Showing posts with label বাঙ্গালিয়ানা. Show all posts
Showing posts with label বাঙ্গালিয়ানা. Show all posts

Thursday, 21 February 2019

বাংলাটাই ঠিক আসে…






বেশ কদিন আগের কথা, ভরদুপুরে ঘেমে নেয়ে বাসে করে অফিস যাচ্ছি। আর কলকাতার বাস নিয়ে, মূলত অফিসের সময়ের বাস নিয়ে যত কম বলা হয় ঠিক ততটাই ভালো। উপায় যখন নেই তখন আর কি বা করা যাবে, অভিযোগের কোন মানেও হয় না, এভাবেই আমরা অভ্যস্ত। বাসটা পার্কসার্কাস থেকে ঘুরে চার নম্বর ব্রীজের নীচে যেই না গোঁত খেলো, অমনি পিল পিল করে কোথা থেকে যে এতো লোক এলো সেটা বুঝতে বুঝতেই আমি অলরেডি দুটো কনুইয়ের মাঝে প্যানকেক। স্যান্ডুইচ হয়তো আশা করেছিলেন কিন্তু আসলে বলি স্যান্ডুইচে মালপত্র ভরে সেটাকে গ্রীল করা হয়, এখানে দুই কনুইয়ের মাঝে মালপত্র পড়ে গরমে গ্রীল হচ্ছে বটে কিন্তু সাথে অকুল ধারায় ঘাম মিশে ব্যাপারটা একদম ভাজা ভাজা হয়ে যাচ্ছে, তাই প্যানকেক বললে আসল ব্যাপারটা অনুধাবন করা যাবে। সে যাই হোক, আমি তখন বর্ডারের সানি দেওলের মতো একটা খন্ডযুদ্ধ জিতে একটু মুখ বাড়িয়ে উঁকি ঝুকি মারতে গিয়ে দেখলাম চোখে চশমা এঁটে, সাদা একটা টি শার্ট পরে এক ছোকরা বাসে উঠেছে। প্রবল ভিড়ের চাপে গেটের থেকে ভেতরে আসতে না পেরে অসহায়ের মতো চেয়ে আছে এদিক ওদিক। বাস ছুটছে বাইপাস দিয়ে।

Monday, 22 October 2018

শুভ বিজয়া



প্রায় এক মাস হতে চললো বাড়ি ছাড়া৷ সব ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার দূরে বসে আছি কোন এক নতুন ভবিষ্যতের কথা ভেবে। এই কদিনে অভ্যাস, স্বভাব, পরিবেশ, মানুষজন বেশ অনেক খানি বদলেছে। তাই পুরনোকে ধরে রেখে নতুনকে বরণ করার একটা নিরন্তর চেষ্টা চলেই যাচ্ছে লোকচোখের আড়ালে। অনেক কিছু মানাতে পারলেও একটা জিনিসকে মানাতে পারিনি, সেটা হলো দুর্গাপুজো।
বছর পঁচিশ বয়সে এসে এই প্রথমবার পুজো হাতছাড়া হওয়ার অনুভূতি প্রকাশের কোন ভাষা হয় না। বাঙালি আবেগপ্রবণ না তেমন, মনের থেকে মাথা দিয়ে চলতেই বেশি পছন্দ করে। কিন্তু পুজো এলেই সব হিসেব কেমন পালটে যায়। তাই প্রথমবার তো; তাই হয়তো ওজনটা একটু বেশিই। যদি প্রশ্ন আসে এরম যে দেশের বাইরে এই প্রথম বার থেকে কি কি মিস করলাম বেশি; তাহলে হয়তো পরের পর বেশ কিছু পয়েন্ট দাঁড় করিয়ে দিতে পারবো। 

Monday, 28 May 2018

আর মাত্র মিনিট তিনেক


         


              ২৫শে মে,২০১৪। ভারতীয় সময় রাত প্রায় দুটো কি সওয়া দুটো। টিমটিম করে জ্বলতে থাকা টিভির আলোতে উদ্ভাসিত ঘরটা থেকে হঠাত বিকট আওয়াজ। গোওওওওওওওওওওওওললললললললল...............



          প্রায় চার বছর আগের কথা, সেবার বিশ্বকাপের বছর,২০১৪। তাই ফুটবল মরশুম একটু আগে আগেই শেষ হওয়ার কথা। জুন থেকেই চলবে একমাস ব্যাপি ফুটবল জ্বর আর আগে আর পরের এক মাস ব্যাপি সেই দেশগুলো নিয়ে চর্চা। ফুটবল নিয়ে কলকাতার অবস্থান নতুন করে বলে বোঝাতে হয় না। দেওয়াল লিখনের সঙ্গে সঙ্গে এই একমাস যাবত আকাশ পর্যন্ত দেখা যায় না লম্বা লম্বা সামিয়ানার মত ফ্ল্যাগের আড়ালে। বড় বাজারের ত্রিপল পট্টির এই কদিন বেশ ভালোই  ব্যবসা হয়। মানে এমনি বছরের তুলনায় বেশ ভালোই আর কি। কোথাও সবুজ হলুদ, কোথাও নীল সাদা(যদিও সেটা এখন আর আলাদা করে বোঝা যায় না), কোথাও আবার হলুদ, লাল আর কালো; মাঝে মাঝে কিছু সবুজ মেরুনও চোখে পড়ে। এই হলো কলকাতার রঙ। ফুটবল, রসগোল্লা, মিস্টি দই, তেলেভাজা মুড়ি, পলিটিক্স আর গান, এই নিয়েই কলকাতা আছে নিজের মতো, সবার থেকে আলাদা হয়ে। এখানে মোহনবাগান পাবেন, ইস্টবেঙ্গল পাবেন, মহামেডান পাবেন। পাবেন ম্যানচেস্টার, লিভারপুল, আর্সেনাল, বার্সেলোনা, রিয়েল মাদ্রিদ আরো কত কি। যদিও হাল আমলের সাথে পা মেলাতে গিয়ে, “আমি কলকাতার ফুটবল পছন্দ করি না। আমার পছন্দ অমুক দেশের তমুক টিম” এসব বলার চল বেড়েছে, তবুও কলকাতা থেকে সেই খাস ময়দানি ফুটবলের আমেজটা এখনো রয়ে গেছে। শুধু জার্সির রংটা বদলেছে।

Monday, 2 April 2018

হালের হালখাতা




তুলনাটা কেমন যেন আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেছে। ছোট থেকে বড় সব কিছুতেই কেমন তুলনা। এটা যে শুধু হালের আমদানি এরম ভাবাটা খুব ভুল। এসব আগেও ছিল, এখনো আছে। শুধু পরিসরটা বদলে গেছে। আগে পাড়ার মীনা কাকিমার মেয়ে হয়েছে আর আমার কাকিমার ছেলে থেকে হাল আমলে আমার ফেসবুকের লাস্ট ডিপিটায় সৌরভের ডিপির থেকে বেশি লাইক পড়েছে পর্যন্ত সব কিছুতেই মুড়ি চানাচুরের মত তুলনা রয়ে গেছে। তো এসব লিখছি মানে এরম ভাবার কোন কারন নেই যে আমি তুলনা করি না, আমিও করি। আমায় ওমন সাধু পুরুষ ভাবার বিশেষ অবকাশ আমি দি না।

শেষের শেষ

আমি হেরে যাই… বারবার হেরে যাই আমার ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে। শীতের শুকনো পাতার মতো ঝরে পড়ে  মিশে যাই মাটির সাথে,  ভালো লাগে নত হতে ভালোবাসা...