ছোটবেলায় মা কে বলতাম বড়
হয়ে ক্রিকেটার হব। গড়পড়তা বাকি ছেলেদের মতো শচীনের স্ট্রেট ড্রাইভ বা সৌরভের স্টেপ
আউট করে ছয় দেখে মুগ্ধ হয়ে না, বাইরে বাইরে খেলতে যায় এই কথা ভেবেই। সেই কোন ছোট থেকে
বাইরে যাওয়ার সখ, কিন্তু দিনের শেষে অফিস থেকে ফেরার সময় উপলব্ধি হত যে এই স্বপ্ন বুঝি
আর সত্যি হল না। মধ্যবিত্ত বাড়িতে বড় হওয়ার সময়েই বুঝে গেছিলাম ক্রিকেট আমার জন্যে
শুধু টিভিতেই শোভা পায়, তাই সেই দিকে পা বাড়াই নি আর, কিন্তু বিদেশের লোভটা আর ছাড়তে
পারিনি। হ্যাঁ, আমি এটাকে লোভ বলেই মানি, কারণ বিদেশে সব ভালো এই ধারণা আমাদের বদ্ধমূল
আর সেটা থেকেই বেটার জিনিসের প্রতি ভালোবাসা বা লোভ জন্মানো। চাকরিতে ঢুকে বছর এক দুই
থাকার পরেই বুঝে গেছি বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ার বিশেষ সুযোগ নেই। সেই দেখে আমি নিজে
থেকেই শুরু করলাম। আমি সবসময় আগে অফিস এসে, আগে বেরিয়ে যাই অফিস থেকে, যাতে মৃতপ্রায়
অবস্থায় বাড়ি আসার পরেও নিজের জন্যে কিছুটা সময় থাকে। কিন্তু নতুন এই কাজের জন্যে সেই
সময়টুকু নিজের জন্যেই রেখে দেওয়া যায় না, সেখান থেকে আর অন্যকে কি দেব। ঈশিতা ব্যাপারটা
আন্দাজ করেছিল। নিয়মবিরূদ্ধ ভাবেই সেদিন আমায় দুপুরে ফোন করেছে, তখন আমার লাঞ্চটাইম।
Showing posts with label ঈশিতার সাথে. Show all posts
Showing posts with label ঈশিতার সাথে. Show all posts
Thursday, 2 April 2020
Wednesday, 1 April 2020
গড়িয়াহাট আর ঈশিতা
গড়িয়াহাটের মোড়
মাথাটার এখন খুব শোচনীয় অবস্থা। বাইরের তাপমাত্রা এখন নয় নয় করে ৩০ তো আছেই, তার
সাথে আছে ছিচ কাঁদুনে মার্কা বৃষ্টি। মানে সময় নেই অসময় নেই ঝাঁপি খুলে বসলেই হলো।
বেশিক্ষন না, ওই মিনিট দশেক হুড় হুড় করে বৃষ্টি হবে, গরমটা আরো বাড়িয়ে দেবে আর
সাথে কাদা প্যাচ প্যাচ। মানে এক কথায় প্রকাশ করতে দিলে বিরক্তিকর বললে ফুল
মার্ক্স। একে গরম তার সাথে দুপুরের মধ্যে ওই গড়িয়াহাট মোড়ের মাথায় এসে জুটলে আর
রক্ষে নেই। যদি কোনও কারনে মনে হয় আপনি মধ্যে প্রাচ্যে বেড়াতে এসেছেন তাহলে একদমই
ভুল বলা যাবে না আপনাকে। বাইরের থেকে এই অঞ্চলটা, মানে ওই ধরুন বিজন সেতুর মুখ
থেকে এদিকে বাসন্তি দেবী কলেজ, কি আরো একটু টেনেই দিলাম, ট্রাই-অ্যাঙ্গুলার পার্ক
অবধি তাপমাত্রা বাইরের থেকে অন্ততপক্ষে ৩-৪ ডিগ্রী বেশি। যেমন ভিড় তেমন গরম। মানে বাস থেকে
যদি ট্রাই-অ্যাঙ্গুলার পার্কে নেমে পড়েন তাহলে
বেশি কসরত করতে হবে না। মানুষজন আপনাকে ঠেলে ঠেলেই পৌঁছে দেবে গড়িয়াহাটার মোড়ে। রঙবেরঙের
প্লাস্টিকের আড়ালে রকমারী, মনোহারি জিনিসের পসরা সাজিয়ে নানা সুরে ডাকছে গড়িয়াহাট।
ফুটপাথ থেকে দোকান সবেতেই কেমন যেন অভিনবত্বের ছাপ। দু দন্ড যে একটু উপভোগ করবে লোকজন
তারও উপায় নেই। কনুইয়ের গুঁতোয় তখন আপনি সরে গেছেন পাশের দোকানের কাছে।মানে এক কথায়
যা তা।
Tuesday, 5 February 2019
বইমেলা আর ঈশিতা
লালমুখোদের তাবেদারি করে আর কতো দিন যে ভারতবর্ষ খাবে কে জানে। এই বদলে ওই করে দাও, “ডেডলাইন
মিস করলে কেন?”, “আর কতো সময় চাই”, “অ্যাম আই অডিবেল?”,
“ক্যান ইউ সি মাই স্ক্রিন?” আরো হাজারো প্রশ্নের জ্বালায় জীবনটা পুরো মিয়ানো মুড়ি হয়ে গেলো। ইচ্ছা করে মাঝে মাঝে, সোজা গিয়ে মুখে নুড়ো জ্বেলে দি, কিন্তু
কি আর করবো, মাসের শেষে মনটা ভরে যায়। একটা দিনের জন্যে হলেও। যদিও পিছন পিছন এই ই.এম.আই, ক্রেডিট
কার্ড সব লাইন দিয়ে দিয়েছে। তবুও
ওই আর কি। আমি একজন হতভাগ্য আইটি কর্মচারী। কাজের জন্যে সময় দিতে দিতেই প্রাতঃক্রিয়ার ফুরসত আর পাচ্ছি না
বেশ কয়েক মাস ধরে, আর ঈশিতা
তো কোন দুরস্ত। যা হাল তাতে, পারলে পটিটেও ল্যাপটপ ধরায়।
Sunday, 5 February 2017
… এবং ঈশিতা
ব্যাগ পত্তর গোছানো মোটামুটি শেষ। এবার শুধু প্রহর গোনার পালা। কে কোথায় যাচ্ছে সেটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ারই কথা। আসলে সাবর্ন্য চলে যাচ্ছে। কোলকাতা থেকে ব্যাঙ্গালোর। কাজের সুত্রেই যাচ্ছে। নয় নয় করে এক দু বছরের ধাক্কা। কিছুটা যেন মুক্তিও পাচ্ছে বলে ছাপ পড়েছে চোখে মুখে। মন খারাপের লেশমাত্র নেই মুখে। মা বাবার একটু কষ্ট হচ্ছে। তবু সাবর্ন্য তাদের এই বলে বোঝাচ্ছে যে বাইরে অনেক সুযোগ। কোলকাতায় থাকলে আর বড় হতে পারবে না। এই বুঝেই ছেলের মুখ চেয়ে কষ্ট গুলোকে হজম করে নিচ্ছেন কাকু কাকিমা। এই বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি আজ থেকে না। বেশ কতা দিন ধরেই চলছে। তাও হপ্তা খানেক তো বটেই। নিজে হাতে লিখে লিখে একটা চেকলিস্ট তৈরি করেছে। নিজে হাতে বাজার থেকে কিনে এনেছে। ব্যাগে ভরেও নিয়েছে সময় সময় করে। বাকি জিনিস গুলো মায়ের ডিপার্ট্মেন্ট। বার দুইয়েক মিলিয়েও নিলো লিস্ট দেখে। তাও কেমন যেন মনটা খচ খচ করছে। কিছু যেন একটা বাদ পড়ে যাচ্ছে । বার বার লিস্ট মিলিয়েও কোথাও যেন বাকি রয়ে যাচ্ছে সেই অধরা জিনিসটা। খুঁজতে চাইছে কিন্তু পাচ্ছে না। অবশেষে ধরা পড়লো। ঈশিতা…
Subscribe to:
Posts (Atom)
শেষের শেষ
আমি হেরে যাই… বারবার হেরে যাই আমার ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে। শীতের শুকনো পাতার মতো ঝরে পড়ে মিশে যাই মাটির সাথে, ভালো লাগে নত হতে ভালোবাসা...