Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Sunday, 4 January 2026

শেষের শেষ




আমি হেরে যাই…

বারবার হেরে যাই

আমার ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে।

শীতের শুকনো পাতার মতো ঝরে পড়ে 

মিশে যাই মাটির সাথে, 

ভালো লাগে নত হতে

ভালোবাসার কাছে মাথা নোওয়ানোর তো দোষ নেই

নতুন করে গড়ে নেওয়াতেও দোষ নেই কিছু

এই হারে নেই কোনো যুদ্ধ, শুধু আছে ভালোবাসার প্রকাশ। 

নদীর জলের মতো প্রবাহ যার; 

হেরে যাওয়ায় জয় ভালোবাসার। 


আমি হেঁটে যাই…

হেঁটে যাই সেই পথ ধরে,

যেখানে চলে না মানুষ, তবুও থেকে যায় কিছু পায়ের ছাপ। 

কংক্রিটের বাইরেও যেখানে পায়ের চাপেই 

জন্ম নেয় এক নতুন অস্তিত্ব,

সেই পথে হেঁটে যেতেই ভালো লাগে আমার, 

ও পথ নেয় না সবাই

তাই ঘাসের মাঝে মাঝেও কিছু ছাপ থেকে যায়;

বেঠিকানায় চলাই মজা যার,

বাঁধবে তাকে সাধ্যি কার। 


আমি শুনে যাই,

শুনে যাই অনর্গল

সেই টেপ রেকর্ডারের গান, যে গান আর কেউ শোনে না এখন। 

নতুনের ভিড়ে চাপা পড়া রেকর্ডের মাঝেও 

সেই ফেলে আসা দিনের টান, 

কেউ শোনে না জানি, তবু আমায় জোগায় রসদ

অনেকটা ভালোবাসার মতো,

হাতবদলি আঙুলের ছাপের মাঝে কখন ফুরায় কথা, 

নিয়ম মেনে তো সব গানই হয় শেষ

কিছু কিছু তখনো বয়ে চলে সেই রেশ। 


সব শুরুরই তো শেষ হয় কখনো সখনো

তবুও সব শেষের কী শেষ হয় আর… 

Wednesday, 12 February 2025

নশ্বর



আমি জানি নশ্বর আমি;
একটা একটা দিন ফুরায় আর আমি গুনি;
এই বুঝি বাজল সাইরেন;
শরীরের কারখানায় যখন ধীরে ধীরে কর্মবিরতি আসতে থাকে
হঠাৎ করেই একদিন তালা ঝুলে যায়;
শ্রমিকদের গলার আওয়াজ নেই, নেই যন্ত্রের ডাক;
শুধুই নীরব সাইরেন, কেউ টের পায় না; 
শুষে নেয় দেওয়াল গুলো।
এই নীরবতার সময়টাকে বড় ভয় করে আমার,
হঠাৎ করে অপ্রাসঙ্গিক হতে কেই বা চায়। 

শুনেছিলাম ভালোবেসে নাকি মানুষ অমর হয়, 
রোমিও, জুলিয়েট, লায়লা মজনু, হির রাণঝা, আরো অনেকে;
কিন্তু এত ভালোবাসা কি সম্ভব বলো? 
একটা জীবনে কতটা ভালোবাসলে তবে অমর হওয়া যায়? 
কেউ কেউ বলেছিল ভালোবাসার মাপ নেই,
কেউ কেউ বলে ভালোবাসাতেই ভালোবাসা,
সেভাবেও তো ভেবেছি, তল পাইনি আর; 
ভালোবেসে কী অমর হওয়া আদৌ যায়? 

আমিও প্রেম করেছি, ভালোবেসেছি বারবার,
শেষ নাম দেবো ভেবেই বার বার ভালোবেসেছি;
ভালোবাসা আমায় ফিরিয়েছে, ডুবিয়েছে, ভাসিয়েছে বার বার;
তবুও পারিনি অমর করেনি; 
এক চোখ থেকে অন্য চোখের অন্ধগলিতে হারিয়ে 
আমি পথ ভুলেছি, 
নিরন্তর এক টানাপোড়েনের মাঝে আমি হেরেছি শুধু।
কতটা ভালোবাসলে তবে অবিনশ্বর হওয়া যায়? 

এর থেকে যদি কবি হতাম
তোমায় নিয়ে কবিতা লিখতাম কিছু;
ভালো হোক বা মন্দ, ওই ফাঁকা কারখানায় সব শোরগোল থেমে গেলে
ধুলো পড়া কাগজ গুলোয় তবু থেকে যেত ইতিহাস সাথে নিয়ে; 
যদি কবি হতে পারতাম, তোমায় নিয়ে কবিতা লিখে যেতাম৷ 

তোমায় আমার করে পেলে হয়ত নশ্বর হয়েও পূর্ণতা পেতাম।

Friday, 13 December 2024

সব কেন-র উত্তর...



তোমাকে চেনার ইচ্ছা আমার বহুদিনের,
সুযোগ সময় কিছুই হয় না আর; 
কাছে চাওয়া আর পাওয়ার মাঝেও
অনেক অনেক ফারাক,
এক এক আলোকবর্ষ যেন; 
তোমায় কুয়াশার মতোই জটিল ভাবতাম;
ধোঁয়া ধোঁয়া, কাছে গেলেই নেই আর;
তবুও ওই কুহকের পিছনেই ছুটে গেছি মারিচের টানে,
হেরেছি আর হেরেছি বার বার;
প্রশ্ন করেছি নিজেকে কেন আবার?
কিন্তু সব কেন-র তো উত্তর নেই আর..

Friday, 22 March 2024

কবিতা

কবিতা,
তোমার জন্য ঘর ভাঙে জানো,
আমার কাছে এক রকম, অন্যের আছে অন্য;
কি করে বোঝাই বলো
তোমার শব্দে পলাশ কেমন গোলাপ হয়ে ফোটে
দুঃখও কেমন সুখ হয়ে ফাটে;
কিছুটা বোঝা যায়, পড়া যায়
কিন্তু অনেকটা আড়ালে থাকে,
আমি না হয় বুঝি, কিন্তু আমার মতো কেউ কি আর বোঝে?

Tuesday, 19 March 2024

অপেক্ষা



এভাবেই দিন যায়,

জানলার কাঁচ থেকে শুধু মেঘটুকুই ধরা বাকি;

কিছুটা বৃষ্টি, কিছুটা মেঘলা আর অনেকটা একলা। 

একলা কেন? নতুন তো না,

আজকাল মনে হয় সৃষ্টির আদিম সময় থেকেই 

একা থাকার দস্তুর আমার।

এখন আফসোস নেই, ভালো লাগে বরং। 


আমার জানলা দিয়ে অনেক খানি মাঠ দেখা যায়,

তার আগে পিছে ধূসর রাস্তা,

গাড়ি যায় পরপর; আমার দেখা হয় না আর; 

দেখা, শোনা, ভাবা- ব্যাপারগুলোই আর সমান্তরাল নেই। 


মেঘ করে কালো হয়ে এসেছে বেশ,

বৃষ্টির একটা আলাদা গন্ধ আছে জানো;

হাওয়াটা আজ সেটা নিয়েই ঘুরছে, হবে বুঝি এখনি। 

ঝুপঝুপে ভেজা জানলাটা বেয়ে যখন জল নামবে নীচে

আমি দেখব হয়ত; জানিনা ঠিক-

দেখলেও হয়ত সেরকম আর আগের মতো দেখব না;

না দেখার আফসোস নেই, ভালোই লাগে বটে।


সময় কেটে যায় মেঘের মতোই,

রোদ আসে, ঝড় আসে, বৃষ্টি ও, আবার ফিরে রোদ; 

তুমিও পালটে গেছ অনেক, অনেক খানিই হবে

একটা একটা বছরের হিসাব তো আর থাকে না;

যদি দেখা হয় কখনো

এক কাপ চা নিয়ে বসব হয়ত, মিলিয়ে নেব হিসাব নিকাশ;

তুমি দিয়েছিলে বেশি নাকি আমার কাছেই ধার…


বাকিটা না হয় অপেক্ষার… 


Monday, 30 October 2023

শেষ হিসাব



জানলা জুড়ে কেমন যেন বিষন্নতা,
আমি আর একটা বিশাল তুমি রয়েছ সেখানে;
পাশাপাশি বসেছি, হাত ধরেছি
ভেজা চুলের থেকে জল গড়াচ্ছে তখনো
জট পড়েছে বেশ; আমার আঙুল চলছে না আর। 
যেন মোহনায় এসে পাথরে পাথরে বিঁধছে
গতিময়তা।
থামতেও তো জানতে হয় বলো। 

Sunday, 18 September 2022

ঊষশী




ঊষার আকাশ, নিশীথ সূর্য 
বা মধ্যগগণের রুপোলি চাঁদের মতো দেখা দাও তুমি; 
অপার এক ঐশ্বর্যবেশ আসো তুমি বার বার; 
কুহকের মতো আমি ডুবে যাই তাতে,
একটা মাস্তুল ভাঙা জাহাজ খাবি খাচ্ছে
আমি সাঁতরে ফিরতে চাই পাড়ে বার বার
কিন্তু উপায় নেই; 
নির্লিপ্ত এক মায়াবী নেশা আমায় বার বার বিবশ করে,
আমি ভাসছি এক অনিশ্চয়তার মাঝে। 

এক লহমায় যখন পাড়ে এসে পড়ি
বুঝতে পারি এখনো অনেকটা একা আমি;
উত্তপ্ত মরুভূমি যেমন লালন করে চলে একটা মরীচিকা 
সেভাবেই তপ্ত হৃদয় থেকে পাকানো ধোঁয়ার জালে 
তুমি জড়িয়ে আসো বার বার; 
ছুঁতে চাই তোমায়, তুমি নেশার মতো 
কিন্তু তুমি তো আমার নও;
তুমি কেমন এক মায়াবী ইন্দ্রজাল
শুধু কাছে টেনে নাও ওই মায়াবী দন্ডের নেশায়। 

একটা হঠাৎ আঁতকে ওঠা হটকারিতায় 
আমার চোখ খুলে যায়, নেশার পর্দা সরিয়ে যে ঐশ্বর্য রূপ আমার স্বপ্নে রঙ ভরেছে
সেই রূপ নিয়ে কাছে আছো তুমি; 
অঝোর বৃষ্টি, অন্ধকারময় ঝোড়ো হাওয়া আর এক জমতে থাকা শীতের ভোর
এতটা সুন্দর যে হতে পারে ভাবিনি আগে;
তুমি আছো সেই মায়া নিয়ে, যার যাদু আমার স্বপ্নে ঘিরেছে আগে পিছে। 

ভাঙছে এই নিশ্চুপ ধরনীর নির্মোক
তোমার চকিত স্পর্শ যেন অতন্দ্র স্বপ্নলোক…





শেষের শেষ

আমি হেরে যাই… বারবার হেরে যাই আমার ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে। শীতের শুকনো পাতার মতো ঝরে পড়ে  মিশে যাই মাটির সাথে,  ভালো লাগে নত হতে ভালোবাসা...