Sunday, 15 July 2018

স্বপ্নের উড়ান




এখন আমার এসি ছাড়া ঘুম হয় না। অফিসে সারাদিন এসিতে থাকার পর অপেক্ষায় থাকি কখন বাড়ি ফিরে এসিটা একটু চালাব। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথটাও এসি বাসেই কেটে যায়, বিরক্তির জায়গা শুধু ওই বাসস্টপ থেকে বাড়ির দোরগোড়া অবধি পথটা। কলকাতার প্যাচ প্যাচে গরম নিয়ে হাজার অভিযোগ জমা হয় ওই পাঁচ-দশ মিনিটের হাঁটা পথটায়। এক নিশ্বাসে উগরে দি বাড়ি ঢুকেই। স্বভাবের দোষে এখন আর নন এসি বাসে যাতায়াত করতেও পারি না। সেদিন বাড়ি ফিরে নিত্যদিনের অভ্যেস মতোই ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পরে, স্নান সেরে যখন এসিতে ঢুকলাম, মনে হল যেন দুনিয়ার সকল সুখ ওখানেই আছে। জলদি খেয়ে দেয়ে নিয়ে বিছানায় শুধু গড়িয়েছি মিনিট দশ পনেরো হলো, অমনি টুক করে কারেন্ট অফ। মনে হল যেন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। উগরে দেওয়া ক্ষোভ যেন নতুন করে জন্ম নিল আবার, মুখ দিয়ে স্বতোতসারিত ভাবে বেরিয়ে এলো, “ধুর শালা, এখনই যেতে হল…!! এবার আমি ঘুমাবো কি করে?” মানুষ এভাবেই অভ্যাসের দাস হয়ে যায়। সেদিন আর ঘুম হয়নি, রাত তিনটে অবধি জেগে থেকে কারেন্ট আসার অপেক্ষা করেছি। কিন্তু কারেন্ট না আসায় আর ঘুম হয়নি। কিন্তু ওই ছেলেটা এভাবেই ঘুমিয়েছে দিনের পর দিন, কেউ জানতেও চায় নি তার কষ্টের কথা। খাওয়া দাওয়া নিয়ে আমার নাক উঁচু তেমন ছিল না কিন্তু দুধ খাওয়া নিয়ে উদয়াস্ত এক চোট পর্ব চলত। আমিও খাব না, আর বাড়ির লোকেও ছাড়বে না। অর্ধেক দিন লুকিয়ে লুকিয়ে জানলা দিয়ে কত যে দুধ ফেলেছি তার হিসাব দিলে কয়েক হাজার টাকা হয়ে যাবে।বাবা মা বার বার জানতে চেয়েছে আমি দুধ খেয়েছি কিনা কিন্তু কেউ কখনো জানতে ছায়নি 'ওই' ছেলেটা কি খেয়েছে।

Sunday, 24 June 2018

অন্য স্বপ্ন






মুখটা ঘুরিয়ে যেই না পিছনে দেখতে গেছি, একটা বড় বরফের বল এসে মুখে লাগলো পিছন ফিরে দেখি ঈশিতা মুচকি মুচকি হাসছে, বুঝেই গেলাম এই কম্মটি ওরই। আমিও আর বাদ যাবো কেন, আমিও একতাল বরফ তুলে গোল্লা পাকিয়ে ছুঁড়লাম। এভাবেই বরফ ছোঁড়াছুঁড়ি, তার পর সাদা বরফে গড়াগড়ি; স্নো-ম্যান বানানো, তাকে চশমা পরিয়ে কত ছবি তুলছি। হঠাত ঈশিতা বললো, “তুমি কিছু বুঝতে পারলে?” আমি কিছুটা বিস্মিত হয়ে বললাম, “কই কিছু না তোকেন? কি হল?” ঈশিতা কেমন একটা ভয়ে পেয়ে বললো, “ না কিছু না।” আমরা দমলাম না, বরফ নিয়ে খেলেই যাচ্ছি; কলকাতার দাবদাহ থেকে মুক্তি কিছু দিনের। তারিয়ে তারিয়ে উপোভোগ করছি। একটা সেলফি তুলতে যাবো হঠাত করে দেখি পায়ের তলাটা কেমন কাঁপছে। অ্যাভালান্স আসছে ভেবে আমি আর ঈশিতা প্রায় প্রানপনে দৌড় শুরু করছি, হঠাত করেই একটা তীব্র আওয়াজ পেলাম, “ কিরে আর কতক্ষন ঘুমাবি, অফিস থেকে তো বের করে দেবে লেট করে গেলে...” ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। দেখলাম মা ডাকছে, ওটা স্বপ্ন ছিল। মা বার বার ধাক্কা দিচ্ছিল বলে ওরম ভূমিকম্পের ফিল হচ্ছিল। ঘুম ভেঙ্গে এক লহমায় নেমে এলাম বরফের আচ্ছাদন থেকে কাঠফাটা রোদের মধ্যে। অফিস যেতে হবে, তাই আর বেশি ভাবা হয়নি। ধুর, মা আসল মজাটাই ঘেঁটে দিল।

Sunday, 17 June 2018

হ্যাঁ, আমিই DSLR





মহাভারতের যুগে দ্রৌপদী আর এখনের কালে ডি-এসেলার, এই দুটোর আর কোন মান ইজ্জত রইলো না। তখন দুঃশাসন আর এখন ইজি ইনস্টলমেন্টের অপশাষন, এই নিয়েই প্রায় ছারখার হয়ে গেল। ছিঃ ছিঃ ছিঃ, কোন ইজ্জত রাখল না আর। ওভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকার কিছু নেই, আমিই সে; ডিজিটাল সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্টার। ওহ বাবা, পুরো নামটাও জানে না অনেকে, আরে মশাই আমিই ডি-এসেলার। পার্কে, দোকানে, পুজোর আসনে, ঠাকুর ভাসানে, বিয়ের পিঁড়িতে, প্রেমের সিঁড়িতে সব জায়গায় আমায় পাওয়া যাবে। কালো হলুদ, লাল কালো আরো বেশ কিছু রঙ বদলের খেলায় আমায় পাবেন নতুন নতুন নম্বরে।

শেষের শেষ

আমি হেরে যাই… বারবার হেরে যাই আমার ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে। শীতের শুকনো পাতার মতো ঝরে পড়ে  মিশে যাই মাটির সাথে,  ভালো লাগে নত হতে ভালোবাসা...