসের গেট, বাসের ভিতর; সব যেন থিকথিক করছে। মেয়েটা অফিস যাবে। বেসরকারি অফিসে চাকরি, একেই তো দেয় ওই কটা টাকা, তার ওপর আবার না যেতে পারলে কর গুনে বাদ পড়বে। তাই যেতে তো হবেই, সে যে ভাবেই হোক না কেন। প্রায় ১০-১২ মিনিট দাঁড়ানোর পর একটা বাস এলো, বাদুড়ঝোলা হয়ে। গেটে ঝুলে যাওয়া ছাড়া, লেট মার্কের হাত থেকে রক্ষে নেই। তাই উঠতেই হবে বাসে।

বাসের গেটের বাইরের জায়গাটা বড় ভালোলাগার জায়গা। কিন্তু সমূহ বিপদ, এই বুঝি হাত ছেড়ে যায়; এই বুঝি ধাক্কা লেগে গেল।তার ওপর আবার মেয়েদের ঝোলা বারন; দুর্বলের প্রতিমুর্তি হিসাবে যা ধরা দিয়েছে অনন্তকাল ধরে। সব কষ্ট দরজার বাইরে রেখেই ভেতরে ঢুকে আসতে হল, সব ভাল মন্দের বিচার না করেই। থিক থিকে ভিড় আর হাজার হাজার নিঃশ্বাসের মাঝে যেনো কোথাও একটা হারিয়ে গেছে মান সম্মান। এ কোনুই মারছে, তো ও কথা শোনাচ্ছে। কেউ আবার নোংরা ভাবে লোভ দিচ্ছে কিছু পাওয়ার আশায়। সুযোগ বুঝে কেউ আবার কেতাবি হালে কোমরটা একটু ছুঁয়ে নিয়েছে।

হঠাতই গেটের কাছের থেকে আওয়াজ এলো,

-ও দিদি, এই দোকানটা একটু সরান না। একাই তো আড়াই জনের জায়গা নিয়েছেন, আর কতোক্ষন এভাবে দাঁড়াবো?   
- সত্যি মাইরি, এই অফিসটাইমে কেনো যে মেয়েদের তোলে বাসে কে জানে। একাই দাঁড়াবে, আর কেউ দাঁড়াবে না যেন।

টিপ্পনিতো রোজকার ঘটনা, শুরু শুরুতে নাড়া দিলেও এখন গা পেষা হয়ে গেছে। ঘটনাটা একই কিন্তু মুখ গুলোই আলাদা। উত্তর দিতে মন চাইতো আগে, দিন দিন এ সেটাও আর নেই। সব উত্তেজনা ওই কানে গোঁজা হেডফোনটাই বয়ে নিয়ে চলে। চারি হাতের মধ্যে, আধ সেদ্ধ হয়ে মেয়েটা যখন অফিসে পৌছায় তখন হয়তো তার মান, ইজ্জত সব টুকুই ওই বাসের ভিড়ের মাঝে বন্ধক রেখে যায়, ইচ্ছার বাইরে গিয়ে, পেশার তাগিদায়।

কেউ কি আদৌ খবর নেয় মেয়েটি আজ ভিজে চুল মুছেছিলো কিনা? বা ভিড়ের মধ্যে কেউ কি তার পা টা মাড়িয়ে দিয়েছে?

                   “উহ, মেয়েদের আবার চাকরি করতে যাওয়ার কি আছে? ওটা তো বাড়তি ইনকাম”



।। তিন ।।

বিয়ে করে এনেছিলে ঘরে। চোখে লাগিয়ে ছিলে অনেক নতুন স্বপ্ন, সবই মেয়েলি স্বপ্ন। সেসবের প্রতি তোমার কোনও দায়িত্ব ছিলো না কখনো। তুমি শুধু শরীরের জন্যে আসতে আমার কাছে নেশায় মত্ত মাতালের মতো। প্রথমবার শরীর স্পর্শ করার সময় একরাশ জড়তা তোমায় অবশ করেছিল প্রায় ইতস্তত করেছিলে হাত বাড়াতে সেবার তুমি পারোনি আমায় ভোলাতে, আক্ষেপ ছিল বেশ অনেকখানি আদিম সত্যের হাতছানিতে পরের বারে অবশ্য সব হিসাব মিটিয়েছিলে সুদে আসলে। জড়তা কাটিয়ে ক্ষুধার্ত হায়নায় মতো, ঝাঁপিয়ে পড়েছো ওই ইঞ্চি মেপে চর্বি জমানো নাভির আশেপাশে, খানিকটা হাঘরের মতোই বলা চলে। খুব কানে লাগলো, তাই না? হ্যাঁ, হা-ঘরেই নেশার মতো বার বার কাছে আসতে চাইতে তুমি অমৃতস্বাদের খোঁজে কাছে আসা যাওয়ার মিথ্যে অভ্যাসে ভুলে আমি প্রেমে পড়েছি তোমার বোকার মতো

প্রথম প্রথম আঙ্গুলের ফাঁকে জমে থাকা ঘাম চেটে খাওয়া পোশাকি ভালোবাসায় আমি ভুলেছি,একবার না বারবার, নির্বোধের মতো অপরিণত ভালোলাগা গুলো বুঝতে দেয়নি একদিন ওই হাতের ঘাম মুছতে রুমালও ভিজে যাবে, কিন্তু অন্য কোনও হাত আর এগিয়ে আসবে না ক্রমেই হারিয়ে গেছি আমি ভালোবাসা থেকে এখন আর হাত ধরে বসে রোজকারের ওই প্যানপ্যানানি কথা শুনতে ইচ্ছা হয়না বারে বারে নোংরা ছুকছুকানি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে লোভীর মতো ওঁত পেতে বসে থাকো ওই অনুভুতির জন্যে এখন আর অনুভুতি আসেনা, অভ্যাস হয়ে গেছে কেমন তোমারও আজ কাল আর খিদে মেটে না তৃষ্ণা মেটাতে এখন পুরোটা লাগে মনের সব তৃষ্ণা এখন শরীরে চলে এসেছেশরীর ছুঁতে এই আকুলিটা বিরক্তিকে ডেকে আনতো, কিছুটা অধিকারের জন্ম দিয়েছিলো কুঁচকির আসে পাসে কাজ শেষ, আবার যে কে সেই বেড়েছে দূরত্ব, হারিয়েছে উত্তাপ, শীতের হাওয়ায় উলুবনে আজ মুক্ত ছড়াবারও কেউ নেই।

তোমার দেখানো এই ভালবাসা থেকেই নির্লজ্জের মতো একরাশ উচ্ছ্বাস নিয়ে কথা গুলো দিনের পর দিন ভাঙ্গা টেপের মতো কানের কাছে বলে যেতাম আমি তুমি শুনতে, কিন্তু উত্তর দিতে না অভিব্যক্তিই জানিয়ে দিতো বাকিটা যে ভালোলাগা কে প্রশ্রয় দিয়ে শুরু করেছিলে কাছে আসা, যে আঘাতে করেছিলে ঘায়েল,সেই আঘাত দিয়েই আবার আমায় একলা করলে আঘাত দিয়েই মনের জোড়া,  আঘাতেই ভাঙ্গন ; কোনটাতেই আওয়াজ হয়নি, শুধু একটু রক্ত ঝরেছিলো

অনেকখানি বদলে গেছি আমি। তুমি না বললে হয়তো বাকি থেকে এই ভালোলাগার জায়গাটা। তোমার কথা আজকাল মনেই পড়ে না নেশার মতো লক লক করে নাভির আসে পাশে যে চর্বি গুলো চেটে বেড়াতে সেগুলোকেও বিদায় দিয়েছি আমি নিয়ম করে জিমে যাই, ঠিক যতটা নিয়ম করে রোজ সকালে স্নানের পর সিঁথিটা  রাঙ্গিয়ে তুলতাম জানি না তুমি কেমন আছো, তবে নির্ঘাত সেই লেনা দেনার কারবারেই মন দিয়েছো। করো করো, ওটা তোমারই হবে। (হাসি)

আমি সেদিন পারিনি যুঝতে এই সমঝোতার সাথে। দিনে দিনে জমতে থাকা মানসিক ক্ষতের কাছে দেনা পাওনা মিটিয়ে আমি সরতে চেয়েছিলাম। মাথার কালসিটে তবু সেরে যায়, মনের হ্যামারেজের যে কোনও টিংচার আয়োডিন নেই। আমি পেরেছি মনের ব্যাথায় অসুধ দিয়ে গলা সাধতে, আরো হয়তো অনেকে আছে যাদের রোজ রোজ সম্মান বেছতে হচ্ছে ৬-৭ টাকার হিসাবে বা কোনো এক অন্ধ গলির শেষে এক মিথ্যে স্বপ্নের কাছে। যুদ্ধ সবার আছে, কেউ তরোয়াল ধরে, কারো হাতে রাইফেল ;কেউ দাঁড়িয়ে নিষিদ্ধ পল্লীর মুখে কেউ আয়নার সামনে।

যুদ্ধ চলছে, যুদ্ধ চলবে। নাই বা ঝরলো রক্ত, নাই বা হলাম বলি। বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী।।  



Tuesday, 11 July 2017

বাইশ বছর...

ইশ…!! এই ভাবে হাতটা কাটলো কি করে?
কতোবার বলেছি একা একা থাকো একটা রান্নার মাসি রেখে দিতেই তো পারো কত আর খরচা হবে না রাখলেও একটু সাবধানে তো কাটাকাটি করবে ছুরির কাটা, সহজে যাওয়ার নাকি; বোরোলিন মাখিয়ে দেওয়ার হাতটাও এখন নেই নিজেও তো কিছু লাগিয়ে নিতে পারতে নাকি না থাক, বাদ দাও, এই দাগটা থাকুক হাতে আলাদা করতে পারবো এক গাদা হাতের মধ্যে

তোমার পুরোনো ফ্ল্যাটটায় ওই দক্ষিন খোলা বারান্দাটায় একটা গাছ ছিলো
কতো যে অযত্নে বড় হয়েছে তার কোনও হিসাবই নেই শুধু বর্ষার জল পেয়ে পেয়ে ওরম বেড়েছিলো বারান্দায় তো জল আসে না, নয়? বাথরুমে তো অতো জল পড়ে যায় সারারাত ধরে, একটু ধরে রেখে তো আদর করার মতো করে দিতে পারতে গাছটায়, আমার দিকে ওরম হাঁ করে চেয়ে না থেকে তাহলে বেঁচে যেত বেচারা না থাক, বাদ দাও, ওটা মরেই যাক; ফালতু স্মৃতির বোঝা বয়ে বেড়িয়ে লাভটাই বা কি…!!

একটা বিড়াল পুষেছিলে না তুমি? কেমন ন্যাওটা হয়ে ঘুরতো এঘর ওঘর।
যেদিন মরলো সেদিন তো কাকে দিয়ে একটা ফেলিয়েছিলে, নিজে ফেলতে অবধি যাওনি। সেদিন রাতেও তুমি কেমন নিষ্পাপের মতো ঘুমিয়েছিলে। কোনও দুঃখ ছিলো না তোমার মনে। নিজের মধ্যেও তো একটু যুদ্ধ করতে পারতে। ওহ, তুমি তো আবার গান্ধীজীর পিছনেই ছুটে ছুটে হাঁফিয়ে গেছো। তুমি যে যুদ্ধবাদী নও সেটা ভুলেই গেছিলাম।

পাঞ্জাবী বা শার্টের প্রথম বোতামটা আটকানোর স্বভাবটা এখনো বদলাতে পারলে না।
কক্ষনো বুক দেখেনি কেউ। শুধু আমি জানি ওই আবেগের নীল রাতগুলোয় তোমার ওই বুকের পশম কি করে এতোটা অনুভুতিহীন হতে পারে। ওর ওপর আমার অধিকারটা আমি কোনও ভাবে ছেড়ে দেবো না। অনেক কবিতা লিখেছিলাম তোমার জন্যে, একটাও পড়োনি কোনোদিন। পাড়লে পারতে...
না থাক, ভালোই করেছো।  এই বেশ ভালো আছি।

তোমায় একটা চিঠি লিখবো...এটা ভাবতে ভাবতেই প্রায় বাইশটা বছর কেটে গেলো... J 

Tuesday, 9 May 2017

ম্যারিটাল রেপ



প্রথমবার শরীর স্পর্শ করার সময় একরাশ জড়তা তোমায় অবশ করেছিল প্রায় ইতস্তত করেছিলে হাত বাড়াতে ওই নেশার খিদে মেটাতে সেবার তুমি পারোনি আমায় ভোলাতে, আক্ষেপ ছিল বেশ অনেকখানি আদিম সত্যের হাতছানিতে পরের বার অবশ্য খামতি রাখোনি জড়তা কাটিয়ে ক্ষুধার্ত হায়নায় মতো, ঝাঁপিয়ে পড়েছো ওই ইঞ্চি মেপে চর্বি জমানো নাভির আশেপাশে, খানিকটা হাঘরের মতোই বলা চলে। খুব কানে লাগলো, তাই না? হ্যাঁ, হা-ঘরেই নেশার মতো বার বার কাছে আসতে চাইতে তুমি অমৃতস্বাদের খোঁজে কাছে আসা যাওয়ার মিথ্যে অভ্যাসে ভুলে আমি প্রেমে পড়েছি তোমার বোকার মতো

প্রথম প্রথম আঙ্গুলের ফাঁকে জমে থাকা ঘাম চেটে খাওয়া পোশাকি ভালোবাসায় আমি ভুলেছি, একবার না বারবার, নির্বোধের মতো অপরিণত ভালোলাগা গুলো বুঝতে দেয়নি একদিন ওই হাতের ঘাম মুছতে রুমালও ভিজে যাবে, কিন্তু অন্য কোনও হাত আর এগিয়ে আসবে না ক্রমেই হারিয়ে গেছি আমি ভালোবাসা থেকে এখন আর হাত ধরে বসে রোজকারের ওই প্যানপ্যানানি কথা শুনতে ইচ্ছা হয়না বারে বারে নোংরা ছুকছুকানি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে লোভীর মতো ওঁত পেতে বসে থাকো ওই অনুভুতির জন্যে এখন আর অনুভুতি আসেনা, অভ্যাস হয়ে গেছে কেমন তোমারও আজ কাল আর খিদে মেটে না তৃষ্ণা মেটাতে এখন পুরোটা লাগে মনের সব তৃষ্ণা এখন শরীরে চলে এসেছে

নেশার ঘোরটা বেশিদিন টেকেনি; ভালোলাগা চাওয়া পাওয়া এগুলো আসতে আসতে অভ্যাসে পরিনত হলো। আমি হারিয়ে গেলাম ফোনের টপ কনট্যাক্টস থেকে ইনবক্সের ভেতরে, কষ্ট করে হাতড়াতে হয় শরীর ছুঁতে এই আকুলিটা বিরক্তিকে ডেকে আনতো, কিছুটা অধিকারের জন্ম দিয়েছিলো কুঁচকির আসে পাসে কাজ শেষ, আবার যে কে সেই পাশে বসে থাকা মানুষটার থেকে স্কাইপির মুখগুলো বেশি কাছের মনে হতো কিন্তু বাঁধা একজায়গায়, আমি তোমায় বেসেছি ভালো এই ভালবাসা থেকেই নির্লজ্জের মতো একরাশ উচ্ছ্বাস নিয়ে কথা গুলো দিনের পর দিন ভাঙ্গা টেপের মতো কানের কাছে বলে যেতাম আমি তুমি শুনতে, কিন্তু উত্তর দিতে না অভিব্যক্তিই জানিয়ে দিতো বাকিটা যে ভালোলাগা কে প্রশ্রয় দিয়ে শুরু করেছিলে কাছে আসা, যে আঘাতে করেছিলে ঘায়েল, সেই আঘাত দিয়েই আবার আমায় একলা করলে আঘাত দিয়েই মনের জোড়া,  আঘাতেই ভাঙ্গন; কোনটাতেই আওয়াজ হয়নি, শুধু একটু রক্ত ঝরেছিলো

তখন তুমি বদলে ফেলেছো ফোনের নাম্বারটা এক ছাদের তলায় বহুদিন দেখা হয় নি আর;  ফেসবুকেও ব্রাত্য আমি, পাছে তুমি নাগালে আসো অফিস যাওয়ার রাস্তাটাও গুগুল ম্যাপে খুঁজে পাওয়া যায় না, পাছে আমি পথ আটকাই তোমার কিন্তু আমি ছুটবো কার জন্যে? সেই যে এক অভ্যাস ছেড়ে, অন্য অভ্যাসের খোঁজে? তোমার আমার জীবনের ওই চ্যাপ্টারের পাতা গুলো তো তুমি নিজে হাতে আঠা লাগিয়ে বন্দী করে রেখে গেছো; পাছে কেউ না খুলে দেখে কিন্তু যে অন্ধকার ছেড়ে গেছো, তার দায় কে নেবে?

ধন্যবাদ তবে পাওনা আছে তোমার ওভাবে একলা ফেলে না গেলে আমি জানতামই না যে অন্ধকারে কেউ আমার জন্যে চাঁদ হয়ে বসে আছে আমি তার অভ্যাস নই, আমি তার উপস্থিতি, আমি তার পূর্নতা টিসু পেপারগুলো এখন ডাম্প হয়ে পড়ে আছে, কেজিদরে বেচে দেওয়ার জোগাড় ভালোলাগা গুলো এখন আমার কাছে নতুন করে হাজিরা দিয়ে যায় তোমার কথা আজকাল মনেই পড়ে না নেশার মতো লক লক করে নাভির আসে পাশে যে চর্বি গুলো চেটে বেড়াতে সেগুলোকেও বিদায় দিয়েছি আমি নিয়ম করে জিমে যাই, ঠিক যতটা নিয়ম করে রোজ সকালে স্নানের পর সিঁথিটা  রাঙ্গিয়ে তুলতাম

আমি জানি না তুমি কেমন আছো? নির্ঘাত এদিক অদিক ছুকছুক করে বেড়াচ্ছো নতুন খাবারের নেশায় লেনা দেনার পর যখন আবার নিজের ঘরে ফেরো, ওই বিছিয়ে থাকা জামা কাপড় গুলোকে একটু সরিয়ে নিয়ে ক্লান্ত শরীরটাকে এলিয়ে দাও বিছানায়; আমি জানি তখন তুমি আমায় খোঁজো হুইপ জারি করার মানুষটাই যে আর নেই তবে আমার খোঁজ তুমি রাখো, নাহলে সেদিন রাতে ভুল করে কেউ ফেসবুকে ছবি লাইক করে নাকি…!! আরো অনেক ছবিই দেখেছো, তবে একটায় ভুল করে লাইক পড়ে গেছে; সেটা আমি বুঝি আমি অন্য কারো সাথে ভালো আছি এটা দেখে বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠবে, যদিও খুশি হওয়ার কথা ছিলো সেই আঠা লাগিয়ে আসা পৃষ্ঠাগুলো এখন কেবল ইতিহাস, টানাটানি করলে ছিঁড়ে আসবে হাতে, পাতা উলটোবে না

কে যেনো বলেছিলো, “ মানুষ পেয়ে হারানো বা না পাওয়ার আঘাত সইতে পারে, কিন্তু তার অন্যের হয়ে যাওয়াটা কখনই মেনে নিতে পারে না, কোনও ভাবেই না

না মানুষ বদলায়, না অভ্যেস;  বদলায় শুধু ভালোলাগা আর অভিব্যক্তির ভাষাটুকু পরিনতি তো নিমিত্ত মাত্র



                        ************************************************

শেষের শেষ

আমি হেরে যাই… বারবার হেরে যাই আমার ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে। শীতের শুকনো পাতার মতো ঝরে পড়ে  মিশে যাই মাটির সাথে,  ভালো লাগে নত হতে ভালোবাসা...