মুখটা
ঘুরিয়ে যেই না পিছনে দেখতে গেছি, একটা
বড় বরফের বল এসে মুখে লাগলো। পিছন
ফিরে দেখি ঈশিতা মুচকি মুচকি হাসছে, বুঝেই গেলাম এই কম্মটি ওরই। আমিও আর বাদ যাবো
কেন, আমিও একতাল বরফ তুলে গোল্লা পাকিয়ে ছুঁড়লাম। এভাবেই বরফ ছোঁড়াছুঁড়ি, তার পর
সাদা বরফে গড়াগড়ি; স্নো-ম্যান বানানো, তাকে চশমা পরিয়ে কত ছবি তুলছি। হঠাত ঈশিতা
বললো, “তুমি কিছু বুঝতে পারলে?” আমি কিছুটা বিস্মিত হয়ে বললাম, “কই কিছু না তো।
কেন? কি হল?” ঈশিতা কেমন একটা ভয়ে পেয়ে বললো, “ না কিছু
না।” আমরা দমলাম না, বরফ নিয়ে খেলেই যাচ্ছি; কলকাতার দাবদাহ থেকে মুক্তি কিছু
দিনের। তারিয়ে তারিয়ে উপোভোগ করছি। একটা সেলফি তুলতে যাবো হঠাত করে দেখি পায়ের
তলাটা কেমন কাঁপছে। অ্যাভালান্স আসছে ভেবে আমি আর ঈশিতা প্রায় প্রানপনে দৌড় শুরু
করছি, হঠাত করেই একটা তীব্র আওয়াজ পেলাম, “ কিরে আর কতক্ষন ঘুমাবি, অফিস থেকে তো বের
করে দেবে লেট করে গেলে...” ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। দেখলাম মা ডাকছে, ওটা স্বপ্ন ছিল। মা
বার বার ধাক্কা দিচ্ছিল বলে ওরম ভূমিকম্পের ফিল হচ্ছিল। ঘুম ভেঙ্গে এক লহমায় নেমে
এলাম বরফের আচ্ছাদন থেকে কাঠফাটা রোদের মধ্যে। অফিস যেতে হবে, তাই আর বেশি ভাবা
হয়নি। ধুর, মা আসল মজাটাই ঘেঁটে দিল।
Sunday, 24 June 2018
Sunday, 17 June 2018
হ্যাঁ, আমিই DSLR
মহাভারতের যুগে দ্রৌপদী আর এখনের কালে ডি-এসেলার, এই দুটোর
আর কোন মান ইজ্জত রইলো না। তখন দুঃশাসন আর এখন ইজি ইনস্টলমেন্টের অপশাষন, এই নিয়েই
প্রায় ছারখার হয়ে গেল। ছিঃ ছিঃ ছিঃ, কোন ইজ্জত রাখল না আর। ওভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে
থাকার কিছু নেই, আমিই সে; ডিজিটাল সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্টার। ওহ বাবা, পুরো নামটাও
জানে না অনেকে, আরে মশাই আমিই ডি-এসেলার। পার্কে, দোকানে, পুজোর আসনে, ঠাকুর ভাসানে,
বিয়ের পিঁড়িতে, প্রেমের সিঁড়িতে সব জায়গায় আমায় পাওয়া যাবে। কালো হলুদ, লাল কালো আরো
বেশ কিছু রঙ বদলের খেলায় আমায় পাবেন নতুন নতুন নম্বরে।
Monday, 28 May 2018
আর মাত্র মিনিট তিনেক
২৫শে মে,২০১৪।
ভারতীয় সময় রাত প্রায় দুটো কি সওয়া দুটো। টিমটিম করে জ্বলতে থাকা টিভির আলোতে উদ্ভাসিত ঘরটা
থেকে হঠাত বিকট আওয়াজ। গোওওওওওওওওওওওওললললললললল...............
প্রায় চার বছর আগের কথা, সেবার বিশ্বকাপের বছর,২০১৪। তাই ফুটবল
মরশুম একটু আগে আগেই শেষ হওয়ার কথা। জুন থেকেই চলবে একমাস ব্যাপি ফুটবল জ্বর আর আগে
আর পরের এক মাস ব্যাপি সেই দেশগুলো নিয়ে চর্চা। ফুটবল নিয়ে কলকাতার অবস্থান নতুন করে
বলে বোঝাতে হয় না। দেওয়াল লিখনের সঙ্গে সঙ্গে এই একমাস যাবত আকাশ পর্যন্ত দেখা যায়
না লম্বা লম্বা সামিয়ানার মত ফ্ল্যাগের আড়ালে। বড় বাজারের ত্রিপল পট্টির এই কদিন বেশ
ভালোই ব্যবসা হয়। মানে এমনি বছরের
তুলনায় বেশ ভালোই আর কি। কোথাও সবুজ হলুদ, কোথাও নীল সাদা(যদিও সেটা এখন আর আলাদা করে
বোঝা যায় না), কোথাও আবার হলুদ, লাল আর কালো; মাঝে মাঝে কিছু সবুজ মেরুনও চোখে পড়ে।
এই হলো কলকাতার রঙ। ফুটবল, রসগোল্লা, মিস্টি দই, তেলেভাজা মুড়ি, পলিটিক্স আর গান, এই
নিয়েই কলকাতা আছে নিজের মতো, সবার থেকে আলাদা হয়ে। এখানে মোহনবাগান পাবেন, ইস্টবেঙ্গল
পাবেন, মহামেডান পাবেন। পাবেন ম্যানচেস্টার, লিভারপুল, আর্সেনাল, বার্সেলোনা, রিয়েল
মাদ্রিদ আরো কত কি। যদিও হাল আমলের সাথে পা মেলাতে গিয়ে, “আমি কলকাতার ফুটবল পছন্দ
করি না। আমার পছন্দ অমুক দেশের তমুক টিম” এসব বলার চল বেড়েছে, তবুও কলকাতা থেকে সেই
খাস ময়দানি ফুটবলের আমেজটা এখনো রয়ে গেছে। শুধু জার্সির রংটা বদলেছে।
Subscribe to:
Posts (Atom)
শেষের শেষ
আমি হেরে যাই… বারবার হেরে যাই আমার ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে। শীতের শুকনো পাতার মতো ঝরে পড়ে মিশে যাই মাটির সাথে, ভালো লাগে নত হতে ভালোবাসা...