Showing posts with label প্রেম. Show all posts
Showing posts with label প্রেম. Show all posts

Sunday, 22 January 2023

বর্ষাতি মন



একটা বর্ষাতি চাই জানো,
না না একটা না; গোটা দুই
বর্ষা আসার সময় তোমায় নিয়ে পাহাড়ে যাবো;
পাহাড়ে নাকি বর্ষা অন্য ধাঁচের-
মেঘের সাথে মেঘ এসে নাকি
ভালোবাসা জমায় টাইগার হিলে,
স্যাঁতস্যাঁতে বাষ্পগুলো শরীরটাকে সিক্ত করে;
বেশ শিহরণ নাকি বলে সকলে,
আসছে শীতে পাহাড় যাবে আমার সাথে?

প্রেমিক



এই ছেলেটার দিকে দেখো,
ও পারবে না প্রেমিক হতে, ভালোবাসতে কাউকে;
একটা বুনো জেদ কেমন যেন চোখ বুজেছে ওর,
এত জেদ নিয়ে ভালোবাসা যায়?
ভালোবাসাতে গেলে অনেক মানিয়ে নিতে হয়;
ঋতু বুঝতে হয়।
কোনো ঋতু ভাসায়, কোনোটা আবার শুকিয়ে মারে;
কোনোটা আবার আদ্রতায় ভেজায়;
ওত সত বোঝে না ও, শুধু চোখ পড়ে আর মন বোঝে;
এই ভাবে কি প্রেমিক হওয়া যায়?

Wednesday, 24 August 2022

প্রেমের এপিটাফ




প্রিয়,
তোমার আমার দেখা হওয়ার তো দরকার ছিল না কিছু,
এতগুলো বছর, এতগুলো ক্ষন তো আমি একাই কাটিয়েছিলাম
তোমার উপস্থিতি ছাড়া;
ভাবনা আসত, কিন্তু উবে যেত কর্পূরের মতো,
আমার মনটা শান্ত করে দিতে নির্লিপ্ত এক সুবাসে; 
শান্তি পেতাম, আর মানিয়ে নিতাম এই বেশ ভালো আছির দেশে। 

Sunday, 10 July 2022

( ১ )



একটা চিরকুট লিখবো জানো,  তোমাকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে  ভাসিয়ে দেব হাওয়ায় হাওয়ায়; তোমার কাছে যাবে কী যাবে না জানি না তবে পাঠাতে আমায় হবেই,  একটা করে দিন যাবে আর উড়ে বেড়াবে চিরকুটটা এ পান থেকে ও পানে;  মুখ থুবড়ে পড়বে না বোধহয় আমার ভালোবাসার ওজন এত নয়। 

Sunday, 23 December 2018

বদলের পর

বদলে গেছে অনেক কিছু
গলি শহর,রাস্তাগুলো;
বদলে গেছে গানের খাতা,
স্বরলিপি আর নকশি কাঁথা;
বদলে গেছে স্কুলের পথে তোমার আমার সঙ্গে হাঁটা।

খবর নিলাম বছর পরে
কেমন আছো? শরীর কেমন?
চলটা ওঠা চশমার ফ্রেম
এখন ও কি পড়ার ঘরে?
ওষুধ গুলো এখনো কি খাও, বেনিয়মে, নিয়ম করে?

আমি আছি আগের মতোই
একটু বেভুল এবং বেহুঁশ,
ওষুধ গুলো? খাওয়াই হয়না বটে।
জানতে খুব ইচ্ছা হল খবর রাখো কিনা
বহুদিন ধরে আমি আর কবিতা লিখছি না।

Friday, 26 January 2018

বইমেলার প্রেম





উঠতি বয়সের নেশাই হলো হুজুকে মাতা সে সরস্বতী পুজোর ভাসান হোক কি কিম্ভুত কিমাকার গানের ভাইরাল হয়ে ওঠা, হুজুগেই চলছে দুনিয়া বইমেলা যাওয়া এরমই এক হুজুগ কোনো বাঙালি আড্ডায় একবার মুখ ফস্কে বলে ফেলুন আমি বইমেলা যেতে পছন্দ করি না, পরের বার সেই আড্ডায় আর ডাকবেই না আপনাকে এটা আমি হলফ করে বলতে পারি আর শুধু বইমেলা যাওয়াই না, ব্যাগ বোঝাই করে বই না কিনে আনলে সেই বইমেলার কোনো মাহাত্ম্যই নেই সে বই পড়ুন না পড়ুন, ব্যাগ যেন ভরা থাকে বাঙালি হিসাবে একটু গর্বই বোধ হয় ওই ব্যাগটা দেখলে, মুখে চোখে কেতা কেতা ভাব, “দেখ কতো বই কিনেছি…!!!” এই চক্করে রাঁধুনি রাখা বাড়ির কর্ত্রীর হাতেওবেনুদির স্পেশাল ৫০ রেসিপিঘুরতে দেখেছি হুজুগটাই হলো আসল কথা

Wednesday, 24 January 2018

এখন কেমন আছো?



যে রাতে ছেড়ে এসেছিলাম পরস্পরের হাত
এক নিঃশ্বাসে দুজনেই ভেবেছিলাম বাঁচা গেছে,
গল্প লেখা থেমেছে সেদিন থেকে
অনুভূতিগুলো ইতিহাস হয়ে আছে।

Wednesday, 17 January 2018

অভীপ্সা




আমি প্রেমে পড়তে চাই
আমি, তোমার প্রেমে পড়তে চাই প্রতিদিন
লাল নীল সংসারের মায়াপদ্যগুলো
নুনের মত ঘিরে রেখেছে আমার ঘুমভাঙা চোখ
মন্দ স্বপ্নের ঘোরে সেই কবে থেকে ভয় পেয়েছি
তুমিই কি হবে সে যে স্বপ্নে ভুলিয়েছি?

Sunday, 7 January 2018

শীতল প্রেম



তোমার জন্যে এখনও যেটুকু আছে-
সেটুকু পেয়েছি, ঢেকেছি নিজের কাছে।
কেননা প্রেমের আইনে নিষেধ জারি
বুকের মধ্যে তোমাকে রাখতে পারি?

Saturday, 30 December 2017

অনুরাগ



দীর্ঘ ভয়, দীর্ঘ শোক, দীর্ঘ অসুখ তার,
অভিসম্পাতে প্রিয় গান হয়ে
ফিরে আসো বার বার।

বাইরে শীতের রোদের আমেজে উলের ছোঁওয়ার রেশ,
ক্যাপুচিনো হাতে নিয়ম মানাতে
তুমিই জানো বেশ।

দেওয়াল জুড়ে সাজিয়ে যতনে, মুহূর্তগুলো বন্দী,
চেনা মাফলারে এড়িয়ে চলা
তোমার আদিম ফন্দী।

একা সোয়েটার, দীর্ঘমেয়াদী- ডার্ক সার্কেলে বোনা,
তোমায় ছেড়েছি তোমারই জন্যে
তাই প্রিয় যন্ত্রনা।

দূর থেকে প্রেমে জন্মবদল, আবার ফিরবো দেখো;
ততদিন তুমি আবেগী বাষ্পে
পরিনত হতে শেখো।

কথায় কথায় তর্কের সাথে দুরত্ব বাড়ে যত
প্রেমটা জমে শীতের দিনে
নলেন গুড়ের মতো।

প্রেমের মধ্যে যুদ্ধ অনেক, অভ্যেস বারোয়ারি;
আবার আমরা মিলবো যখন
ফিরবো তোমার বাড়ি।

আঙ্গুলে আঙ্গুলে রটে যাবে ফের এই কাছে আসাআসি,
নুনের কৌটো বুঝে যাবে শেষে
আসলে ভালোই বাসি।

প্রেমের আঁচে,অধিকারে বাড়ে ঠোঁটের নীচের ব্রন
তোমাকে ফেলবো, ভাঙবো
তবু ছাড়বোনা কক্ষনো।




Saturday, 9 December 2017

বৃষ্টির পদ্য




আকাশ পানে মুখটা করে বৃষ্টি বলে যেই না ডাকা
হুড়মুড়িয়ে পড়লে ঝরে, এদিক অদিক সবটা ভুলে;
ভাবলাম আমি রাখবো কোথায়, ভরবো নাকি ডেকচিখানা?
নাকি আবার ভাসিয়ে দেবো কাগুজে এই নৌকো ভরে।

আটকে দিলাম নিজের কাছেই, পকেটভরে বর্ষা আমার
নিজের যত দাবিগুলো বললাম আমি ফিসফিসিয়ে,
কবিতা আর সোঁদাগন্ধ এখন থেকে নেই যে তোমার
ওসবগুলো আমার হবে, দিলে দাও নয় নেবো ছিনিয়ে।

আরো চাইলাম অনেক কিছু, যেমনটা ঠিক সকলেই চায়
থাকবে তুমি আমার কাছে সারা জীবন ঠিক এভাবে;
বৃষ্টি তখন হেসেই পাগল, কথা শোনার নেই কোনো দায়
রাগেই আমি বলে বসলেম অসভ্যতা শেখো কিভাবে?

হাসি থামিয়ে বৃষ্টি তখন বলছে আমার কানের পাশে
কবিতা খানা তোমায় দিলাম, বাকিগুলো নয় আমারই থাক;  
তবে কি তুমি চলে যাবে? থাকবে না আর আমার কাছে?
বৃষ্টি বলে আসবো আবার যখন পাবো তোমারই ডাক।

একলা আমি আজও ডাকি ছাদ পেরিয়ে মাঝে মাঝে
আসেও অনেক সজ্জা নিয়ে, নানান মেঘে সাজিয়ে বাহার;
আসা যাওয়ার মাঝেও আজো দুঃখ সুখের কি ধুন বাজে,
কাছে এসেও পর আজও সে, কখনোই যে হয়নি আমার।। 




Thursday, 23 November 2017

অন্য নভেম্বর


তোমার বাড়ির ছাদের ওপর নভেম্বরের মেঘ,
অবহেলায় চুল সরেনি, ঠোঁট নামেনি ঠোঁটে;
অতঃপর এই নিম্নচাপই বাড়াবে উদ্বেগ,
ফেলে যাওয়া সময়গুলোই স্মৃতি হয়ে ওঠে।

তোমার শরীর জুড়ে এখন নভেম্বরের মেঘ,
ছায়ার সাথে যুদ্ধ খালি, চাঁদ ফেরেনা ঘরে;
আমরা দুজন অনেক দূরে, ইচ্ছাটাকেই মেনে,
বিচ্ছেদটাও চিরকালেই রইবে পরস্পরে।

তোমার পায়ের তলায় এখন নভেম্বরের মেঘ,
পিষতে পারো,কারন ভীষন মরণ চেয়েছিলাম;
তোমার থেকে সরতে হবে-পুর্বাভাসেই জানি,
মেঘের থেকে বৃষ্টি ভালো, স্বীকার করে নিলাম।

তোমার মনের কোনে এখন নভেম্বরের মেঘ,
ঘুটে এসেছে, সাথে এনেছে ঝড়ের আগাম বানী;
উত্তর গুলো পাবো না- তাই জানতে চাইনি আর,
মিথ্যে প্রেমের অভিনয়ে কেবল বাড়েছে হয়রানি।

তোমার জন্যে কোথাও এখন নভেম্বরের মেঘ,
অনেক দূরে, বৃষ্টি বোঝাই করছে নরম হাওয়া;
আসার পথটা বড্ড সোজা, দিব্যি অধিকৃত
চিরকালেই কঠিন শুধু ‘চাইলে ফিরে যাওয়া’ ।।


Wednesday, 15 November 2017

নীল ছবি

আসলে আমরা কেউই জানতাম না ঠিক
সরিয়ে দেওয়া আসলে কাকে বলে?
একটা যুদ্ধ চলছিলো অনেকক্ষন
আচমকাই কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে গেলে
একটা তুমুল ভালবাসা তৈরি হতে গিয়ে
দুটো মানুষ কমদামে চিরশত্রুতার গল্প লিখে ফেলে;
একটা বন্দক রাখা হাওয়া বুকে টেনে নিয়ে
লেগে থাকা মানুষ দুটো ক্রমশ বোঝাতে চাইলে
কিছু যায় আসেনা তাদের কেউ কিছু ভাবলে;
একটা গিটার শ্বাস হারাচ্ছে জেনে অধিকারহীনতায় ভোগা মেয়েটা লোক দেখিয়ে বলে 'তাতে আমার কি?'
ছেলেটা নতুন করে সিগারেটটা ধরায় স্রেফ ওকে শাস্তি দেবে বলে।

আমরা কেউ খেয়াল করিনা আর;
আফসোসহীনতার মতো লোক দেখানো বাতিক হয়েছে সবার;
অস্বীকার করাটা আদতে একটা সাহসী কাজ বটে
ইগোর মতন দারুণ মদ আর একটাও নেই ইহজগতে;
কমপ্রোমাইজ করলেই আসলে ইগোর মাথা নত
এ শহরে 'প্রেম' বিষয়টা হয়েছে এলিয়েনে পরিনত।

প্লেলিস্ট বন্দক রেখে ঘুম কেনার মানে-
এ শহরের সবাই বোঝে, জানায় না কানে কানে
নিজেকে আদর করতে করতে তার শরীরেই
ডুবে মরতে চেয়েছে প্রতিটা আত্মরতি,
এ শহরের সবাই জানে, লুকাতে চায় আনমনে;
নীল ছবি তে শুধুই নোংরামি ছিল না;

কোলকাতা সব জানে...
তাই যন্ত্রণার কবিতার পপুলারিটি এ পোড়া শহরে কক্ষণো কমে না।

Thursday, 9 November 2017

তখন বসন্ত...

শরীরে বসন্ত মাস।  বিশ্বাস নিভে গেছে, যায়…  
তবু নিশ্চুপে ভালোবেসে কেউ সরে যেতে চায়;
জ্বর এখনো আসে মাঝরাতের কোলাহল শেষে
মানুষ পাগল হয় ভীষন, বিদ্রোহে আর ভালবেসে।

শরীরে বসন্ত দিন। কিছু পাতা ঝরেছিলো বেশ...
তোমাকে ছুঁয়েছিলাম শেষবার, বেইমানির অনুভূতির রেশ;
এখনো ঘুম আসেনা রাতে, এলোমেলো কিছু হাওয়া
তুমি ‘আসি’ বলোনি কিন্তু, মানে শুধুই চলে যাওয়া।

শরীরে বসন্ত কাল। আবীর হাতে কলঙ্কিনী রাধা...
কানাই কে চাই তার, অপবাদে যতই না হোক বাঁধা;
এখনো বিশ্বাস নিয়ে বসন্ত বারে বারে আসে
বাতাসে ঘৃনার সাথে আলগোছে ভালোবাসা ভাসে।

শরীরে বসন্ত দিন। কিছু পাতা ঝরেছিলো বেশ...
তখন বুঝেছিলাম ছোঁওয়ার নেশায় উত্তাপ নিঃশেষ;
ঠোঁট ছোঁওয়ানো মানা আজ, স্পর্শকাতর বলেই
ফেরোনি তুমি আর, শেষমেশ চলে গেলেই।
   
শরীরে বসন্ত মাস। বিশ্বাস নিভে গেছে যায়...
তবুও অনুভুতিগুলো পিছু ডাকে প্রেমের নিষ্ক্রিয়তায়;
এখনো জ্বরের ঘোরে স্বপ্নরা লেগে থাকে, জানো?
অবহেলায় ভেঙেছে ঘর, যায়নি আটকানো। 

Thursday, 21 September 2017

চিরকুট

এমন কি আর পারেনা হতে,তুমি আমি একই সাথে
সঙ্গী হয়েছি হঠাত কোনও মধ্যরাতের অকস্মাতে;
আটকে গেছি কামরা জুড়ে, অনেকখানি ইতস্তত
বাইরে দিয়ে আকাশটুকু জমিয়ে বসে আসর সেজে।

সরছে না তো মুখের কথা, দেখবো শুধু মুখের পানে,
শান্ত হাওয়া ঘুরবে শুধু আমার থেকে তোমার কানে
সাহস করে শুধবো খালি, আছো কেমন? কুশল তো সব?
কি নামেতে নাম্বারটা সেভ রয়েছে তোমার ফোনে?

তুমি হয়তো থাকবে চেয়ে জানলা দিয়ে অনেক দূরে
এড়িয়ে যাবে প্রশ্নগুলো না শোনার এক ভঙ্গি করে,
বার কয়েক শুধাবো আমি,ভুলে গিয়ে সব হিসাব নিকাশ
শেষমেশ তুমি পড়বে ধরা,কথার রেশের বুনন ডোরে।

থাকবে না আর বাধা কোনো, কথার পরে কথা ভাসে,
কামরা ভরা কলতানে স্মৃতিরা সব ভিড়বে এসে;
শুধোবো আমি, “এখনো কি নামতাগুলো আওড়াও ঠিক নিয়ম করে?”
“পৌনে তিনের নামতাটাকি আজও রাখো ঠোঁটের পাশে?”  

হঠাত করে জিগাবো আমি,এতো কথার ফোকর গলে,
“বিনি সুতোয় মাঞ্জা দিতে আসবে নাকি আমার ছাদে?”
কথা গুলো তুমি সরিয়ে নেবে, ফেলে আসা অস্তরাগে
থমকে যাবে সকল কথা, হারিয়ে গিয়ে প্রেমের ভয়ে।

সফর শেষের ইস্টিশানে মিলবো হয়তো একটিবারে,
আকাশ তখন মুখ ফিরিয়ে ভরবে আবার কালো মেঘে;
যাওয়ার আগে একটা কথা বলব খানিক অতর্কিতে
“এভাবে কি কাঁদো আজো একলা রাতের অন্ধকারে?”

একলা হবে কামরাখানা, আমার কাছে পড়বে ফাঁকি
ইস্তাহারে জমাই আদর, জানলা চেনায় ছোঁওয়ার ঝুঁকি।।

Saturday, 2 September 2017

পালিয়ে যাওয়ার মাশুল

হঠাত করেই পালিয়ে যাবো দেখিস,
অভিমানী কোনও ভোরের আলো ধরে;
অন্য কোনো সন্ধ্যেবেলার ভুলে
ফিরবো আবার বুকপকেট ভরে।

ততদিন না হয় আড়ার আড়াল থাকি,
রাতের বেলায় সঙ্গী মাথার বালিশ;
আবার উটকো কোনো বসন্তের মাঝে
আলগা ফুঁ-এ উড়িয়ে দিতে পারিস।

কথা কাটাকাটি চলতে থাকুক নাহয়,
সেই ছুতোতে মনটা কিছু বলে;
যে বুক থেকে পালিয়ে যাবার ঘটা,
তার ভেতরেই আটকে পড়া চলে।

ঝগড়া চলবে নিয়ম মতো মেনে
একটা বেলা ভাত ছোঁবো না রাগে;
মন্দ কথায় একটু অসুখ হোক,
সারতে গেলে স্পর্শ পেতে লাগে।

তবুও থাকুক,অসুখ বাড়ুক কিছু
অভিমানের ছাদ বনেদিই হয়;
এই বিকালে ভুল করে যারা
রাত বাড়লেই অমনি পরাজয়।

বর্ষা নামে, সঙ্গে বরফকুচি,
শরীর মাতে শিরশিরানি ঘামে;
লুকোয় ভেবে চোখ বুজে নেয় গা
আর দুটো চোখ তাকায় অন্য থামে।

এক দৌড়ে পালিয়ে যাবো কোথায়?
তখন আদর,তখন ভীষণ ভয়;
রাতের বেলায় অসুখ সারলে পরে
পালিয়ে যাওয়ার শাস্তি পেতে হয়।।

Tuesday, 11 July 2017

বাইশ বছর...

ইশ…!! এই ভাবে হাতটা কাটলো কি করে?
কতোবার বলেছি একা একা থাকো একটা রান্নার মাসি রেখে দিতেই তো পারো কত আর খরচা হবে না রাখলেও একটু সাবধানে তো কাটাকাটি করবে ছুরির কাটা, সহজে যাওয়ার নাকি; বোরোলিন মাখিয়ে দেওয়ার হাতটাও এখন নেই নিজেও তো কিছু লাগিয়ে নিতে পারতে নাকি না থাক, বাদ দাও, এই দাগটা থাকুক হাতে আলাদা করতে পারবো এক গাদা হাতের মধ্যে

তোমার পুরোনো ফ্ল্যাটটায় ওই দক্ষিন খোলা বারান্দাটায় একটা গাছ ছিলো
কতো যে অযত্নে বড় হয়েছে তার কোনও হিসাবই নেই শুধু বর্ষার জল পেয়ে পেয়ে ওরম বেড়েছিলো বারান্দায় তো জল আসে না, নয়? বাথরুমে তো অতো জল পড়ে যায় সারারাত ধরে, একটু ধরে রেখে তো আদর করার মতো করে দিতে পারতে গাছটায়, আমার দিকে ওরম হাঁ করে চেয়ে না থেকে তাহলে বেঁচে যেত বেচারা না থাক, বাদ দাও, ওটা মরেই যাক; ফালতু স্মৃতির বোঝা বয়ে বেড়িয়ে লাভটাই বা কি…!!

একটা বিড়াল পুষেছিলে না তুমি? কেমন ন্যাওটা হয়ে ঘুরতো এঘর ওঘর।
যেদিন মরলো সেদিন তো কাকে দিয়ে একটা ফেলিয়েছিলে, নিজে ফেলতে অবধি যাওনি। সেদিন রাতেও তুমি কেমন নিষ্পাপের মতো ঘুমিয়েছিলে। কোনও দুঃখ ছিলো না তোমার মনে। নিজের মধ্যেও তো একটু যুদ্ধ করতে পারতে। ওহ, তুমি তো আবার গান্ধীজীর পিছনেই ছুটে ছুটে হাঁফিয়ে গেছো। তুমি যে যুদ্ধবাদী নও সেটা ভুলেই গেছিলাম।

পাঞ্জাবী বা শার্টের প্রথম বোতামটা আটকানোর স্বভাবটা এখনো বদলাতে পারলে না।
কক্ষনো বুক দেখেনি কেউ। শুধু আমি জানি ওই আবেগের নীল রাতগুলোয় তোমার ওই বুকের পশম কি করে এতোটা অনুভুতিহীন হতে পারে। ওর ওপর আমার অধিকারটা আমি কোনও ভাবে ছেড়ে দেবো না। অনেক কবিতা লিখেছিলাম তোমার জন্যে, একটাও পড়োনি কোনোদিন। পাড়লে পারতে...
না থাক, ভালোই করেছো।  এই বেশ ভালো আছি।

তোমায় একটা চিঠি লিখবো...এটা ভাবতে ভাবতেই প্রায় বাইশটা বছর কেটে গেলো... J 

Tuesday, 4 July 2017

কারোর জন্যে...

সবটুকু তার জানা, তবু আঘাতের রাত এলে-
যে ভীষণ ভালবাসে, সেই একা রেখে যায় ফেলে...
তবু ঘুম রাখা থাকে, বই-তাকে, ওষুধের মত;
সবটুকু তার জানা, তবু তারই জন্যে আহত।।
                                                  
সবটুকু তার জানা, তবু বিদ্যুৎ চমকানোর রাতে
যে কাছে টেনে আনে,সেই ফেলে যায় একলাতে...
তবু ভাত বাড়া আছে,খাবার টেবিলে,রোজকার মত;
সবটুকু তার জানা, তবু তারই জন্যে আহত।।

সবটুকু সে জানে, তবু বাঁধভাঙ্গার রাত এলে
যে আদর করে ভীষন, সেই তাকায় না মুখ তুলে...
তবু সুখ রাখা থাকে, নিরুদ্দেশী খামে, প্রতি মাসের মত;
সবটাই তার জানা, তবু তারই জন্যে আহত।।

সবটুকু তার জানা,তবু একলা থাকা রাতের পরে
যে বিশ্বাস দেয় ভীষন, সেই ফেলে যায় অন্ধকারে...
অভ্যেস গুলো  একই আছে, অবুঝ আনাড়ি, ছোটবেলার মত;
সবটুকু তার জানা, তবু তারই জন্যে আহত।।

সবটুকু তার জানা, তবু ভেঙে যাওয়ার পরে
যে গুছিয়ে নেয়, সেই আজ ভাঙে নতুন করে...
তবু প্রেম বেঁচে থাকে, আড়ালে, প্রথম বারের মত
সবটুকু তার জানা, তবু তারই জন্যে আহত।।

Tuesday, 9 May 2017

ম্যারিটাল রেপ



প্রথমবার শরীর স্পর্শ করার সময় একরাশ জড়তা তোমায় অবশ করেছিল প্রায় ইতস্তত করেছিলে হাত বাড়াতে ওই নেশার খিদে মেটাতে সেবার তুমি পারোনি আমায় ভোলাতে, আক্ষেপ ছিল বেশ অনেকখানি আদিম সত্যের হাতছানিতে পরের বার অবশ্য খামতি রাখোনি জড়তা কাটিয়ে ক্ষুধার্ত হায়নায় মতো, ঝাঁপিয়ে পড়েছো ওই ইঞ্চি মেপে চর্বি জমানো নাভির আশেপাশে, খানিকটা হাঘরের মতোই বলা চলে। খুব কানে লাগলো, তাই না? হ্যাঁ, হা-ঘরেই নেশার মতো বার বার কাছে আসতে চাইতে তুমি অমৃতস্বাদের খোঁজে কাছে আসা যাওয়ার মিথ্যে অভ্যাসে ভুলে আমি প্রেমে পড়েছি তোমার বোকার মতো

প্রথম প্রথম আঙ্গুলের ফাঁকে জমে থাকা ঘাম চেটে খাওয়া পোশাকি ভালোবাসায় আমি ভুলেছি, একবার না বারবার, নির্বোধের মতো অপরিণত ভালোলাগা গুলো বুঝতে দেয়নি একদিন ওই হাতের ঘাম মুছতে রুমালও ভিজে যাবে, কিন্তু অন্য কোনও হাত আর এগিয়ে আসবে না ক্রমেই হারিয়ে গেছি আমি ভালোবাসা থেকে এখন আর হাত ধরে বসে রোজকারের ওই প্যানপ্যানানি কথা শুনতে ইচ্ছা হয়না বারে বারে নোংরা ছুকছুকানি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে লোভীর মতো ওঁত পেতে বসে থাকো ওই অনুভুতির জন্যে এখন আর অনুভুতি আসেনা, অভ্যাস হয়ে গেছে কেমন তোমারও আজ কাল আর খিদে মেটে না তৃষ্ণা মেটাতে এখন পুরোটা লাগে মনের সব তৃষ্ণা এখন শরীরে চলে এসেছে

নেশার ঘোরটা বেশিদিন টেকেনি; ভালোলাগা চাওয়া পাওয়া এগুলো আসতে আসতে অভ্যাসে পরিনত হলো। আমি হারিয়ে গেলাম ফোনের টপ কনট্যাক্টস থেকে ইনবক্সের ভেতরে, কষ্ট করে হাতড়াতে হয় শরীর ছুঁতে এই আকুলিটা বিরক্তিকে ডেকে আনতো, কিছুটা অধিকারের জন্ম দিয়েছিলো কুঁচকির আসে পাসে কাজ শেষ, আবার যে কে সেই পাশে বসে থাকা মানুষটার থেকে স্কাইপির মুখগুলো বেশি কাছের মনে হতো কিন্তু বাঁধা একজায়গায়, আমি তোমায় বেসেছি ভালো এই ভালবাসা থেকেই নির্লজ্জের মতো একরাশ উচ্ছ্বাস নিয়ে কথা গুলো দিনের পর দিন ভাঙ্গা টেপের মতো কানের কাছে বলে যেতাম আমি তুমি শুনতে, কিন্তু উত্তর দিতে না অভিব্যক্তিই জানিয়ে দিতো বাকিটা যে ভালোলাগা কে প্রশ্রয় দিয়ে শুরু করেছিলে কাছে আসা, যে আঘাতে করেছিলে ঘায়েল, সেই আঘাত দিয়েই আবার আমায় একলা করলে আঘাত দিয়েই মনের জোড়া,  আঘাতেই ভাঙ্গন; কোনটাতেই আওয়াজ হয়নি, শুধু একটু রক্ত ঝরেছিলো

তখন তুমি বদলে ফেলেছো ফোনের নাম্বারটা এক ছাদের তলায় বহুদিন দেখা হয় নি আর;  ফেসবুকেও ব্রাত্য আমি, পাছে তুমি নাগালে আসো অফিস যাওয়ার রাস্তাটাও গুগুল ম্যাপে খুঁজে পাওয়া যায় না, পাছে আমি পথ আটকাই তোমার কিন্তু আমি ছুটবো কার জন্যে? সেই যে এক অভ্যাস ছেড়ে, অন্য অভ্যাসের খোঁজে? তোমার আমার জীবনের ওই চ্যাপ্টারের পাতা গুলো তো তুমি নিজে হাতে আঠা লাগিয়ে বন্দী করে রেখে গেছো; পাছে কেউ না খুলে দেখে কিন্তু যে অন্ধকার ছেড়ে গেছো, তার দায় কে নেবে?

ধন্যবাদ তবে পাওনা আছে তোমার ওভাবে একলা ফেলে না গেলে আমি জানতামই না যে অন্ধকারে কেউ আমার জন্যে চাঁদ হয়ে বসে আছে আমি তার অভ্যাস নই, আমি তার উপস্থিতি, আমি তার পূর্নতা টিসু পেপারগুলো এখন ডাম্প হয়ে পড়ে আছে, কেজিদরে বেচে দেওয়ার জোগাড় ভালোলাগা গুলো এখন আমার কাছে নতুন করে হাজিরা দিয়ে যায় তোমার কথা আজকাল মনেই পড়ে না নেশার মতো লক লক করে নাভির আসে পাশে যে চর্বি গুলো চেটে বেড়াতে সেগুলোকেও বিদায় দিয়েছি আমি নিয়ম করে জিমে যাই, ঠিক যতটা নিয়ম করে রোজ সকালে স্নানের পর সিঁথিটা  রাঙ্গিয়ে তুলতাম

আমি জানি না তুমি কেমন আছো? নির্ঘাত এদিক অদিক ছুকছুক করে বেড়াচ্ছো নতুন খাবারের নেশায় লেনা দেনার পর যখন আবার নিজের ঘরে ফেরো, ওই বিছিয়ে থাকা জামা কাপড় গুলোকে একটু সরিয়ে নিয়ে ক্লান্ত শরীরটাকে এলিয়ে দাও বিছানায়; আমি জানি তখন তুমি আমায় খোঁজো হুইপ জারি করার মানুষটাই যে আর নেই তবে আমার খোঁজ তুমি রাখো, নাহলে সেদিন রাতে ভুল করে কেউ ফেসবুকে ছবি লাইক করে নাকি…!! আরো অনেক ছবিই দেখেছো, তবে একটায় ভুল করে লাইক পড়ে গেছে; সেটা আমি বুঝি আমি অন্য কারো সাথে ভালো আছি এটা দেখে বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠবে, যদিও খুশি হওয়ার কথা ছিলো সেই আঠা লাগিয়ে আসা পৃষ্ঠাগুলো এখন কেবল ইতিহাস, টানাটানি করলে ছিঁড়ে আসবে হাতে, পাতা উলটোবে না

কে যেনো বলেছিলো, “ মানুষ পেয়ে হারানো বা না পাওয়ার আঘাত সইতে পারে, কিন্তু তার অন্যের হয়ে যাওয়াটা কখনই মেনে নিতে পারে না, কোনও ভাবেই না

না মানুষ বদলায়, না অভ্যেস;  বদলায় শুধু ভালোলাগা আর অভিব্যক্তির ভাষাটুকু পরিনতি তো নিমিত্ত মাত্র



                        ************************************************

শেষের শেষ

আমি হেরে যাই… বারবার হেরে যাই আমার ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে। শীতের শুকনো পাতার মতো ঝরে পড়ে  মিশে যাই মাটির সাথে,  ভালো লাগে নত হতে ভালোবাসা...