Saturday, 3 June 2017

অব্যক্ত প্রেম




টেক- ওয়ান 

সোমবার। কর্মব্যস্ততার প্রথম দিনের শুরু। আইট অফিসে কাজের এতোটাই চাপ থাকে এই দিনে যে মাথা তুলে তাকানোর অবকাশটাও পাওয়া যায় না। অটোমেশানের চাপে, এই দিনটাতে নিশ্বাস প্রশ্বাস, হাই তোলা, ক্ষিদে পাওয়া এসবগুলো অটোমেট করতে পারলে বুঝি ভালো হত। যাই হোক, সবাই মোটামুটি মাথা গুঁজে কাজ করে চলেছে। ৭০-৮০ জন ভরা অডিসিতে শুধুই খটাখট কিবোর্ড টেপার আওয়াজ। “শুনে যা, শুনে যা, খোলা…” এক প্রকার আওয়াজ কানফাটা আওয়াজ করে ফোনটা বেজে উঠলো সাবর্ন্যর। মরার মতো কিউবিকলে সবাই চেয়ার ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখলো। এদিক ওদিক থেকেও বেশ কিছু উঁকি ঝুঁকি ভেসে এলো বলে, যারা আসলে গানটা জানে। রিংটা পুরো হতে না দিয়েই সাবর্ন্য ফোনটা রিসিভ করে নিলো। কথা বলা শেষে প্রথম প্রশ্ন, 

-                      ভাই, এটা কি গান?? (বিস্ময়ে) (অদিতির থেকে…)

-                      সত্যি মাইরি, এসব গান কোথা থেকে পাস?? (বিরক্তিসূচক বিস্ময়) (পিনাকির থেকে…) 

-                      ওসব তোমরা বুঝবে না। এটা শুধু গান না যে, একটা ইমোশান। (হেসে) (সাবর্ন্য)

-                     বাবাহ্‌…… তুই পারিস ও বটে। (হেসে) 

সবাই সেদিন হেসেছিলো, মানে বোঝেনি বলেই হয়তো। সবাই তো আর সবটা বোঝে না............ 

 
টেক-টু



কোনোভাবেই মেনে নিতে আপত্তি নেই যে আমি পরোকীয়া করেছি। হ্যাঁ, মিথ্যে বলছি না, পরকীয়া আমিও করেছি। হ্যাঁ হয়তো হাঘরের মতো না, তবে এক দুবার। অপরাধ...!! হ্যাঁ, অপরাধ বললেও বলা যেতেই পারে। কিন্তু প্রথম ভালোবাসাকে আজও ভুলতে পারিনি আমি। হয়তো প্রথম প্রেম এরমই হয়, সাথে না থেকেও হয়তো সারাজীবন রয়ে যায়। কখনো কখনো ক্ষনিকের হটকারিতায় অন্যের রূপে ভুলেছি, অথবা গুনে; আবার কখনো দেখাবো বলেও মিথ্যে প্রেমের নাটক করে গেছি স্কুলের বাচ্চাদের মতো। কিন্তু আমি ভালোবেসেছি তাকেই। মায়ের মতো শ্রদ্ধা করেছি, প্রেমিকার মতো ভালোবেসেছি, মেয়ের মতো আগলে রেখেছি সব বাধা বিপদ থেকে। মোহনবাগান বুঝি এমনই একটা অনুভূতি।

          ঘটির বাড়ি, বাই ডিফল্ট মোহনবাগান। অন্যদিকে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। উত্তরাধিকার সুত্রেই প্রথম আলাপ এর সাথে। সেই লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম, স্কুল-পালানো কাপেল গুলোর মতো। পরিনতি নেই, আছে অনুভূতি। নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক অদ্ভুত অনুভূতি। ফুটবলের সাথে আলাপ অনেক পরে, ২০০২ এ পরে তো বটেই। তখন ফুটবল বলতে শুধু বুঝি হলুদ জামা আর নীল প্যান্ট। ক্রিকেটের সাথে তখন এক প্রকার মাখামাখি ভালোবাসা। শীতকালের আঙ্গুল ছেঁড়া গ্লাভস পরে ভর দুপুরেই চলতো অনবরত ডান আর বাঁ হাতে ব্যাটিং। ২০০২ থেকে আসতে আসতে এই দিকে সরে আসা। তার পর থেকেই গোগ্রাসে গেলা শুরু। ইংল্যান্ডে তখন জমিয়ে খেলা চলছে, নামটাও পড়তে পারতাম না তখন। সাদা কালো টিভি, তাই বুঝতেও পারতাম না ভালো করে কোনটা কি টিম। তবে একটা ইংল্যান্ডের টিম বেশ মনে ধরতো। জামার রংটা ওই ঘন কালো লাগতো, আর প্যান্টটা সাদা। এর বেশি উদ্ধার করতে পারিনি। বাবা পরে বলে দিয়েছিলো এটা ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। তো সে যাই হোক, একদিন দেখি দুই দলের খেলা চলছে, পুরোদস্তুর কাদা মেখে। আমি তো অবাক, বাবা কে জিজ্ঞাস করলাম, 

- এ সব কি দেখছো?? কি নোংরা। ছিঃ। কাদা মেখেছে দেখো…!! আর তুমিই বা এতো চেঁচাচ্ছ কেন? কার জন্যে?? 

- ওরে এসব ওই ঠান্ডার দেশের ফুলহাতা জামা পরে খেলা না রে, এটা হলো মাটির টান। 

- তুমি কোন দিকে? 

- (‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’ লুক নিয়ে (পড়ুন বিস্ময় নিয়ে)) এটা আবার জিজ্ঞাস করার মতো কথা হলো…!! ওই যে সবুজ আর মেরুন জার্সি দেখছিস, ওরাই আমাদের। 

- ওরা কারা? 

- ওরা মোহনবাগান। আমরা মোহনবাগান। 

কথাটা খুব মনে ধরেছিলো সেদিন। না বুঝেই ভালোবেসে ফেলেছিলাম, সেই স্কুল পালানো প্রেমের মতো। আজও আই ভুলিনি। আমার প্রথম প্রেম।

সেই বয়সে একটা হিরো সাজার খুব বাজে হিড়িক ছিল। আর সব থেকে সোজা উপায় ছিলো কিছু বিদেশি নাম গাঁতিয়ে নিয়ে বাকিদের একদম চিৎপটাং করে দেওয়া। ব্যাস সবাই লেগে পড়েছিলো। ফুটবলে কোন ক্লাব সেরা সেই নিয়ে একদিন তুমুল তর্ক। এরম সব নাম উঠে এসেছিলো , ভাবাই যায় না। আমি তখন হেরে যাওয়ার ভয়ে মোহনবাগান বলতে পারিনি, ম্যানচেস্টারের আশ্রয় নিয়েছিলাম। সবুজ মেরুন মনটা সেদিন এর গুরুত্ব বুঝতে পারেনি। ভুল করে ফেলেছিলো। 

টেক- থ্রি 


কলেজ চলছে তখন। ওই ২০১২-১৩এর কথা। মনে শান্তি নেই, মুখ দেখানোর উপায় নেই। ততদিনে মোটামুটি বুক চিতিয়ে বলার সাহসটা জুগে গেছে। কিন্তু গোদের অপর বিষ-ফোঁড়া এই পাঁচ বছরের ট্রফির খরা। খরা বলে খরা, পাঁচটা বছর শালা। ভরসা বলতে শুধু ওই আর্সেনাল। কোন বাদানুবাদ হলেই একদম ঢালের মতো এনে খাঁড়া করতাম। কিন্তু এভাবে আর কতদিনই বা চলতে পারে। যাই করি কিছুই ক্লিক করে না। শেষমেষ রাগে দুঃখে অন্য পক্ষ নিলাম। অন্যপক্ষ বলতে কিন্তু লাল হলুদ বলছি না, এটা একদম নির্দল প্রার্থী; কোনো ইমপ্যাক্ট নেই, কিন্তু ইম্পর্ট্যান্ট ভোট কাটাকাটি করে বেরিয়ে যায়। এদিকেও তাই। এটা লাল-সাদা। অনেক অভিমানে আইএসএল দেখতে লাল সাদা জার্সি পরে মাঠে বসেছিলাম। মন বলেছিলো, এ জার্সি তোকে মানায়না ভাই। এ রঙ চাপিয়ে দেওয়া। আমার চামড়ার নয়।  কন্টিনিউ করতে পারিনি, সরে এসেছি। আদতে ব্যাপারটা হয়েছে প্রথম প্রেমিকা অনেক দিন খোঁজ নেয় না, স্টপগ্যাপে এই নতুন জন। কিন্তু যেই হোক না কেন, প্রথম প্রেম কি আর ভোলাতে পারা যায়? দুদিন পরেই বোঝা গেছে যে এ জিনিস বেশি দিনের না। তাই সরে আসা। মন সেদিনও বলেছিলো, আজও বলে, যত যাই আসুক, রক্তের রঙ কিন্তু সবুজ মেরুন।
“যেদিন নিথর হবে দেহ, ফুরিয়ে যাবে প্রান,
  হৃদয় চিরে দেখিস, পাবি মোহনবাগান…”

ঘোর কাটতেই আবার ঘরে ফেরা। সব মায়া দুঃখ সাথে নিয়েই আবার গলা ফাটানো। ২০১৫ তে। ৮৬ মিনিটেওই বাঁক খাওয়ানো হেডটা জালে জড়াতেই আর রাখতে পারিনি নিজেকে। চোখটা হার মেনেছিলো আবেগএর কাছে। মানে আমার মতো ছেলেও কাঁদতে পারে এটা প্রায় ইতিহাসে লেখার মতো। সেদিন পারিনি। মুখের কথা সেদিন হেরে গেছিলো, উত্তর দিয়েছিলো চোখ। 
পাড়ায় পাড়ায় সেদিন অনেক র‍্যালি হয়েছিলো,ডেকে ডেকে মিষ্টি খাওয়ানো, মিছিল গান বাজনা এসব তো তখন এদিক ওদিক দিয়ে বেরিয়ে আসছে। অবশ্যে সুখের দিনে অনেককেই এসবে পাওয়া যায়। তাই এগুলো যে হবেই সেটা বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না তেমন। আমিও নেচেছিলাম সেদিন। তবে আমার নাচের মহড়াটা তার আগের পাঁচ বছর ধরে নেওয়া, তাই ভালো যে হবে সেটাই কাম্য। 


রি-টেক- ওয়ান
          অফিসের লোকেদের হাসি থামেনি, যতবারই ফোন বেজেছে ততবারই হেসে গেছে ওরা । 

-     -  সাবর্ন্য, ভাই কত টাকা দিলে এই গানটা বদলাবি? (হেসে) 

-       তুমি ভাবছো পয়সা দিয়ে গানটাকে কিনে নেবে?? :-D (হেসে)

-       আরে না না। সেটা ন। বাট বিশ্বাস কর খুব বাজে লাগছে, আর কানে লাগছে। 

-       তা বুঝি? আমি তো এটা বাড়িতে লাউড স্পিকারে চালিয়ে শুনি। 

-       কি এমন গান ভাই?

-       “ শুনে যা শুনে যা খোলা রেখে কান/ সবুজ মেরুন পতাকা বাতাসে টানটান; / চিরকাল রেলায় আছে থাকবে মোহনবাগান,/ চিরকাল মাঠ কাঁপিয়ে খেলবে মোহনবাগান” শুরুতেই বলছিলাম না, এটা কোনো গান না, একটা ইমোশান। 

-       মোহনবাগানের জন্যে এতো কিছু? ম্যাঞ্চেস্টার হলেও নাও বা বুঝতাম। তাবলে মোহনবাগান...!! 

-       জানি তো, তোমরা বুঝবে না। এবার কাজ করি। (হাসি)
পুরোনো প্রেমের গল্প যখন কাউকে বলা হয়, তখন পুরোটা শুনে প্রথম কথা সেটাই বলে, গেছে ভালোই হয়েছে, এবার নতুন কিছু কর। ওসব নিয়ে পড়ে থাকিস না সাম্নের দিকে এগো। মুভ অন। কিন্তু তারা এটা বোঝে না যে প্রথম প্রেম ফেলে কখনো যাওয়া যায় না। এই যে দেখলেন তো, পারলাম মোহনবাগানকে ছেড়ে জেতে? হাত ফেরত হয়েও কোথাও জেনো রয়ে গেছে আমার মধ্যে। শুধু আমি না, সবার মধ্যেই থেকে যায় প্রথম প্রেম। একটা “জুদা হোকে ভি, তু মুঝমে কাহি বাকি হ্যায়” টাইপ ফিল থেকেই যায়। আসলে ভালোবাসাটা একবারই আসে, একজনের জন্যেই আসে। বাকি গুলো তো প্রথমটাকে পূর্ন করার প্রয়াস মাত্র। 

আমি এখনো তার প্রেমেই ডুবে আছি, নতুন করে রজ তার প্রেমে পড়ি বার বার। সেসব তো আর সবার জন্যে নয়। ভালোবাসা একটাই, ভালোবাসার রঙ সবুজ মেরুন । 

                                       জয় মোহনবাগান...

Tuesday, 9 May 2017

ম্যারিটাল রেপ



প্রথমবার শরীর স্পর্শ করার সময় একরাশ জড়তা তোমায় অবশ করেছিল প্রায় ইতস্তত করেছিলে হাত বাড়াতে ওই নেশার খিদে মেটাতে সেবার তুমি পারোনি আমায় ভোলাতে, আক্ষেপ ছিল বেশ অনেকখানি আদিম সত্যের হাতছানিতে পরের বার অবশ্য খামতি রাখোনি জড়তা কাটিয়ে ক্ষুধার্ত হায়নায় মতো, ঝাঁপিয়ে পড়েছো ওই ইঞ্চি মেপে চর্বি জমানো নাভির আশেপাশে, খানিকটা হাঘরের মতোই বলা চলে। খুব কানে লাগলো, তাই না? হ্যাঁ, হা-ঘরেই নেশার মতো বার বার কাছে আসতে চাইতে তুমি অমৃতস্বাদের খোঁজে কাছে আসা যাওয়ার মিথ্যে অভ্যাসে ভুলে আমি প্রেমে পড়েছি তোমার বোকার মতো

প্রথম প্রথম আঙ্গুলের ফাঁকে জমে থাকা ঘাম চেটে খাওয়া পোশাকি ভালোবাসায় আমি ভুলেছি, একবার না বারবার, নির্বোধের মতো অপরিণত ভালোলাগা গুলো বুঝতে দেয়নি একদিন ওই হাতের ঘাম মুছতে রুমালও ভিজে যাবে, কিন্তু অন্য কোনও হাত আর এগিয়ে আসবে না ক্রমেই হারিয়ে গেছি আমি ভালোবাসা থেকে এখন আর হাত ধরে বসে রোজকারের ওই প্যানপ্যানানি কথা শুনতে ইচ্ছা হয়না বারে বারে নোংরা ছুকছুকানি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে লোভীর মতো ওঁত পেতে বসে থাকো ওই অনুভুতির জন্যে এখন আর অনুভুতি আসেনা, অভ্যাস হয়ে গেছে কেমন তোমারও আজ কাল আর খিদে মেটে না তৃষ্ণা মেটাতে এখন পুরোটা লাগে মনের সব তৃষ্ণা এখন শরীরে চলে এসেছে

নেশার ঘোরটা বেশিদিন টেকেনি; ভালোলাগা চাওয়া পাওয়া এগুলো আসতে আসতে অভ্যাসে পরিনত হলো। আমি হারিয়ে গেলাম ফোনের টপ কনট্যাক্টস থেকে ইনবক্সের ভেতরে, কষ্ট করে হাতড়াতে হয় শরীর ছুঁতে এই আকুলিটা বিরক্তিকে ডেকে আনতো, কিছুটা অধিকারের জন্ম দিয়েছিলো কুঁচকির আসে পাসে কাজ শেষ, আবার যে কে সেই পাশে বসে থাকা মানুষটার থেকে স্কাইপির মুখগুলো বেশি কাছের মনে হতো কিন্তু বাঁধা একজায়গায়, আমি তোমায় বেসেছি ভালো এই ভালবাসা থেকেই নির্লজ্জের মতো একরাশ উচ্ছ্বাস নিয়ে কথা গুলো দিনের পর দিন ভাঙ্গা টেপের মতো কানের কাছে বলে যেতাম আমি তুমি শুনতে, কিন্তু উত্তর দিতে না অভিব্যক্তিই জানিয়ে দিতো বাকিটা যে ভালোলাগা কে প্রশ্রয় দিয়ে শুরু করেছিলে কাছে আসা, যে আঘাতে করেছিলে ঘায়েল, সেই আঘাত দিয়েই আবার আমায় একলা করলে আঘাত দিয়েই মনের জোড়া,  আঘাতেই ভাঙ্গন; কোনটাতেই আওয়াজ হয়নি, শুধু একটু রক্ত ঝরেছিলো

তখন তুমি বদলে ফেলেছো ফোনের নাম্বারটা এক ছাদের তলায় বহুদিন দেখা হয় নি আর;  ফেসবুকেও ব্রাত্য আমি, পাছে তুমি নাগালে আসো অফিস যাওয়ার রাস্তাটাও গুগুল ম্যাপে খুঁজে পাওয়া যায় না, পাছে আমি পথ আটকাই তোমার কিন্তু আমি ছুটবো কার জন্যে? সেই যে এক অভ্যাস ছেড়ে, অন্য অভ্যাসের খোঁজে? তোমার আমার জীবনের ওই চ্যাপ্টারের পাতা গুলো তো তুমি নিজে হাতে আঠা লাগিয়ে বন্দী করে রেখে গেছো; পাছে কেউ না খুলে দেখে কিন্তু যে অন্ধকার ছেড়ে গেছো, তার দায় কে নেবে?

ধন্যবাদ তবে পাওনা আছে তোমার ওভাবে একলা ফেলে না গেলে আমি জানতামই না যে অন্ধকারে কেউ আমার জন্যে চাঁদ হয়ে বসে আছে আমি তার অভ্যাস নই, আমি তার উপস্থিতি, আমি তার পূর্নতা টিসু পেপারগুলো এখন ডাম্প হয়ে পড়ে আছে, কেজিদরে বেচে দেওয়ার জোগাড় ভালোলাগা গুলো এখন আমার কাছে নতুন করে হাজিরা দিয়ে যায় তোমার কথা আজকাল মনেই পড়ে না নেশার মতো লক লক করে নাভির আসে পাশে যে চর্বি গুলো চেটে বেড়াতে সেগুলোকেও বিদায় দিয়েছি আমি নিয়ম করে জিমে যাই, ঠিক যতটা নিয়ম করে রোজ সকালে স্নানের পর সিঁথিটা  রাঙ্গিয়ে তুলতাম

আমি জানি না তুমি কেমন আছো? নির্ঘাত এদিক অদিক ছুকছুক করে বেড়াচ্ছো নতুন খাবারের নেশায় লেনা দেনার পর যখন আবার নিজের ঘরে ফেরো, ওই বিছিয়ে থাকা জামা কাপড় গুলোকে একটু সরিয়ে নিয়ে ক্লান্ত শরীরটাকে এলিয়ে দাও বিছানায়; আমি জানি তখন তুমি আমায় খোঁজো হুইপ জারি করার মানুষটাই যে আর নেই তবে আমার খোঁজ তুমি রাখো, নাহলে সেদিন রাতে ভুল করে কেউ ফেসবুকে ছবি লাইক করে নাকি…!! আরো অনেক ছবিই দেখেছো, তবে একটায় ভুল করে লাইক পড়ে গেছে; সেটা আমি বুঝি আমি অন্য কারো সাথে ভালো আছি এটা দেখে বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠবে, যদিও খুশি হওয়ার কথা ছিলো সেই আঠা লাগিয়ে আসা পৃষ্ঠাগুলো এখন কেবল ইতিহাস, টানাটানি করলে ছিঁড়ে আসবে হাতে, পাতা উলটোবে না

কে যেনো বলেছিলো, “ মানুষ পেয়ে হারানো বা না পাওয়ার আঘাত সইতে পারে, কিন্তু তার অন্যের হয়ে যাওয়াটা কখনই মেনে নিতে পারে না, কোনও ভাবেই না

না মানুষ বদলায়, না অভ্যেস;  বদলায় শুধু ভালোলাগা আর অভিব্যক্তির ভাষাটুকু পরিনতি তো নিমিত্ত মাত্র



                        ************************************************

Tuesday, 28 March 2017

কিন্তু সেদিন বৃষ্টি আসেনি


তোর মনে পড়ে
সেই যেদিন আমরা প্রথম একসাথে হেঁটেছিলাম,
একলা পড়ে থাকা ওই গাংপাড়টা ধরে;
ঘাটে নামার সিঁড়ির পাসে জমে থাকা ওই স্তূপাকার পচা ফুলগুলো
ড্যাবড্যাব করে সন্দেহের চোখে তাকিয়েছিল আমাদের দিকে,
আমাদের বসতে দেয়নি ওই ঘাটে;
আমি তখন একটু হেসেছিলাম,পাত্তা দিইনি ওই চোখরাঙ্গানিটাকে,
শুধু আলতো জোরে হাতটাকে কাছে টেনে নিয়েছিলাম যাতে ফস্কে না যায়;
তুই সেদিন বুঝেছিলি,
তবুও না বোঝার মুখোসে মুখটাকে কেন জানিনা ঢেকেছিলি,
একবারও খেয়াল করিসনি তোর ওই চোখদুটো আমি চিনি।
হয়তো বুঝে বা না বুঝেই আমরা খুঁজেছি উত্তাপ,
আমিও হাতটা ছাড়িনি আর তুই ও ছাড়াতে চাস্‌নি;
সেদিন আমরা বেরিয়েছিলাম একটু ভিজব বলে,
কিন্তু সেদিন বৃষ্টি আসেনি…
আসেনি সেই বিশ্বাস যা আমায় নগ্ন করবে তোর সামনে , বলাবে সত্যি কথা। 
সেদিন যখন হেঁটে গিয়ে ওই ঝালমুড়িওয়ালার কাছে দাঁড়ালাম
ঠোঙ্গার ওই ফাঁকটা দিয়েও আমি পড়েছিলাম তোর চোখ দুটো
ধরা পড়েগেছিলি সেদিন আমার কাছে;
আমিও কেমন বুঝেও সেদিন বলতে পারিনি তোকে,
হয়তো বৃষ্টির অপেক্ষায় কাটিয়েছিলাম প্রহর;
কিন্তু সেদিন বৃষ্টি আসেনি…
আজও যখন বাড়ি ফেরার পথে একা একা শহরের রাস্তায় ভিজি
তখন আমি ফিরে যাই ওই গাংপাড়ের কাছে
আর মনে হয় চিৎকার করে বলি আমি তোকেই ভালবাসি।
সেই পচা ফুলগুলো আর চোখ রাঙ্গানি দেয়না;
অপেক্ষার অন্ত নেই আমার;
এখনও মনে হয় আমি তো সেই তোকেই চেয়েছিলাম যে বলবে,
“ ধুর পাগলা, আমি আবার অন্য কারও নাকি? আমি তো তোরই,”,
সেই তোকেই চেয়েছিলাম
যে আমার মাথার পিছে আলতো চাঁটি মেরে একটা চুমু খাবে,
যে আমায় বলবে,” ছেড়ে যাস না প্লিস,আমি তোকেই ভালবাসি।“
আমি কিন্তু এখনও সেই তোকেই খুঁজি,
বৃষ্টি ভেজা শহরের অচেনা মোড়ে,পথে ;
আর বারে বারে শুধু ছুটে যাই সেই গাংপাড়ের ঘাটে,
হা হুতাশ করিনা আমি,শুধু একটাই আফসোস রয়ে যায়
“ইসস্‌ , যদি সেদিন বৃষ্টি আসতো...”

শেষের শেষ

আমি হেরে যাই… বারবার হেরে যাই আমার ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে। শীতের শুকনো পাতার মতো ঝরে পড়ে  মিশে যাই মাটির সাথে,  ভালো লাগে নত হতে ভালোবাসা...