Showing posts with label ভালোবাসা. Show all posts
Showing posts with label ভালোবাসা. Show all posts

Sunday, 24 June 2018

অন্য স্বপ্ন






মুখটা ঘুরিয়ে যেই না পিছনে দেখতে গেছি, একটা বড় বরফের বল এসে মুখে লাগলো। পিছন ফিরে দেখি ঈশিতা মুচকি মুচকি হাসছে, বুঝেই গেলাম এই কম্মটি ওরই। আমিও আর বাদ যাবো কেন, আমিও একতাল বরফ তুলে গোল্লা পাকিয়ে ছুঁড়লাম। এভাবেই বরফ ছোঁড়াছুঁড়ি, তার পর সাদা বরফে গড়াগড়ি; স্নো-ম্যান বানানো, তাকে চশমা পরিয়ে কত ছবি তুলছি। হঠাত ঈশিতা বললো, “তুমি কিছু বুঝতে পারলে?” আমি কিছুটা বিস্মিত হয়ে বললাম, “কই কিছু না তো। কেন? কি হল?” ঈশিতা কেমন একটা ভয়ে পেয়ে বললো, “ না কিছু না।” আমরা দমলাম না, বরফ নিয়ে খেলেই যাচ্ছি; কলকাতার দাবদাহ থেকে মুক্তি কিছু দিনের। তারিয়ে তারিয়ে উপোভোগ করছি। একটা সেলফি তুলতে যাবো হঠাত করে দেখি পায়ের তলাটা কেমন কাঁপছে। অ্যাভালান্স আসছে ভেবে আমি আর ঈশিতা প্রায় প্রানপনে দৌড় শুরু করছি, হঠাত করেই একটা তীব্র আওয়াজ পেলাম, “ কিরে আর কতক্ষন ঘুমাবি, অফিস থেকে তো বের করে দেবে লেট করে গেলে...” ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। দেখলাম মা ডাকছে, ওটা স্বপ্ন ছিল। মা বার বার ধাক্কা দিচ্ছিল বলে ওরম ভূমিকম্পের ফিল হচ্ছিল। ঘুম ভেঙ্গে এক লহমায় নেমে এলাম বরফের আচ্ছাদন থেকে কাঠফাটা রোদের মধ্যে। অফিস যেতে হবে, তাই আর বেশি ভাবা হয়নি। ধুর, মা আসল মজাটাই ঘেঁটে দিল।

Monday, 2 April 2018

পাহাড়ের ডাকে... ( দ্বিতীয় পর্ব )

ট্রেনের বিপত্তি


ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পর আর বিশেষ বিপত্তি হয় নি। সবাই সবার মত জায়গা বুঝে নিয়ে চুপচাপ ঘুমের ব্যবস্থা করছে। আমি চিরকালই আপার, তাই বাই ডিফল্ট সেদিকেই চলে গেছি। এবার আবার সাইড আপার, একেবারে সোনায় সোহাগা। রেলের দেওয়া কম্বলটা সুন্দর করে পেতে তার ওপর চাদর টাকে টানটান করে নিয়ে মাথার দোরগোড়ায় ক্যামেরার ব্যাগটাকে সুন্দর করে সাজিয়ে নিয়ে, সেই কি ঘুম। সারাদিনের খাটা খাটুনির পর এক পরম তৃপ্তির ঘুম। এ ব্যাপারে বলে রাখা ভালো ট্রেনের দুলুনিতে আমার ঘুমের একদম কোন প্রবলেম নেই, বরং ওই দুলুনিতে আরো জমে যায় ঘুমটা। তাই বুঝতেই পারিনি কখন সকাল হয়ে গেছে।

সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ একটা আলগা টোকা অনুভব করলাম। আধ খোলা চোখে দেখি এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত অবধি দাঁত বের করে সোহম হাসছে। কিছু ভুলভাল দাবি হবে ভেবেই আমি আবার যেই চোখ বুজতে যাচ্ছি অমনি ব্যাটা বলে, "আর কত ঘুমোবি? এবার ওঠ।" গালাগালটা মুখ ফস্কে বেরিয়েই আসছিলো কিন্তু কোন মতে সামলে নিয়ে বুঝলাম ইগনোর করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। চোখ বুজে আবার শুয়ে পড়লাম।  আধ ঘন্টা পর আবার ডাক। এবার সেই অম্লান বদনের নির্মল হাসি। সাথে একটা অমানবিক দাবি, "ভাই খুব ক্ষিদে পাচ্ছে।" এই প্রশ্নের উত্তর ছিল না আমার কাছে। তবুও একটা পজিটিভ টোনে উত্তর দিয়ে বললাম," হারামজাদা এই তো খেলি, এর মধ্যেই... একটু ওয়েট করে যা। আমি উঠলে খাবি।" এটা বলেই আবার যেই না একটু পাশ ফিরেছি অমনি ডাক আবার। বুঝলাম ভবি ভোলার নয়, তাই অগত্যা ঘুমের দফা রফা করে আমি উঠে বসলাম। সঙ্গে সঙ্গে হাসিটা আরো চওড়া হয়ে গেল। মিনিট খানেকও গেলো না মুখের গোড়ায় চা এসে গেল। বুঝলাম বেকার বেকার ক্ষুধার্ত বাঘটাকে আটকাতে চাইছিলাম। সোহম চা খেলো না, বললো বাথরুমের অবস্থা তেমন ভালো না, তাই চাপ হয়ে যাবে চা খেলে। পরিবর্তে দুটো শিঙাড়া আর দুটো প্যাকেট সস(আমার ভাগেরটাও ও খেয়েছে)। ভাবলাম এই খাওয়ার তারসে কিছুক্ষন বুঝি আরামে থাকা যাবে। কিন্তু না, খুব মেরেকেটে এক ঘন্টা যাওয়ার পরেই আবার পেটে টান। এবারেও উদ্ধার কার্যে শিঙাড়া, বাকিটা চর্বিতচর্বণ। ইতিমধ্যে পাশের কামরা থেকে সৌরভ এসে হাজির। জিনিসপত্র গুলো খালি থাকবে ভেবে আমি চলে গেলাম ওই কামরায়। বেশ ভালো জায়গা পেয়ে সকালের বাকি ঘুমটাও সেরে নিলাম।

প্রায় বেশ কিছুক্ষন পর হঠাত করে একটা টোকা অনুভব করলাম। আধ ঘুমে চোখ খুলে দেখি সৌরভ একটা ফয়েল এনে বলছে জল খাবারটা খেয়ে নিতে। আমিও দিব্যি খেয়ে নিয়ে তার পর নিজের জায়গায় ফিরে এসে দেখি সোহম তখন মহানন্দে সস খাচ্ছে। এত সস খেয়েছে ও যে পেটের থেকে প্রায় এক কেজি টমেটো বেরিয়ে যাবে। সে যাই হোক জায়গায় ফিরেই একটা ভালো খবর পেলাম, আমায় দেখেই মহানন্দে সোহম বলে উঠল, "ভাই ট্রেন একদম অন টাইম।" সততই খুশির খবর, তবে কেমন যেন খটকা লাগলো। যোধপুর এক্সপ্রেসের ব্যাপারে যা শুনেছিলাম সেটার সাথে মেলাতে পারছিলাম না। মনে মনে সব শালাকে এক হাত নেবার কথা ভেবে রাখছি, ঠিক তখনই মুঘলসরাই স্টেশনে ট্রেন ঢুকলো। সময় ১১টা, টাইমের ৫ মিনিট আগে। মনটা খুশি খুশি হয়ে উঠল, মেহেবুবাকে দেখতে কার না মন চায়...

খুশি থাকলো না বেশিক্ষন। মীরজপুর থেকে ট্রাভেল খানা ডট কমের লোভনীয় গুগুল ইমেজ দেওয়া ডাল ফ্রাই আর মিক্স ভেজ অর্ডার করা ছিল। কথা ছিল জায়গা এলেই আমাদের সিটে ডেলিভারি দেবে। কিন্তু কোথায় কি, শালা স্টেশানও ছেড়ে গেল আর আমাদের পেটটাও খালি রয়ে গেল। কাজের কাজ হল না। তড়িঘড়ি কাজ চালাতে আবার অন্য একটা ওয়েব সাইট থেকে মিক্স ভেজ অর্ডার করা হল। এবার বলা হল এলাহাবাদ স্টেশান থেকেই খাবার উঠবে। কিন্তু ভাগ্যের মার, কে বাঁচায় আর। এলাহাবাদের সঙ্গমে গঙ্গা যমুনার মিলন হলেও আমাদের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়লো না। আবার ধোঁকা, স্টেশান চলে গেল, কিন্তু না... এবারেও হল না। উপায়ন্তর না দেখে বিরক্তি চরম সীমায় পৌঁছানোর আগেই বাসি লুচি আর আধা গন্ধ লাগা আলুর তরকারি দিয়েই দুপুরের খাবারটা সারতে হল। ইতিমধ্যে নিজের জায়গায় ফিরে গেছে যোধপুর এক্সপ্রেস। টাইমের থেকে বেশ অনেক খানি পিছনে, এলাহাবাদ ঢুকতে প্রায় দু ঘন্টা মত লেট।বুঝলাম কপালে দু:খ আসছে।

কথা ছিল চারটে নাগাদ কানপুর পৌছাবে, কিন্তু চারটের সময় ট্রেন কোন এক ভাগাড়ের পাশে উদবাস্তুর মত দাঁড়িয়ে আছে। জিওর দৌলতে কোন মতে গুগুল ম্যাপটা কানেক্ট করে দেখি কানপুর কোথায় কি! মাইলের পর মাইলের দূরে, বুঝেই গেলাম কানপুর আসতে মিনিমাম সাতটা, আটটা। ফ্রাস্টেশান যাতে না বাড়ে তাই সরাসরি একটা চায়ের অর্ডার দিয়ে দিলাম। বাঙ্গালির সোজা সলিউশান যখন কিছু ভাল যাচ্ছে না, এক কাপ চা খাও। আমিও তাই করলাম।ওদিকে সোহমের সে সবের হুঁশ নেই, দিব্যি নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছে। কি আর করি তাই আমি আর সৌরভ বসে গল্প জুড়লাম। আগের দিন ইনসেন্টিভ আসায় এটাই এখন হট টপিক। তাই সেই সব নিয়েই কথায় কথায় কিছুটা টাইম কাটানো গেল। এদিকে এটা যোধপুর এক্সপ্রেস না যোধপুর কার্ট সেটা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল। গতি মন্থরতার প্রায় সমস্ত লিমিট ছাড়িয়ে গেছে এই ট্রেন।

প্রায় অনেকক্ষন গল্প করার পর ওই সাড়ে ছটা, সাতটা নাগাদ সোহমের সিটে গিয়ে দেখি ছেলে বসে বসে চিপস খাচ্ছে আর পাশে খালি দই এর কৌটো রাখা। আমায় দেখেই এক গাল হেসে বলছে," কি করব ভাই, খুব খিদে পাচ্ছিল।" আমি যে কি উত্তর দেব বুঝে পেলাম না।  তখনও কানপুর আসেনি, তাই ফ্রাস্ট্রেশানটা যে চরম সীমায় গেছে সেটা বোঝাই যাচ্ছে। তাই সোহমের অনবরত খাওয়াটাকেও দোষ দিতেও পারছি না।আমিও চরম ভাবে হতাশ। শেষমেষ রাত সাতটা তিরিশ নাগাদ কানপুরের দর্শন পাওয়া গেল। প্রায় সাড়ে তিন চার ঘন্টার ঘাটতি। খুশি হওয়ার মত কোন বিষয় না হলেও একমাত্র সিলভার লাইনিং হল মেহেবুবার আর একটু কাছে এলাম।

কাছে যাওয়ার এই অনুভুতিটা বেশ উপভোগ্য। কিন্তু সেটার একটা লিমিটেশান থাকে। আমার আর তর সইছিলো না। এদিকে সিডিউল টাইম অনুযায়ী রাত আটটায় আগ্রা ফোর্ট স্টেশানে নামার কথা। নড়ে নড়ে ট্রেন এগারোটা নাগাদ তুন্ডলাতে হাজিরা দিল। মন বলছে আর একটু খানি, খুশি প্রায় দ্বিগুন হয়ে গেছে। কিন্তু না, আবার বিপত্তি। তুন্ডলা থেকে হিসাব কষে ঠিক ২০-২৫ মিনিট লাগার কথা, কিন্তু সিংগেল লাইন হওয়ার জন্যে সিগনাল না পেয়ে প্রায় ২০-২৫ মিনিট আটকে আগ্রা ফোর্ট স্টেশানের বাইরে। মানে দেখতে পাচ্ছি স্টেশানটা, কিন্তু নেমে যেতে পারছি না। ইতিমধ্যে আর তর সইতে না পেরে ট্রেনের ক্যান্টিনের এগ বিরিয়ানিই মহানন্দে সাঁটিয়ে দিয়েছি। এই বিরিয়ানি শব্দটা বাঙালিদের কাছে খুব আদরের। হলুদ রঙের ভাতের মধ্যে ডিম ফেলে দিয়ে এগ বিরিয়ানির দাবি দিলে মেনে নেব নাকি? এরা বিরিয়ানির নামে যে প্রহসনটা চালাচ্ছে সেটা নিয়ে অবিলম্বে আমাদের বাঙালি ইউনিয়নের একটা মানহানির মামলা করা উচিত।শালা বলে সাদা ভাতে ডিমের ঝোল ফেলে বলে নাকি এগ বিরিয়ানি!!! কিন্তু খিদের মুখে নিরুপায় হয়েই গোগ্রাসে গিলতে বাধ্য হয়েছি, না হলে ও পথ আর মাড়াই নাকি!!!   তো যাই হোক, অনেক টাল বাহানার পর প্রায় পৌনে বারোটা নাগাদ পা রাখলাম আগ্রা স্টেশানে। অনেক উপেক্ষা, অনেক বিপত্তির পর আমি এলাম আমার স্বপ্নের শহরে, আমার মেহেবুবার কাছে। সময়টা যেন আর কাটছে  না....

Saturday, 24 March 2018

পাহাড়ের ডাকে... ( প্রথম পর্ব )


যাত্রা শুরু...


ট্রেনে করে যাওয়া একপ্রকার আর হয়ই না। কর্পোরেটের গুঁতোয় সকাল সন্ধ্যে নিশ্বাস নেওয়াটুকু ছাড়া একটু এদিক অদিক যে যাব সেই উপায় নেই। হপ্তান্তে গাদা খানেক মেসেজ আসতে থাকবে,"ইয়র টাইম-shit  ইজ ডিউ" বা সিটু ভর, এইসব। হ্যাপা এড়াতেই ওসব ধার না ধেরে সোজা প্লেনে চেপে বসি। একটু জ্বালা ধরানো দামটা নেয় বটে, বাট একদম ঝাক্কাস সার্ভিস। সময়টা অনেকখানি বাঁচে বলেই এসব করা। প্লেন আর ট্রেনের মধ্যে কিছু বেসিক তফাত আছে। মানে আকাশে ওড়া আর মাটিতে চলা বাদ দিয়ে, ওসব ক্লাসটেস্টের খাতার উত্তর। আমি বলছি এগুলো ছাড়াও, আছে কিছু। প্লেন হল রয়্যাল ফ্যামিলির ডিনার টেবিল। সেট অফ মেনু আছে, কিছু লোকও আছে, চাইতে পেয়ে যাচ্চেন। আর ট্রেন হল মধ্যবিত্ত ঘরের ডিনারের মত। সবাই মিলে বসে এক সাথে খাওয়া দাওয়া। আলাদা একটা ভালোবাসা আছে। সে যাই হোক পাশের লোকের সাথে আড্ডা জমিয়ে বেশ ভালভাবেই সময় কেটে যায়। আমি ট্রেনে চড়তে খুব ভালবাসি। জানলার ধারে বসে হাওয়া খেতে খেতে চলমান গাছ পালা গুলো কে পিছনে এগিয়ে যাওয়ার ভাললাগাটা পয়সা দিয়ে কেনা যায় না। আমিও তাই সেই ভালোবাসার টানেই চলেছি আমার মেহেবুবের কাছে, তাজমহল।

বিয়ের পর মা বাবা ঘুরতে গেছিলো আগ্রা। তাজমহল তখন থেকেই ছবিতে দেখে যাচ্ছি আর আড়ালে প্রেম জমাচ্ছি। কাছে যেতে চেয়েছি বারে বার,কিন্তু যাওয়া হয়নি। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই দুজন দুজন কে কাছে ডেকেছি। এবার মিলবো। দিল্লি ঘুরে মানালি যাওয়ার আগে টুক করে একটু দেখা করে আসার প্ল্যান বানিয়ে ফেললাম। সব প্ল্যান জমিয়ে এবার যাওয়ার পালা। আই.আর.সি.টি.সি-র ওয়েবসাইট খুলে খটা খট লিখে টিখে তিনটে টিকিট বুক। আমি ছাড়াও দুই অধমও যাবে আমার সাথে। এবার পালা অফিস সামলানোর। প্রায় দু তিন মাস আগে একটা মেল ঠুকলাম, 'এত থেকে এত দিন অব্ধি ছুটি চাই'। মেল যেই না পাওয়া, টুক করে ডাক পড়লো কেবিন ঘরের থেকে।
- এতদিনের ছুটি কেন চাই?
- বেড়াতে যাচ্ছি।
- আচ্ছা, তা বাকিদের সাথে আলোচনা করেছিস?
- হ্যাঁ। সবাই কে জিজ্ঞেস করেই প্ল্যান করেছি আর কি।
- দেখ, ফ্র‍্যানকলি স্পিকিং আমার কোন আপত্তি নেই এই ছুটি নেওয়া নিয়ে। তোর ছুটি তুই নিবি। কিন্তু তুই তো জানিস তুই একজন গুরুত্বপূর্ণ রিসোর্স। কিছু আরজেন্ট কাজ এলে তোর এই ছুটি বাতিলও
হতে পারে।
- হুম।

মনে মনে প্ল্যান করেই নিলাম, আর অপেক্ষা না। ছুটি না পেলে শালা ভুঁয়ো মেডিক্যাল সার্টিফিকেট লিখিয়ে হলেও আমি যাব।  

নতুন করে বাঁশ বাগান গোছের কোন কাজ আসেনি আর, আমি ও মহানন্দে; সিক লিভ গুলো বেঁচে যাওয়ার জন্যে। যতদিন আসছে তত আনন্দ বাড়ছে। শেষ দুদিন তো ভালো করে কাজই করতে পারলাম না। অবশেষে ২৩শে মার্চ, আমাদের যাত্রা শুরু। অফিস করে হুড়মুড় করে অফিস বাসটা ধরলাম। বাস ছাড়া থেকে খুশীর শেষ নেই আর, রাত সাড়ে এগারোটা যেন মনে হচ্ছে শত আলোকবর্ষের দূরে। পাশের সিট থেকে একজন বললো,"এত ফুর্তি কিসের?" আমিও মুখ ফস্কে বলে ফেললাম,"ডেটে যাচ্ছি।" শুনেই সে আমায় একটু মেপে নিয়ে বললো,"তাই নাকি! কোথায়?" ইতিমধ্যে আমি বুঝে গেছি যে একটা আলটপকা কথা বলে ফেলেছি। তাই ছাড়া সুতো গোটাতে একটা ব্যর্থ চেষ্টা করে বললাম," আসলে আজ বেড়াতে যাচ্ছি। তাই আর কি..." কিছুটা ভাবলেশহীন হয়ে প্রশ্ন করে বললো," কোথায়?" উত্তর এলো,"আগ্রা"। "অ আচ্ছা। তা কত দিনের ছুটি মারলে?" এবার কেমন যেন একটা প্রাউড ফিলিং মন থেকে বেরিয়ে এলো। কলার তোলাটা নেহাতই আনপ্রফেশানাল হয়ে যাবে তাই, নাহলে ওটা তুলেই উত্তর দিতাম,"১০ দিন"। উত্তরটা পেয়ে কোমাতে চলে না গেলেও মনে মনে যে একদম খুশি হতে পারলেন না সেটা পরিষ্কার বোঝা গেল। অত্যুতসাহী কথোপকথন কেমন যেন চেন টেনে থামিয়ে দেওয়ার মত থেমে গেল। "ও আচ্ছা, ভালো।" এটাতেই কথার শেষ। আর একবার ফিরেও তাকালেন না পুরো রাস্তা। নামার আগে অন্য এক দাদা এসে সিমরান জি লে আপনি জিন্দেগি মার্কা ডায়লগ দিয়ে যেতে ওনার সর্বাঙ্গ যে জ্বলে গেছে সেটা বুঝতে টি এম সি থুড়ি বুদ্ধিজীবি হতে হয় না। বাস থেকে নেমেই চোঁ চাঁ দৌড় বাড়ির দিকে, পাক্কা নটায় বাড়িতে। চোখের নিমেষে বাকি মাল পত্র গুছিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। আর কিছুক্ষনের অপেক্ষা। তার পরেই সেই মধুর মিলন। গুরুজনদের আশীর্বাদ নিয়ে গুটি গুটি পায়ে বাড়ি থেকে বের হলাম ওই দশটা পয়ত্রিশ নাগাদ। মিনিট পাঁচেক দেরি হয়ে গেল। আসলে তেত্রিশ কোটি দেবতা দের সাথে লিংক করে বেস্ট উইশ রিসিভ করতেও তো বেশ খানিক টাইম লাগবে, তার ওপর জিওর যা অবস্থা, আরো সময় লেগে গেল। তো সে যাক গে, সময় মত স্টেশানে এসে দেখি একদম ঠিক টাইমে আছে ট্রেন। ১১টা ৪০; সব মায়া পিছনে ফেলে যাত্রা শুরু যোধপুর এক্সপ্রেসের। এক অন্য রকম ভালোলাগা কে সাথে নিয়ে স্টেশান ছাড়লো ট্রেন। আমরাও চললাম। আপাতত এই কটা দিনের জন্যে মুক্তি। টা টা....

Friday, 26 January 2018

বইমেলার প্রেম





উঠতি বয়সের নেশাই হলো হুজুকে মাতা। সে সরস্বতী পুজোর ভাসান হোক কি কিম্ভুত কিমাকার গানের ভাইরাল হয়ে ওঠা, হুজুগেই চলছে দুনিয়া। বইমেলা যাওয়া এরমই এক হুজুগ। কোনো বাঙালি আড্ডায় একবার মুখ ফস্কে বলে ফেলুন আমি বইমেলা যেতে পছন্দ করি না, পরের বার সেই আড্ডায় আর ডাকবেই না আপনাকে এটা আমি হলফ করে বলতে পারি। আর শুধু বইমেলা যাওয়াই না, ব্যাগ বোঝাই করে বই না কিনে আনলে সেই বইমেলার কোনো মাহাত্ম্যই নেই। সে বই পড়ুন না পড়ুন, ব্যাগ যেন ভরা থাকে। বাঙালি হিসাবে একটু গর্বই বোধ হয় ওই ব্যাগটা দেখলে, মুখে চোখে কেতা কেতা ভাব, “দেখ কতো বই কিনেছি…!!!” এই চক্করে রাঁধুনি রাখা বাড়ির কর্ত্রীর হাতেও “বেনুদির স্পেশাল ৫০ রেসিপি” ঘুরতে দেখেছি। হুজুগটাই হলো আসল কথা।

Wednesday, 17 January 2018

অভীপ্সা




আমি প্রেমে পড়তে চাই।
আমি, তোমার প্রেমে পড়তে চাই প্রতিদিন।
লাল নীল সংসারের মায়াপদ্যগুলো
নুনের মত ঘিরে রেখেছে আমার ঘুমভাঙা চোখ।
মন্দ স্বপ্নের ঘোরে সেই কবে থেকে ভয় পেয়েছি
তুমিই কি হবে সে যে স্বপ্নে ভুলিয়েছি?

Sunday, 7 January 2018

শীতল প্রেম



তোমার জন্যে এখনও যেটুকু আছে-
সেটুকু পেয়েছি, ঢেকেছি নিজের কাছে।
কেননা প্রেমের আইনে নিষেধ জারি
বুকের মধ্যে তোমাকে রাখতে পারি?

Saturday, 30 December 2017

অনুরাগ



দীর্ঘ ভয়, দীর্ঘ শোক, দীর্ঘ অসুখ তার,
অভিসম্পাতে প্রিয় গান হয়ে
ফিরে আসো বার বার।

বাইরে শীতের রোদের আমেজে উলের ছোঁওয়ার রেশ,
ক্যাপুচিনো হাতে নিয়ম মানাতে
তুমিই জানো বেশ।

দেওয়াল জুড়ে সাজিয়ে যতনে, মুহূর্তগুলো বন্দী,
চেনা মাফলারে এড়িয়ে চলা
তোমার আদিম ফন্দী।

একা সোয়েটার, দীর্ঘমেয়াদী- ডার্ক সার্কেলে বোনা,
তোমায় ছেড়েছি তোমারই জন্যে
তাই প্রিয় যন্ত্রনা।

দূর থেকে প্রেমে জন্মবদল, আবার ফিরবো দেখো;
ততদিন তুমি আবেগী বাষ্পে
পরিনত হতে শেখো।

কথায় কথায় তর্কের সাথে দুরত্ব বাড়ে যত
প্রেমটা জমে শীতের দিনে
নলেন গুড়ের মতো।

প্রেমের মধ্যে যুদ্ধ অনেক, অভ্যেস বারোয়ারি;
আবার আমরা মিলবো যখন
ফিরবো তোমার বাড়ি।

আঙ্গুলে আঙ্গুলে রটে যাবে ফের এই কাছে আসাআসি,
নুনের কৌটো বুঝে যাবে শেষে
আসলে ভালোই বাসি।

প্রেমের আঁচে,অধিকারে বাড়ে ঠোঁটের নীচের ব্রন
তোমাকে ফেলবো, ভাঙবো
তবু ছাড়বোনা কক্ষনো।




Saturday, 9 December 2017

বৃষ্টির পদ্য




আকাশ পানে মুখটা করে বৃষ্টি বলে যেই না ডাকা
হুড়মুড়িয়ে পড়লে ঝরে, এদিক অদিক সবটা ভুলে;
ভাবলাম আমি রাখবো কোথায়, ভরবো নাকি ডেকচিখানা?
নাকি আবার ভাসিয়ে দেবো কাগুজে এই নৌকো ভরে।

আটকে দিলাম নিজের কাছেই, পকেটভরে বর্ষা আমার
নিজের যত দাবিগুলো বললাম আমি ফিসফিসিয়ে,
কবিতা আর সোঁদাগন্ধ এখন থেকে নেই যে তোমার
ওসবগুলো আমার হবে, দিলে দাও নয় নেবো ছিনিয়ে।

আরো চাইলাম অনেক কিছু, যেমনটা ঠিক সকলেই চায়
থাকবে তুমি আমার কাছে সারা জীবন ঠিক এভাবে;
বৃষ্টি তখন হেসেই পাগল, কথা শোনার নেই কোনো দায়
রাগেই আমি বলে বসলেম অসভ্যতা শেখো কিভাবে?

হাসি থামিয়ে বৃষ্টি তখন বলছে আমার কানের পাশে
কবিতা খানা তোমায় দিলাম, বাকিগুলো নয় আমারই থাক;  
তবে কি তুমি চলে যাবে? থাকবে না আর আমার কাছে?
বৃষ্টি বলে আসবো আবার যখন পাবো তোমারই ডাক।

একলা আমি আজও ডাকি ছাদ পেরিয়ে মাঝে মাঝে
আসেও অনেক সজ্জা নিয়ে, নানান মেঘে সাজিয়ে বাহার;
আসা যাওয়ার মাঝেও আজো দুঃখ সুখের কি ধুন বাজে,
কাছে এসেও পর আজও সে, কখনোই যে হয়নি আমার।। 




Thursday, 9 November 2017

তখন বসন্ত...

শরীরে বসন্ত মাস।  বিশ্বাস নিভে গেছে, যায়…  
তবু নিশ্চুপে ভালোবেসে কেউ সরে যেতে চায়;
জ্বর এখনো আসে মাঝরাতের কোলাহল শেষে
মানুষ পাগল হয় ভীষন, বিদ্রোহে আর ভালবেসে।

শরীরে বসন্ত দিন। কিছু পাতা ঝরেছিলো বেশ...
তোমাকে ছুঁয়েছিলাম শেষবার, বেইমানির অনুভূতির রেশ;
এখনো ঘুম আসেনা রাতে, এলোমেলো কিছু হাওয়া
তুমি ‘আসি’ বলোনি কিন্তু, মানে শুধুই চলে যাওয়া।

শরীরে বসন্ত কাল। আবীর হাতে কলঙ্কিনী রাধা...
কানাই কে চাই তার, অপবাদে যতই না হোক বাঁধা;
এখনো বিশ্বাস নিয়ে বসন্ত বারে বারে আসে
বাতাসে ঘৃনার সাথে আলগোছে ভালোবাসা ভাসে।

শরীরে বসন্ত দিন। কিছু পাতা ঝরেছিলো বেশ...
তখন বুঝেছিলাম ছোঁওয়ার নেশায় উত্তাপ নিঃশেষ;
ঠোঁট ছোঁওয়ানো মানা আজ, স্পর্শকাতর বলেই
ফেরোনি তুমি আর, শেষমেশ চলে গেলেই।
   
শরীরে বসন্ত মাস। বিশ্বাস নিভে গেছে যায়...
তবুও অনুভুতিগুলো পিছু ডাকে প্রেমের নিষ্ক্রিয়তায়;
এখনো জ্বরের ঘোরে স্বপ্নরা লেগে থাকে, জানো?
অবহেলায় ভেঙেছে ঘর, যায়নি আটকানো। 

Thursday, 21 September 2017

চিরকুট

এমন কি আর পারেনা হতে,তুমি আমি একই সাথে
সঙ্গী হয়েছি হঠাত কোনও মধ্যরাতের অকস্মাতে;
আটকে গেছি কামরা জুড়ে, অনেকখানি ইতস্তত
বাইরে দিয়ে আকাশটুকু জমিয়ে বসে আসর সেজে।

সরছে না তো মুখের কথা, দেখবো শুধু মুখের পানে,
শান্ত হাওয়া ঘুরবে শুধু আমার থেকে তোমার কানে
সাহস করে শুধবো খালি, আছো কেমন? কুশল তো সব?
কি নামেতে নাম্বারটা সেভ রয়েছে তোমার ফোনে?

তুমি হয়তো থাকবে চেয়ে জানলা দিয়ে অনেক দূরে
এড়িয়ে যাবে প্রশ্নগুলো না শোনার এক ভঙ্গি করে,
বার কয়েক শুধাবো আমি,ভুলে গিয়ে সব হিসাব নিকাশ
শেষমেশ তুমি পড়বে ধরা,কথার রেশের বুনন ডোরে।

থাকবে না আর বাধা কোনো, কথার পরে কথা ভাসে,
কামরা ভরা কলতানে স্মৃতিরা সব ভিড়বে এসে;
শুধোবো আমি, “এখনো কি নামতাগুলো আওড়াও ঠিক নিয়ম করে?”
“পৌনে তিনের নামতাটাকি আজও রাখো ঠোঁটের পাশে?”  

হঠাত করে জিগাবো আমি,এতো কথার ফোকর গলে,
“বিনি সুতোয় মাঞ্জা দিতে আসবে নাকি আমার ছাদে?”
কথা গুলো তুমি সরিয়ে নেবে, ফেলে আসা অস্তরাগে
থমকে যাবে সকল কথা, হারিয়ে গিয়ে প্রেমের ভয়ে।

সফর শেষের ইস্টিশানে মিলবো হয়তো একটিবারে,
আকাশ তখন মুখ ফিরিয়ে ভরবে আবার কালো মেঘে;
যাওয়ার আগে একটা কথা বলব খানিক অতর্কিতে
“এভাবে কি কাঁদো আজো একলা রাতের অন্ধকারে?”

একলা হবে কামরাখানা, আমার কাছে পড়বে ফাঁকি
ইস্তাহারে জমাই আদর, জানলা চেনায় ছোঁওয়ার ঝুঁকি।।

Saturday, 2 September 2017

পালিয়ে যাওয়ার মাশুল

হঠাত করেই পালিয়ে যাবো দেখিস,
অভিমানী কোনও ভোরের আলো ধরে;
অন্য কোনো সন্ধ্যেবেলার ভুলে
ফিরবো আবার বুকপকেট ভরে।

ততদিন না হয় আড়ার আড়াল থাকি,
রাতের বেলায় সঙ্গী মাথার বালিশ;
আবার উটকো কোনো বসন্তের মাঝে
আলগা ফুঁ-এ উড়িয়ে দিতে পারিস।

কথা কাটাকাটি চলতে থাকুক নাহয়,
সেই ছুতোতে মনটা কিছু বলে;
যে বুক থেকে পালিয়ে যাবার ঘটা,
তার ভেতরেই আটকে পড়া চলে।

ঝগড়া চলবে নিয়ম মতো মেনে
একটা বেলা ভাত ছোঁবো না রাগে;
মন্দ কথায় একটু অসুখ হোক,
সারতে গেলে স্পর্শ পেতে লাগে।

তবুও থাকুক,অসুখ বাড়ুক কিছু
অভিমানের ছাদ বনেদিই হয়;
এই বিকালে ভুল করে যারা
রাত বাড়লেই অমনি পরাজয়।

বর্ষা নামে, সঙ্গে বরফকুচি,
শরীর মাতে শিরশিরানি ঘামে;
লুকোয় ভেবে চোখ বুজে নেয় গা
আর দুটো চোখ তাকায় অন্য থামে।

এক দৌড়ে পালিয়ে যাবো কোথায়?
তখন আদর,তখন ভীষণ ভয়;
রাতের বেলায় অসুখ সারলে পরে
পালিয়ে যাওয়ার শাস্তি পেতে হয়।।

Tuesday, 11 July 2017

বাইশ বছর...

ইশ…!! এই ভাবে হাতটা কাটলো কি করে?
কতোবার বলেছি একা একা থাকো। একটা রান্নার মাসি রেখে দিতেই তো পারো। কত আর খরচা হবে। না রাখলেও একটু সাবধানে তো কাটাকাটি করবে। ছুরির কাটা, সহজে যাওয়ার নাকি; বোরোলিন মাখিয়ে দেওয়ার হাতটাও এখন নেই। নিজেও তো কিছু লাগিয়ে নিতে পারতে নাকি। না থাক, বাদ দাও, এই দাগটা থাকুক হাতে। আলাদা করতে পারবো এক গাদা হাতের মধ্যে।

তোমার পুরোনো ফ্ল্যাটটায় ওই দক্ষিন খোলা বারান্দাটায় একটা গাছ ছিলো।
কতো যে অযত্নে বড় হয়েছে তার কোনও হিসাবই নেই। শুধু বর্ষার জল পেয়ে পেয়ে ওরম বেড়েছিলো। বারান্দায় তো জল আসে না, নয়? বাথরুমে তো অতো জল পড়ে যায় সারারাত ধরে, একটু ধরে রেখে তো আদর করার মতো করে দিতে পারতে গাছটায়, আমার দিকে ওরম হাঁ করে চেয়ে না থেকে । তাহলে বেঁচে যেত বেচারা। না থাক, বাদ দাও, ওটা মরেই যাক; ফালতু স্মৃতির বোঝা বয়ে বেড়িয়ে লাভটাই বা কি…!!

একটা বিড়াল পুষেছিলে না তুমি? কেমন ন্যাওটা হয়ে ঘুরতো এঘর ওঘর।
যেদিন মরলো সেদিন তো কাকে দিয়ে একটা ফেলিয়েছিলে, নিজে ফেলতে অবধি যাওনি। সেদিন রাতেও তুমি কেমন নিষ্পাপের মতো ঘুমিয়েছিলে। কোনও দুঃখ ছিলো না তোমার মনে। নিজের মধ্যেও তো একটু যুদ্ধ করতে পারতে। ওহ, তুমি তো আবার গান্ধীজীর পিছনেই ছুটে ছুটে হাঁফিয়ে গেছো। তুমি যে যুদ্ধবাদী নও সেটা ভুলেই গেছিলাম।

পাঞ্জাবী বা শার্টের প্রথম বোতামটা আটকানোর স্বভাবটা এখনো বদলাতে পারলে না।
কক্ষনো বুক দেখেনি কেউ। শুধু আমি জানি ওই আবেগের নীল রাতগুলোয় তোমার ওই বুকের পশম কি করে এতোটা অনুভুতিহীন হতে পারে। ওর ওপর আমার অধিকারটা আমি কোনও ভাবে ছেড়ে দেবো না। অনেক কবিতা লিখেছিলাম তোমার জন্যে, একটাও পড়োনি কোনোদিন। পাড়লে পারতে...
না থাক, ভালোই করেছো।  এই বেশ ভালো আছি।

তোমায় একটা চিঠি লিখবো...এটা ভাবতে ভাবতেই প্রায় বাইশটা বছর কেটে গেলো... J 

শেষের শেষ

আমি হেরে যাই… বারবার হেরে যাই আমার ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে। শীতের শুকনো পাতার মতো ঝরে পড়ে  মিশে যাই মাটির সাথে,  ভালো লাগে নত হতে ভালোবাসা...